২১ জানুয়ারি ২০২০

ছোট্ট সানাউলের বড় কষ্ট

দুই মাসের সানাউলের শরীরে তিন কেজি ওজনের টিউমার - ছবি : নয়া দিগন্ত

কোমড়ে বিশাল আকৃতির টিউমার নিয়ে বড় কষ্টে আছে দুই মাসের শিশু সানাউল। ব্যথায় ছটফট করছে শিশুটি। শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

কিন্তু টাকার অভাবে দরিদ্র বাবা রিয়াজ শরীফের পক্ষে চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন শিশুটির বাবা রিয়াজ শরীফ ও মা শাহনাজ আক্তার।

বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের মনশাতলী গ্রামের রিয়াজ শরীফের স্ত্রী শাহানাজ আক্তার গত ২ অক্টোবর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে জন্ম দেন ফুটফুটে এক শিশুসন্তান। নাম রাখা হয় সানাউল শরীফ। শিশু সানাউল জন্ম নেয়ার পরেই ওই দম্পতির আনন্দের পরিবর্তে নেমে আসে অন্ধকার। জন্মগতভাবেই শিশুটির কোমড়ে একটি টিউমার দেখা যায়। প্রথমে কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা টিউমার দেখে শিশুটির চিকিৎসায় অপরগতা প্রকাশ করেন। তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়।

চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ৮ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা টিউমারটি অপারেশনের পরামর্শ দেন। এ জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানান ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা। টাকার অভাবে চিকিৎসা না করিয়ে দুইদিন পরে ওই হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন তারা।

গত দুই মাসে টিউমারটি বড় হয়ে তিন কেজি ওজনের আকার ধারণ করেছে। টিউমারের উপরে দগদগে লালচে আকার ধারণ করেছে। এর যন্ত্রণায় শিশুটি ছটফট করছে।

বাবা রিয়াজ শরীফ দিনমজুর। মা শাহানাজ আক্তার অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। সহায়-সম্বল বলতে ওই দম্পতির বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। শিশুটিকে বাঁচাতে হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন শিশুটির চিকিৎসা করাতে প্রায় তিন লাভ টাকার দরকার। কিন্তু দরিদ্র বাবার পক্ষে এতো টাকা খরচ করে শিশুটির চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়।

চিকিৎসার টাকার জন্য ওই দম্পতি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তিন লাখ টাকা হলে দরিদ্র বাবার ওই শিশুটি বেঁচে যেতে পারে। তাই শিশুরটিকে বাঁচানোর জন্য তার বাবা ও মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। সহযোগিতা পাঠানোর বিকাশ নম্বর- (০১৭৭৫৩৬১৯৩৩)।

শিশু সানাউলের মা শাহনাজ বেগম কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, ‘মোর একটা মাত্র পোলা। পোলাডা টিউমার নিয়া জন্ম নেছে। মোর কোন টাহা নাই, কিদ্দা মুই মোর পোলাডারে ডাক্তার দ্যাহামু। আপনেরা মোর পেলাডারে বাঁচান। সারা দিন মোর পোলাডায় কান্দে। মুই সহ্য হরতে পারিনা।’

শিশু সানাউলের বাবা রিয়াজ শরীফ বলেন, ‘শিশুটি জন্মগতভাবেই টিউমারটি হয়। টিউমারটি দিন দিন বড় হচ্ছে। টাকার অভাবে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে নিয়েও ফিরে এসেছি। চিকিৎসকরা বলেছে, প্রায় তিন লাখ টাকার প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের সহযোগিতায় আমার ছেলের জীবন বেঁচে যেতে পারে।’


আরো সংবাদ