২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পরিত্যক্ত বাড়ীতে ডেকে নিয়ে ৩ স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা

বরগুনার বামনা উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অস্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া তিন ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দুই স্কুল শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উত্তর রামনা গ্রামের খলিলুর রহমান খানের ছেলে ও রামনা শের-ই বাংলা সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মিলন খান (১৬) এবং একই গ্রামে খালেক হাওলাদারের ছেলে ও হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম (ভোকেশনাল) শ্রেণির ছাত্র সুজন হাওলাদার (১৬)। এঘটনায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বামনা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার সকাল নয়টা দিকে উপজেলার রামনা লঞ্চঘাট এলাকার সিকদার বাড়ীর একটি পরিত্যক্ত বাড়ীতে একই বিদ্যালয়ের তিন স্কুল ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে আটকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই দুই স্কুল ছাত্র ।

স্কুল ছাত্রীরা জানায়, তারা তিনজনে মিলে গোপনে একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো। এ ঘটনাটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মিলন খান জানতে পারে। পরে বিষয়টি মিলন খান তার বন্ধু সুজন হাওলাদারকে জানায়। তারা গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় ছুটির পরে ওই ছাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। ওই ফোনটি ফিরে পেতে মিলন ও তার সহযোগী সুজন ছাত্রীদের কাছে এক হাজার টাকা দাবী করেন।

ছাত্রীরা ওই টাকা দিতে রাজি হলে তাদেরকে টাকা নিয়ে রামনা লঞ্চঘাট এলাকার সিকদার বাড়ীর একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে আসতে বলে। ছাত্রীরা তাদের মোবাইল ফোন ফেরত পেতে শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেখানে যায়। সেখানে ওৎ পেতে থাকা মিলন ও সুজন তাদের কাছ থেকে দাবীকৃত টাকা নিয়ে তাদেরকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ছাত্রীরা সংখ্যায় তিনজন হওয়ায় তারা ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হন।

ছাত্রীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, ওরা ধর্ষণ করতে না পারলেও আমাদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় ও তাদের ফোন দিয়ে কয়েকটি ছবি তোলে। এই ঘটনাটি কাউকে জানালে ওই ছবি বিকৃত করে ইন্টারনেটে প্রকাশ দেওয়া হুমকিও দেয় বখাটেরা। পরে আমরা সেখান থেকে পালিয়ে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের কাজে বিষয়টি জানাই।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম জানায়, তিনি বিদ্যালয়ে আসলে তিন শিক্ষার্থী এসে তার পা ধরে কান্নাকাটি করে। পরে তাদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে ঘটনার সাথে জড়িত দশম শ্রেণির ছাত্র মিলন খানকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে আটক করে এবং বামনা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

বামনা থানা পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত ওই স্কুল ছাত্র মিলন খানকে বিদ্যালয় থেকে গ্রেফতার করে। অপর অভিযুক্ত সুজন হাওলাদার পালিয়ে যাওয়ার সময় রামনা খেয়াঘাট থেকে স্থানীয় এলাকাবাসীরা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

বামনা থানার অফিসার ইন চার্জ এসএম মাসুদুজ্জামান বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে পুলিশ তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্রীদের পক্ষ থেকে মামলা নিয়ে গ্রেফতারকৃতদের জেল হাজতে পাঠানো হবে।


আরো সংবাদ