২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসির উত্তরপত্র জালিয়াতির নেপথ্যে

বরিশাল শিক্ষাবোর্ড - ফাইল ছবি

বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে উত্তরপত্র জালিয়াতি করে জিপিএ-৫ পাইয়ে দেয়া বাণিজ্যের সাথে শুধু একজন কর্মচারীই নয়, কর্মকর্তারা, এমনকি কয়েকজন পরীক্ষক জড়িত রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। জালিয়াতি ঘটনায় শিক্ষাবোর্ড তিন সদস্যর একটি কমিটি গঠন করলেও ওই কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ অভ্যন্তরীন তদন্ত কমিটি দিয়ে আসল ঘটনা উদঘাটন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

সুত্র বলছে, শুধুমাত্র রেকর্ড সাপ্লায়ার গোবিন্দ’কে সাময়িক বরখাস্ত করে তার উপর দোষ চাপিয়ে জড়িত অন্যান্যদের বাঁচিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান বলেছেন, যারা এই জালিয়াতির সাথে জড়িত তারা কেউ পার পাবে না।

এদিকে গত মঙ্গলবার জালিয়াতির ঘটনায় একটি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত রোববার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল আঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনকে। সদস্য হলেন শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মোঃ লিয়াকত হোসেন সিকদার এবং বিদ্যালয় পরিদর্শক অব্বাস উদ্দীন । আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার জন্য কমিটিকে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান প্রফেসর মোয়াজেম হোসেন বলেন, রোববার বিকেলে একটি চিঠি পেয়েছি। তাতে কি লেখা আছে আমি ভালভাবে দেখিনি শুনেছি শিক্ষাবোর্ডে কোন একটি বিষয় নিয়ে আমাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করেছে। চিঠিতে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তদন্ত করা বোধ হয় সম্ভব হবে না। কারণ আমাদেরতো আরো অনেক কাজ আছে। অরো সময় নিতে হবে।

এদিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে উত্তরপত্র জালিয়াতির ঘটনা নতুন নয়। গত দশ বছরের বেশি সময় ধরে জিপিএ-৫, এমনকি ফেল করাদের পাস করিয়ে দেয়া হচ্ছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে। এর সাথে শুধু কর্মচারীই নয়, দুই/একজন কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন। একই দপ্তরে দীর্ঘ বছর থাকার কারণে খুব সহজেই তারা এ কাজটি করছেন। এর সাথে অনেক পরীক্ষাকরাও জড়িত আছেন। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় ১৮ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র জালিয়াতি ধরা পড়েছে, ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকায় অফিস সহকারিগোবিন্দ চন্দ্র পালকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত অন্যরা এখনোধরাছোয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। কারণ এক ব্যক্তির পক্ষে কখনোই এভাবে বছরের পর বছর জালিয়াতি করে পার পাবার সুযোগ নেই।

কেন্দ্র থেকে আসা উত্তরপত্র কোথায় থাকে

জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া ১৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর খাতা বাইরে নিয়ে লিখে জমা দেয়ার ঘটনায় সবার আগে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষাবোর্ডের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব অবহেলা নিয়ে। পরীক্ষার উত্তরপত্র শিক্ষাবোর্ডের গোপন শাখায় রাখা হয় এবং এর দায়িত্বে থাকেন কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে পরীক্ষার্থীদের খাতা কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অথবা তার একজন প্রতিনিধি বোর্ডে নিয়ে আসেন। খাতাগুলো রাখা হয় শিক্ষাবোর্ডের নিচ তলায় স্ক্রিপ্ট রুমে। বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে স্ক্রিপ্ট রুম দুটি। এর একটিতে সিসি ক্যামেরা আছে কিন্তু অপরটিতে নেই। দুটি কক্ষেই খাতা রিসিভ করা হয়। এরপর খাতাগুলো পরীক্ষকদের মধ্যে বন্টনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। পরে পরীক্ষকদের ডেকে প্রত্যেককে বিষয় ভিত্তিক ২০০ থেকে ২৫০টি খাতা দেয়া হয়।

স্ক্রিপ্ট রুমের দায়িত্বে কারা ছিলেন

স্ক্রিপ্ট রুমের সবকিছুর তদারকির দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন। নির্দেশনায় ছিলেন সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক একে আজাদ ফারুক। তাদের নেতৃত্বে কাজ করেছেন সেকশন অফিসার শহিদুল ইসলাম, রেকর্ড সাপ্লায়ার গোবিন্দ চন্দ্র পাল। এবিএম মিজানুর রহমান, বাবুল হোসেন, মজিবর রহমান, ইউসুফ হোসেন, মনির হোসেন, শংকর রায়, নিতাই চন্দ্র, মিলন, সুমন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আছেন যারা দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কাজ করেন। প্রত্যেকের দায়িত্ব বন্টন করে দেয়া আছে। কেন্দ্র থেকে খাতা আসার পরে তা এন্ট্রি করার দায়িত্ব গোবিন্দ চন্দ্র পাল ও মজিবর রহমানের। অফিস সহকারী মিজানুর রহমান ও ইউসুফ হোসেন খাতাগুলো আলাদা করে বস্তায় ভরেন (প্রত্যেক বস্তায় ২০০ থেকে ২৫০টি খাতা)। এরপর বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষকদের শিক্ষাবোর্ডে আসতে বলা হয়।

পরীক্ষকদের মধ্যে খাতা বন্টনের সময় প্রতিটি বস্তায় খাতাগুলো ঠিক আছে কি নেই, কে কতগুলো খাতা পাবে তা তদারকি করেন সেকশন অফিসার শহিদুল ইসলাম।

জালিয়াতির শীর্ষে অফিস সহকারি গোবিন্দ

১৯৯৯ সালে বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে আর্মস গার্ড পদে চাকুরীতে যোগদান করেন গোবিন্দ চন্দ্র পাল। ওই সময় গোবিন্দ স্ক্রিপ্ট রুমের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে রেকর্ড সাপ্লায়ার হন গোবিন্দ। পদোন্নতি পেলেও গত ২০ বছর ধরে পরীক্ষা শাখার স্ক্রিপ্ট রুমেই দায়িত্ব পালন করছেন গোবিন্দ পাল। একই শাখায় দীর্ঘ বছর চাকরী করার সুবাধে জালিয়াতির সব কিছ্ইু রপ্ত করেছেন গোবিন্দ চন্দ্র পাল। সবকিছুই তার নখদর্পনে। তিনি দীর্ঘ বছর ধরেই এই জালিয়াতির সাথে যুক্ত। সব পরীক্ষকদের সাথেও তার সখ্যতা রয়েছে। জালিয়াতি করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ নগরীর শীতলাখোলা এলাকায় ৩৭ লাখ টাকায় একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন।

গোবিন্দ চন্দ্র সরকার দ্বৈত নাগরিক। কোলকাতায়ও গোবিন্দের বাড়ী রয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। মাসে সব খরচ মিটিয়ে কিভাবে তিনি বরিশাল নগরীতে ফ্ল্যাট এবং কোলকাতায় বাড়ী করতে পারেন এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

৩ বছরের প্রেষণে এসে ১০ বছর একই দপ্তরে অরুন কুমার গাইন 

অরুন কুমার গাইন বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে আছেন দীর্ঘ ১০ বছর ধরে। তিনি এর পূর্বে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে ছিলেন। সেখান থেকে ২০০৯ সালে প্রেষণে তাকে বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে বদলি করা হয়। সেই থেকে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। প্রেষণে তিন বছরের বেশি কারো থাকার নিয়ম না থাকলেও তিনি আছেন দশ বছর ধরে । এর মধ্যে তাকে অন্যত্র বদলী করা হয়নি। পরীক্ষক, নিরীক্ষক এবং প্রধান পরীক্ষকদের তালিকা করেন অরুন কুমার গাইন। এরপর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তা অনুমোদন দেন। এবার উচ্চতর গনিতে যে ১৮ পরীক্ষার্থীর জালিয়াতি ধরা পড়েছে তাদের খাতা দেখেছেন তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষক মনিমোহন। তিনি দশ বছর ধরে গনিত বিষয়ের পরীক্ষক। নিয়মানুযায়ী ৫৮ বছর পর্যন্ত একজন শিক্ষক পরীক্ষক থাকতে পারেন, মনিমোহনের চাকুরী আছে আর মাত্র তিন মাস। তিনি চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর অবসরে যাবেন। নিয়মানুযায়ী বোর্ডের পরীক্ষকদের যে তালিকা রয়েছে সেখানে মনিমোহনের নামও নেই । তাহলে কিভাবে তিনি ৫৯ বছর বয়সে এবার পরীক্ষক হলেন!

এ বিষয়ে পরীক্ষক মনিমোহনের ভাষ্য হলো ‘আমিতো পরীক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করিনি, কেন আমাকে খাতা দেওয়া হলো এ প্রশ্ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে করুন’ শুধু তাই নয় অনুসন্ধানে জানা গেছে বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে এবছর যে ১৮ পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র জালিয়াতি করেছে তাদের তেরটি বিষয়ের সব পরীক্ষকই অরুন কুমার গাইনের আস্থাভাজন। পরীক্ষদের মধ্যে জালিয়াতির সাথে জড়িতদের খাতা কিভাবে ওই তের পরীক্ষকের কাছে গেলো, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ খাতাতো একটি কেন্দ্রের নয়। তাহলে ভিন্ন ভিন্ন কেন্দ্রের খাতা কিভাবে একই পরীক্ষকের কাছে যেতে পারে? শিক্ষাবোর্ডের নিচতলায় গ্যারেজে রাতে বেশ কয়েকজন কর্মচারী মোটরসাইকেল রাখেন। যারা মোটরসাইকেল গ্যারেজে রাখেন তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন অরুন কুমার গাইন, রেগাবিন্দ চন্দ্র সরকার, শংকর রায় ও নিতাই চন্দ্রসহ আরো বেশ কয়েকজন কর্মচারী রাত নযটা পর্যন্ত অফিস করেছেন। বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন তারা।

বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের কয়েকজন কর্মচারি জানিয়েছেন- গোবিন্দ রাতে যখনই বোর্ড থেকে বের হতেন তখন তার হাতে কোননা কোন কাগজপত্র থাকতো। ধারণা করা হচ্ছে এভাবেই পর্যায়ক্রমে অল্প অল্প করে উত্তরপত্র বাইরে নিয়ে আসতেন গোপনীয় শাখায় কর্মরত অফিস সহকারি গোবিন্দ চন্দ্র।

পরীক্ষকরাও জড়িত 

বরিশাল বোর্ডের উত্তরপত্র জালিয়াতির সাথে পরীক্ষকরাও জড়িত থাকতে পারে বলে একাধিক সুত্রে জানিয়েছে। তাছাড়া শিক্ষাবোর্ড চেয়াম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সাথে মেলালে পরীক্ষকদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সহজেই অনুমেয়। শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান এ প্রতিবেদকের কাছে বলেছেন ‘১৮ পরীক্ষার্থী তাদের খাতায় কিছু না লিখেই জমা দেয়। প্রতিটি খাতায় একটি লাল কালির দাগ দেয়া ছিল। এর ফলে গোবিন্দ সহজেই খাতাগুলো বের করে বাইরে পাঠায়। এরপর পরীক্ষার্থীরা উত্তরপত্র দেখে হুবহু খাতায় তুলে জমা দিয়েছে’। যদি খাতায় লাল দাগ থাকে সেটা প্রথমে নজরে আসার কথা পরীক্ষকের। কারণ তিনি খাতা দেখে নম্বর দেন। তার আগেতো কেউ খাতায় লাল দাগ দিতে পারে না। যখনই তারা লাল দাগ দেখবেন তখনইতো তাদের সন্দেহ হবার কথা। কিন্তু কোন পরীক্ষকই বিষয়টি বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবহিত করেননি। শুধু তাই নয় শিক্ষাবোর্ড থেকে পরীক্ষকদের যে উত্তরপত্র প্রদান করা হয়েছে সেই উত্তরপত্র প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর হুবহু লেখার কথা নয়। কারণ এটাতো গোপনীয় বিষয়। যখনই উত্তরপত্রের সাথে হুবহু মিল তখনতো পরীক্ষকদের বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিৎ ছিল।

এ বিষয়ে উচ্চতর গনিতের পরীক্ষক মনিমোহনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাতা দেখার জন্য সময় এত কম যে আমরা অত সুক্ষ্মভাবে বিচার বিশ্লেষণ করতে পারি না। সুক্ষ্মভাবে বিচার-বিশ্লেষণের জন্য নিরীক্ষক রয়েছেন। গত ২৭ মে আমি খাতা নিয়ে আসি। জমা দেয়ার জন্য সময় বেধে দেয়া হয় ১৪ জুন। আমাকে ২৬৮ টি খাতা দেয়া হয়। তবে বাসায় এসে দেখি খাতা একটি বেশি আছে। দুই কিস্তিতে খাতা জমা দেয়ার কথা থাকলেও আপনি (মনিমোহন) তিন কিস্তিতে কেন জমা দিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খাতা দেখার ফাঁকে আমি বাড়িতে যাওয়ায় তিন কিস্তিতে দিতে হয়েছে। তাড়াহুড়ো করে দেখার কারনে লাল কালি কিংবা উত্তরপত্রের সাথে মিল আছে কি নেই দেখার সুযোগ ছিল না। উচ্চতর গনিতের প্রধান পরীক্ষক পিরোজপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার্থীদের লেখার গঠন এক হতে পারে কিন্তু ভাষাগত দিক থেকে হুবহু একই ধরণের হবার কথা নয়। পরীক্ষকদের কাছে প্রথমেই বিষয়টি ধরা পড়া উচিৎ ছিল।

কেন্দ্রও কি জড়িত ?

এ বছর এইচএসসিতে যে ১৮ পরীক্ষার্থী জালিয়াতির মাধ্যমে জিপিত্র-৫ পেয়েছিল তারা ছিল বিভিন্ন কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে নগরীর সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ কেন্দ্রের ৩ জন রোল : ১০১০৯৯, ১০১০৮৭,১০১১১৫), বরিশাল কলেজ কেন্দ্রের ৩ জন রোল : ৬০০২১৩, ৬০০২৫২, ১০০৯১৯), মডেল কলেজ কেন্দ্রের একজন (রোল : ১০০৩২৭), আলেকান্দা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের একজন (রোল : ৯০০০২৫), গলাচিপা ডিগ্রী কলেজের কেন্দ্রের তিন জন (রোল : ১০৯৭৬১, ১০৯৭৯০, ১০৯৭৬৭), উজিরপুর ধামুরা কেন্দ্রের দুই জন (রোলঃ ৬০১৬৭৭, ১০৪০৩৭) বাবুগঞ্জ রাকুদিয়া কেন্দ্রের একজন (রোল : ১০২৫৮০), শেখেরহাট কেন্দ্রের একজন (রোল : ১০৫৮৪২)।

বরগুনা মহিলা কলেজ কেন্দ্রের একজন এবং বগা বন্দর কেন্দ্রের দুইজন (রোলঃ ১১২০১৪, ৬০৪৭৩৫, ৬০৪৭৬৯) বরিশাল নগরীর কেন্দ্রের খাতা সরাসরি গিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ বোর্ডে জমা দেন। আর উপজেলার খাতা পাঠানো হয় ডাকযোগে। বিগত বছরগুলোতে খাতার প্যাকেটের উপর কেন্দ্রের নাম লেখা থাকতো । কিন্তু বর্তমানে প্রতিটি কেন্দ্রের একটি গোপন কোড নম্বর থাকে। তাও প্যাকেটের ভিতরে উপরে নয়। অবশ্য উপজেলা থেকে যে খাতা গুলো পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আসে সেখানে প্যাকেটের উপরে প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা উল্লেখ থাকে। প্যাকেট গুলো রিসিভ করে এন্ট্রি করেন রেকর্ড সাপ্লায়ার গোবিন্দ চন্দ্র পাল ও অফিস সহকারী মজিবর রহমান।

এবছর অমৃত লাল দে কলেজের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে সরকারি সৈয়দ হাতের আলী কলেজ কেন্দ্রে। অমৃত লাল দে কলেজের তিনজন পরীক্ষার্থী জালিয়াতি করে ধরা খেয়েছে। আর বরিশাল কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছে সরকারি মহিলা কলেজের তিনছাত্রী। তারাও টাকার বিনিময়ে বাইরে খাতা নিয়ে লিখেছে। এই জালিয়াতির সাথে জড়িয়ে পড়ে হাতেম আলী কলেজের একজন ও সরকারি আলেকান্দা কলেজের এক পরীক্ষার্থী। বাকী পরীক্ষার্থীরা বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার। সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক ছিলেন ভুগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এইচ এম বাহার উদ্দিন। জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদকে বলেন, প্রতিদিন পরীক্ষা শেষে আমাদের একজন প্রতিনিধি পুলিশ ফোর্স নিয়ে বোর্ডে খাতা জমা দিয়ে আসেন। খাতার প্যাকেটের ভিতরে একটি গোপন পিন কোর্ড থাকে। যারা খাতা রিসিভ করেন তাদেরকে তো কোন কেন্দ্রের খাতা বলার প্রয়োজন হয় না। গোপন শাখায় যারা কাজ করেন তারা তো দেখলেই চিনতে পারেন কে কোন কলেজের প্রতিনিধি। এ বছর খাতা শিক্ষাবোর্ডের পৌছে দেয়ার দায়িত্বে ছিলেন ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক মাসুম বিল্লাহ এবং উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আমিনুল ইসলাম। আমি মনে করি কেন্দ্র থেকে এ ধরনের জালিয়াতির কোন সুযোগ নেই্। গলাচিপা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফোরকান কবির বলেন, আমাদের এখানে পাঁচটি কলেজের ৮৭৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। জালিয়াতির সাথে জড়িতরা গলাচিপা মহিলা কলেজের ছাত্রী। পরীক্ষা শেষ হবার পরে খাতাগুলো প্যাকেট করে পিন কোডের সিল মেরে ডাকে পাঠিয়ে দেই। ডাকে উপজেলা থেকে জেলায় এর পর যায় বিভাগীয় শহরে। পোস্ট অফিসের লোকজন যখন শিক্ষাবোর্ডে খাতা নিয়ে যায় তখন সহজেই জানা সম্ভব কোন উপজেলা থেকে খাতা আসলো।

এদিকে পোস্ট অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে সিলগালা করে খাতাগুলো ডাকযোগে আসে। প্যাকেটের উপরে প্রেরকের ঠিকানায় কেন্দ্রের নামসহ বিস্তারিত ঠিকানা উল্লেখ থাকে। শিক্ষাবোর্ডে প্যাকেটগুলো রিসিভ করেন রেকর্ড সাপ্লায়ার গোবিন্দ ও মজিবর।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুস বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কথা বলা ঠিক হবে না। আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছি। তারা রিপোর্ট দেয়ার পরে বিস্তারিত জানাবো। একই পদে দশ বছর প্রেষণের ব্যাপারে চেয়ারম্যান বলেন ‘কয়েক দিন আগে মন্ত্রনালয় থেকে তথ্য চেয়েছিল। যারা বছরের পর বছর প্রেষণে আছেন আদের তথ্য মন্ত্রনালয় প্রেরণ করেছি।

উল্লেখ্য, বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসির উত্তরপত্র জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে গত ১০ আগস্ট দৈনিক নয়া দিগন্তের তৃতীয় পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

 


আরো সংবাদ

রিফাত-নয়ন উভয়ের সাথেই সম্পর্ক রাখতেন মিন্নি ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিজেপির প্রবীণ নেতা গ্রেফতার কারা পেতেন ক্যাসিনো থেকে আয়ের ভাগ, নাম বলেছেন খালেদ হোয়াইট হাউস থেকে মাত্র দুই মাইল দূরে ছয়জন গুলিবিদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবকের কবজি কাটার অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ আটক ২ বিএনপির সময় ক্যাসিনোগুলো ছিল, অ্যাকশন নেয়নি : কাদের জমি লিখে না দেয়ায় বৃদ্ধ বাবাকে মারধর করে পানিতে চুবালো ছেলে শিবগঞ্জে প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ দফতরির বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ সহোদর নিহত ফেসবুক ভেঙ্গে দেয়ার প্রস্তাব , ট্রাম্পকে যা বলেছেন জাকারবার্গ স্কুল শিক্ষকের ছয় স্ত্রী, সংখ্যা আরো বাড়াতে শালিকাকে প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ

সকল




gebze evden eve nakliyat Paykasa buy Instagram likes Paykwik Hesaplı Krediler Hızlı Krediler paykwik bozdurma tubidy