১৭ নভেম্বর ২০১৮

পুঁজিবাজারে লেনদেনের উন্নতি হলেও পতন থামছেনা

-

পুঁজিবাজারে লেনদেনে উন্নতির ধারাবাহিকতা রক্ষা হলেও অব্যাহত রয়েছে সূচকের পতন। গত সাতটি কর্মদিবসের ছয়টিতেই সূচক হারায় দেশের দুই পুঁজিবাজার। অথচ এ সময় বাজারগুলোতে কমবেশি উন্নতি ঘটে লেনদেনের। বাজার সংশ্লিষ্টরা পুঁজিবাজারের এ আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে নেয়ার পাশাপািশ সূচকের পতনকে সংশোধন বলেই মনে করছেন। তাদের মতে, একই সময় লেনদেনের উন্নতি বাজারের জন্য ইতিবাচক। কারণ এতে বাজারের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি প্রমাণ করে যা যেকোনো সময়েই সূচকের উন্নতি ঘটাতে পারে।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৯ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ৫ হাজার ৫৪৯ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি সোমবার দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৫৪০ দশমিক ১১ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ৬ দশমিক ৩১ ও ৩ দশমিক ৯২ পয়েন্ট।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ২০ দশমিক ৮২ ও ১০ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ৪ দশমিক ৫২ ও ১ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট।
সূচকের পতন ঘটলেও গতকালও লেনদেন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল ডিএসইর। গতকাল ৯৬৫ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে পুঁজিবাজারটি যা আগের দিন অপেক্ষা ৬৫ কোটি টাকা বেশি। রোববার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৯০০ কোটি টাকা। প্রথম এক ঘণ্টায় ডিএসইতে মোট ৩১৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হতে দেখা গেলেও পরবর্তীতে বাজারে নেতিবাচক আচরণ তৈরি হলে লেনদেনের গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। এতে চার ঘণ্টায় লেনদেন হাজার কোটিও পার করতে পারেনি দেশের প্রধান পুঁজিবাজারটি। তবে একই সময় লেনদেন কমেছে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে। ৬১ কোটি টাকা থেকে ৪২ কোটিতে নেমে আসে সিএসইর লেনদেন।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সূচকের হ্রাসবৃদ্ধি পুঁজিবাজারের জন্য একটি স্বাভাবিক ঘটনা। অতীতে সূচকের পতনের দ্রুত প্রভাব পড়ত বাজারের লেনদেনে। কিন্তু সাম্প্রতি তার ব্যতিক্রম ঘটছে। সূচকের টানা অবনতি সত্ত্বেও তার প্রভাব নেই লেনদেনে বরং এ সময় লেনদেনের যথেষ্ট উন্নতি ঘটছে। আর লেনদেনের উন্নতি বাজারের জন্য ইতিবাচক। কারণ এটি বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও সক্রিয়তা প্রমাণ করে। আর বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে সূচকের উন্নতি সময়ের ব্যাপারমাত্র। বাজারের চলমান সংশোধনী শেষ করে স্বাভাবিকভাবেই উন্নতি ঘটবে সূচকের।
বরাবরের মতো সোমবারও সূচকের উন্নতি দিয়েই দিন শুরু করে দুই পুঁজিবাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকটি ৫ হাজার ৫৪৯ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করে বেলা ১১টায় পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৫৭৩ পয়েন্টে। সূচকের এ অবস্থান থেকে প্রথমবারের মতো বিক্রয়চাপ শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএসই সূচক নেমে আসে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে। তবে প্রথমবারের এ চাপ দ্রুতই সামলে নেয় বাজারটি। ১২টায় ডিএসই সূচক ফের ৫ হাজার ৫৭২ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। কিন্তু লেনদেনের এ পর্যায়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হয় যা অব্যাহত থাকে লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত। এতে দিনশেষে সূচকের ১০ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট অবনতি ঘটে।
বেশির ভাগ খাতে মিশ্র প্রবণতা থাকলেও গতকাল ব্যাংকসহ আর্থিক খাতগুলো দরপতনের শিকার হয় যা দিনের সূচককে প্রভাবিত করে। ব্যাংকিং খাতে দরপতন ঘটে প্রায় ৮০ শতাংশ কোম্পানির। তবে একই সময় অন্য খাতগুলোর বেশ কিছু কোম্পানি আগের দিনের হারানো দর ফিরে পায়। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০৬টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে ১৭৭টি দর হারায় এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৬টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৩৭টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৭৯টির দাম বাড়ে, ১৩৪টির কমে এবং ২৪টি সিকিউরিটিজের দাম অপরিবর্তিত থাকে।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস। ৭৮ কোটি ১২ লাখ টাকায় কোম্পানিটির এক কোটি ৭৬ লাখ ৭৬ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ৫৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকায় ৫৫ কোটি ২০ লাখ শেয়ার বেচাকেনা করে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে বিবিএস ক্যাবলস, শাশা ডেনিমস, সামিট পাওয়ার, ইফাদ অটোস, সাইফ পাওয়ারটেক, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, কনফিডেন্স সিমেন্ট ও ফরচুন স্যুজ।
দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে শাশা ডেনিমস ৯.৮৯, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ৯.১৫, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস ৮.৭২, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স ৭.৬২, তিতাস গ্যাস ৭.২৬, গোল্ডেন হারভেস্ট ৬.৭৫ ও বিবিএস ক্যাবলসের ৬.৬৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।
অপর দিকে দিনের সর্বোচ্চ দর হারায় হোটেল পেনিনসুলা। ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। এ ছাড়া ন্যাশনাল হাউজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স ৮.৩১, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স ৭.৬৯, মিথুন নিটিং ৭.৬৯, হাক্বানি পেপার অ্যান্ড পাল্প ৬.৩৭ ও পিপলস লিজিং ৫.৯৭ শতাংশ দর হারায়।

 


আরো সংবাদ