২১ জানুয়ারি ২০২০

উপজেলা চেয়ারম্যানের বাবা স্বাধীনতা বিরোধী, অনুষ্ঠান বর্জন আ’লীগের একাংশের

-

বরগুনার পাথরঘাটায় মহান বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ। উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবিবের বাবা আজহার ডাক্তারকে স্বাধীনতা বিরোধী এমন অভিযোগে তারা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বর্জন করে পৃথকভাবে দিবসটি পালন করে।

পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ না করে তারা পৃথকভাবে দিবসটি পালন করে। সকাল সাড়ে ৬ টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আনুষ্ঠানিক পুষ্পার্ঘ অর্পণ, শহরে বিজয় র‌্যা্লি, আনুষ্ঠানিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সরকারি কেএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কুচকাওয়াজ, শিশুদের ডিসপ্লে ও বেলা ১১ টায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেননি তারা।

উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাবির হোসেনের নেতৃত্বে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মো. রফিকুল ইসলাম রিপন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হোসাইন সহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিত্বে পৃথকভাবে পুস্পার্ঘ অপর্ণ করেন। এর আগে তারা দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তেলন করেন।

উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবিরের বাবা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর সহায়তাকারি ছিলেন। তাই তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন বা প্যারেড গ্রাউন্ডে সালাম নিলে তারা সরকারি সভা বর্জন করতে বাধ্য হবেন। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের একাংশ উপজেলা চেয়ারম্যানের বাবাকে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে উল্লেখ করলেও সদ্য ঘোষিত রাজাকারের তালিকায় নাম নেই আজহার ডাক্তারের। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য কামাল উদ্দিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ও পরবর্তীতে কিছু রাজাকারকে সাধারণ ক্ষমা করা হয়। তাদের মধ্যে আজহার ডাক্তারও ছিলেন। এজন্য রাজাকারের তালিকায় তার নাম নাই।

এদিকে, অনুষ্ঠান চলাকালে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা গোলাম কবির বলেন, সরকারের গেজেটে আমাকে সালাম গ্রহণের দায়িত্ব দিয়েছে। সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আমাকে সমর্থন ও উৎসাহ দিচ্ছে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় প্রশাসনের সাথে এ প্রশ্নে একাধিক নিস্ফল বৈঠক হয়। শহরে উত্তেজনা দেখা দিলে জেলা থেকে এনে রিজার্ভ ফোর্স ও সাদা পোশাকের বাহিনী নিয়োগ করা হয়। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হুমাউন কবির বলেন, সরকারের গেজেট অনুসারে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিক সালাম গ্রহণ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা,শহিদ পরিবার, আওয়ামী লীগনেতা মো. সিদ্দিকুর রহমান, পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন আকন, সাবেক সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সোহাগ সহ স্থানীয় আ.লীগের আরেকাংশ উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ




krunker gebze evden eve nakliyat