১৯ নভেম্বর ২০১৯

বই নিয়েই চলছে পরীক্ষা

বই খুলে রেখেই লিখা হচ্ছে উত্তরপত্র - ছবি : নয়া দিগন্ত

পরীক্ষার্থীদের হাতে হাতে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট ফোন। কারো সামনে বইয়ের ছেঁড়া পাতা। কারো সামনে পুরো বই খোলা। তা থেকে দেখে দেখে লেখা হচ্ছে উত্তর।

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের নয়াখালী মোসলেম মাটিভাংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণীর চলমান এসএসসি টেস্ট (গণিত) পরীক্ষায় আজ শনিবার এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ বিদ্যালয়ে ৩২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায় দুটি কক্ষে পরীক্ষা চলছে এবং পরীক্ষার্থীরা অবাধে বইয়ের পাতা বেঞ্চের ওপর রেখে তা দেখে দেখে উত্তরপত্রে লিখছে। আবার, কেউ কেউ পুরো গণিতের গাইড বইটাই বেঞ্চের ওপর রেখে উত্তরপত্রে লিখছে। আবার একজন শিক্ষার্থীর খাতা দেখে পিছনে ও সামনে থাকা কয়েকজন পরীক্ষার্থী দেখে দেখে লিখছে।

এ সময় ছবি তুলতে দেখে কয়েক পরীক্ষার্থী হল থেকে দ্রুত বের হয়ে যায়। কিন্তু ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নকলের এমন মহোৎসব প্রতিরোধে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি বরং শিক্ষার্থীদের এসব অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষককে পরীক্ষার কক্ষ ছেড়ে বিদ্যালয়ের বারান্দায় হাঁটতে দেখা গেছে।

বিদ্যালয়ের পরীক্ষার কক্ষে এ প্রতিবেদককে ঢুকতে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে তেড়ে আসেন প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক। তারা এ প্রতিবেদককে পরীক্ষা কেন্দ্রের কক্ষ থেকে বের হতে অনুরোধ করেন এবং বলেন, আসুন অফিস কক্ষে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম এসএসসির টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশ করিয়ে দেয়ার কথা বলে ছয় হাজার টাকা করে চুক্তি করেছেন পরীক্ষার্থীদের সাথে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করলেও শিক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষা দেয়ার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: জহিরুল ইসলাম বলেন, এসএসসির টেস্ট পরীক্ষা হতে হবে স্বচ্ছ এবং নকলমুক্ত। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অসদোপায় অবলম্বনের অভিযোগ থাকে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে উপরস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপরিশ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নাজমুল আলম বলেন, এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নষ্ট হবে। ঘটনাটি তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ