১৯ নভেম্বর ২০১৮
ইন্দো-বাংলা ফার্মা আইপিও লটারির ফল

মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানির বেশির ভাগ ‘জেড’ শ্রেণীর

-

আবার শুরু হয়েছে পুঁজিবাজারে মৌলভিত্তিহীন ‘জেড’ শ্রেণীর কোম্পানিগুলোর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সাময়িকভাবে এ ধরনের কোম্পানিগুলোর অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি থামালেও গতকাল এ প্রবণতা আবার দেখা যায়। বিশেষ করে পুঁজিবাজারের নেতিবাচক প্রবণতার সুযোগ নিয়ে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে এ ধরনের কোম্পানির। গতকাল দুই বাজারেই মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয় ‘জেড’ শ্রেণী। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ দশ কোম্পানির ৭টিই ছিল ‘জেড’ শ্রেণীতে লেনদেন হওয়া কোম্পানি।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রজত জয়ন্তী নিয়ে বিএসইসি ব্যস্ত সময় পার করায় বাজার মনিটরিংয়ে সময় দিতে পারবে না এ ধারণা থেকেই এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারীরা এ অযৌক্তিক খেলায় মেতেছে। তারা এক্ষেত্রে বিএসইসি ও ডিএসইর নমনীয় মনোভাবকেও এজন্য দায়ী করেন। কারণ দিনের পর দিন পুঁজিবাজারগুলোতে এ ধরনের প্রবণতা চলতে থাকলেও দু’টি কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করা ছাড়া এর জন্য দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য জানতে চেয়েই ডিএসই তার কর্তব্য শেষ করে। অথচ এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার পরও থামেনা কোম্পানিগুলোর অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি।
গতকাল সূচকের উন্নতি দিয়ে দিন শুরু করলেও লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে সৃষ্ট বিক্রয়চাপ বাজারের গতি বদলে দেয়। দিনের শুরুতে ও লেনদেনের মাঝামাঝি সময় দুইবার বাজার সূচক ঊর্ধ্বমুখী হলেও প্রতিবারই বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে। দিনশেষে উভয় বাজারেই লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগ দরপতনের পাশাপাশি বড় রকম অবনতি ঘটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন।
দুই পুঁজিবাজারেই গতকাল সূচকের মিশ্র প্রবণতা দেখা যায়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৩ দশমিক ৮২ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখলেও ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ২ দশমিক ৬৩ ও দশমিক ৫৬ পয়েন্ট। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসইসিএক্স সূচক যথাক্রমে ১ দশমিক ৭৮ ও ১ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট হারায়। তবে সিএসই ৫০ সূচক দশমিক ৪৭ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে।
সূচকের মিশ্র প্রবণতা লেনদেনেও অবনতি ঘটায় ডিএসইর। দেশের প্রধান এ পুঁজবাজারটিতে গতকাল ৭১৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে যা আগের দিন অপেক্ষা ২৫১ কোটি টাকা কম। সোমবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৯৬৫ কোটি টাকা। তবে একই সময় ২ কোটি টাকা বেড়েছে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের লেনদেন। গতকাল বাজারটিতে ৪৪ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় যা আগের দিন ছিল ৪২ কোটি টাকা।
এ দিকে পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের আইপিও লটারির ফল প্রকাশ হয়েছে গতকাল। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় এ ড্র অনুষ্ঠিত হয়। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতের এ কোম্পানির আইপিও আবেদন গত ৯ আগস্ট শুরু হয়, যা শেষ হয় ১৬ আগস্ট। গত ১৬ জুলাই আইপিওর সম্মতিপত্র পায় কোম্পানিটি। এর আগে উচ্চ আদালত কোম্পানিটির আইপিও স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের সাথে কোম্পানির ঋণ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের পর এই সম্মতিপত্র পায় কোম্পানিটি। জানা যায়, কোম্পানিটির চারজন পরিচালক ঋণ খেলাপি হওয়ায় ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষ থেকে বরিশালের অর্থ ঋণ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এতে কোম্পানির আইপিও আবেদনে ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছিল। এর আগে গত বছরের ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৬১৩তম কমিশন সভায় কোম্পানিটিকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া হয়।
ইন্দো-বাংলা ফার্মা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। এ জন্য কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ কোটি শেয়ার ছাড়ে। উত্তোলিত টাকা অবকাঠামো নির্মাণ, মেশিনারিজ ক্রয় এবং আইপিও সংক্রান্ত খাতে ব্যয় করবে।
কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে এএফসি ক্যাপিট্যাল, ইবিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেড।
মঙ্গলবার সূচকের উন্নতি দিয়ে দিন শুরু করে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচকটি ৫ হাজার ৫৪০ দশমিক ১১ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করে বেলা ১১টায় পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৫৬৭ পয়েন্টে। সূচকের এ অবস্থান থেকে বিক্রয়চাপ শুরু হলে বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএসই সূচক নেমে আসে ৫ হাজার ৫৪৪ পয়েন্টে। তবে প্রথমবারের এ চাপ সামলে বেলা ১২টার দিকে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার সূচক। বেলা পৌনে ১টায় সূচকটি আবার ৫ হাজার ৫৬৭ পয়েন্টে পৌঁছে। লেনদেনের এ পর্যারেয় দ্বিতীয়বারের মতো বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হয় যা অব্যাহত থাকে দিনের শেষ পর্যন্ত। দিনশেষে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের মাত্র সামান্যই ধরে রাখতে সক্ষম হয় ডিএসই।
অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালসকে পেছনে ফেলে গতকাল আবারো ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি। ৬০ কোটি ৮২ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৫৭ লাখ ৭৭ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ৫১ কোটি ১৬ লাখ টাকায় ১ কোটি ১৬ লাখ ৪১ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস নেমে আসে দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে বিবিএস ক্যাবলস, ইফাদ অটোস, কনফিডেন্স সিমেন্ট, ন্যাশনাল হাউজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স, বিএসআরএম লিমিটেড, শাশা ডেনিমস, ইউনাইটড পাওয়ার ও আরএসআরএম স্টিলস।

 


আরো সংবাদ