১৮ আগস্ট ২০১৯

যে কোন সময় বিলিন হতে পারে এই সাইক্লোন সেল্টার

যে কোন সময় বিলিন হতে পারে এই সাইক্লোন সেল্টার - সংগৃহীত

ঘরের ভেতর পানি, ঝড়ো হাওয়ায় ঘর বিধ্বস্ত, গাছ উপড়ে পড়াসহ প্রাণহানীর ভয়ে মানুষ দুর্যোগের সময় ছুটে যায় আশ্রয় কেন্দ্রে। আবহাওয়ার বিপদ সংকেতে শুনে দিশেহারা উপকূলের মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল সাইক্লোন সেল্টার। সেই আশ্রয় কেন্দ্র যদি হয় ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলে নদী তীরের মানুষের জীবন রক্ষাই দায়। এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ সাইক্লোন সেল্টার রয়েছে ঝালকাঠির বিষখালী নদীর তীরে।

সদর উপজেলার পশ্চিম দেউরী গ্রামে বিষখালী নদীর ভাঙনে বিলিন হয়ে গেছে পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারের একাংশ। ঘুর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়া পানির তোড়ে গত শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের একটি পানির ট্যাঙ্কি ও নলকূপ নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে বেজমেন্টের নিচের মাটি সরে গিয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে নদীতে চলে যেতে পারে ভবনটি। আতঙ্কে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষকরা স্কুলে এলেও সবসময় ভয়ের মধ্যে থাকেন।

জানা যায়, মাত্র চারবছর আগে প্রায় পৌঁনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম দেউরী গ্রামে বিষখালী নদীর তীরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হয়। ইমারজেন্সি সাইক্লোন রিকভারি এন্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্টের আওতায় বিশ্ব ব্যংকের অর্থায়নে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এটি নির্মাণ করে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। ওই সময় ভাঙন কবলিত বিষখালী নদীর মাত্র ১০০ গজের মধ্যে এ ধরনের ভবন নির্মাণে স্থানীয়রা আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে ভ্রুক্ষেপ করেনি। তখন বলা হয়েছিল, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী শাসনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভবনটি ভাঙনের চূড়ান্ত ঝুঁকিতে ছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারের পাশ দিয়ে যাওয়া সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হয়ে গেছে স্থানীয় বাজারটিও। সরে গেছে সাইক্লোন সেল্টারের বেজমেন্টের নিচের মাটি। সেখানে ঢুকে পড়েছে পানি। ভবনটি এখন শুধুমাত্র পাইলিংয়ের ওপর দাড়িয়ে আছে। তিন পাশেই বিষখালীর পানি থৈ-থৈ করছে।

১৩৭ শিক্ষার্থী থাকলেও বিদ্যালয়ে ভয়ে ক্লাসে আসছে না অনেকেই। কমে গেছে উপস্থিতির সংখ্যা। যেকোন সময় নদী গর্বে হারিয়ে যেতে পারে বিদ্যালয়টি। শুধু বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারটিই নয়, নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বাজার, সড়ক, বসতঘর, ফসলি জমিসহ অসংখ্য গাছপালা। ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাতহানার ভয়ে তিনশতাধিক মানুষ আশ্রয নিয়েছিল পশ্চিম দেউরী বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাতে অনেকেই সেখান থেকে নেমে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

দেউরী গ্রামের হাসেম আলী হাওলাদার বলেন, আমি বৃদ্ধ মানুষ। অনেক দুর্যোগের সাক্ষি। বিষখালীতে বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি চলে গেছে। আবহাওয়ার সংকেত শুনে আগে আশ্রয় নিতাম নদীর পাশের বিদ্যালয়ে। সরকার আমাদের কষ্টের কথা চিন্তা করে বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করে দিলেন। কিন্তু আশ্রয় কেন্দ্রটি নির্মাণের স্থান নির্ধারণ সঠিক হয়নি। নদীর পাশে এটি নির্মাণ করায় নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। আশ্রয় নেয়ার স্থানটি যদি হয় ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলে আমরা যাবো কোথায়।

নদী তীরের বসিন্দা হাওয়া বেগম বলেন, বসতঘরের পাশের জমিতে বিভিন্ন ফসলের চাষ করেছিলাম, পানি বেড়ে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে জমিও নদীতে চলে গেছে। প্রতিদিন আতঙ্কে থাকি। সরকার আমাদের নদী ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নিলে বেঁচে থাকতে পারতাম।

বিদ্যালয়ের পাশের বাজারের বাসিন্দা আবদুর রব মৃধা বলেন, বিষখালীর ভাঙনে কয়েক দফায় বাজার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন আবারো ভাঙন বাজারের কাছে চলে এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাইক্লোন সেল্টারটি নদীর ভাঙনে পড়েছে। একাংশ বিলিন হয়ে গেছে। এখানে বাঁধ না দিলে যেকোন সময় বাজার ও বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার নদীতে চলে যাবে।

বিদ্যালয়ের পশ্চম শ্রেণির ছাত্র তরিকুল ইসলাম জানায়, আমরা সব সময় নদী ভাঙনের ভয়ে থাকি। ক্লাসে মনযোগ থাকে না। শিক্ষকরাও আতঙ্কের মধ্যে থাকেন।

পশ্চম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া ইসলাম আশামণি জানায়, শুক্রবার আমাদের বিদ্যালয়ের পানির ট্যাঙ্কি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। নদীর পানি বিদ্যালয়ের নিচেও ঢুকে পড়েছে। কোন সময় আমাদের সবাইকে নিয়ে নদীতে চলে যায় জানি না। আমাদের বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারটি রক্ষা জন্য বিভিন্ন দপ্তরের কাছে অনেক বার জানিয়েও কোন উপকার পাইনি। এখন এটি নদী গর্ভে বিলিন হলে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পরবে। কর্তৃপক্ষের কাছে এটি রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমীন বলেন, ভবনটি নির্মাণের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী শাসনের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও সেটি শেষ না করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সাইক্লোন সেল্টারটি রক্ষার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ঝালকাঠিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আতাউর রহমান জানান, নদী তীরবর্তী সরকারি স্থাপনা, বিশেষ করে সাইক্লোন সেল্টার, স্কুল-কলেজ এসমস্ত কিছু অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় নদী ভাঙনের সম্মুখীন হয়েছে। আমরা পর্যবেক্ষণ করে তালিকা তৈরি করছি। যদি জরুরী ভিত্তিতে কাজ করার প্রয়োজন হয় তাহলে সেটা আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি। সদর উপজেলার দেউরী সাইক্লোন সেল্টারের কার্যক্রমটা জরুরী ভিত্তিতে দরকার, তা আমরা ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। অতিশিঘ্রই কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।


আরো সংবাদ

রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের সাথে গুলি বিনিময়ে এক সেনাসদস্য নিহত স্মিথের বদলি লাবুশানে; টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার এখন ফ্যাসিস্ট মোদির হাতে : ইমরান খানের হুঁশিয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি স্বাধীনতা বিরোধীরা এখনো ঘড়যন্ত্র করছে : আইনমন্ত্রী দুর্ঘটনা কেড়ে নিলো একটি পরিবার, ঈদ আনন্দে বিষাদের ছায়া ছাত্রদলের সভাপতি ও সম্পাদক হতে ইচ্ছুক ১০৮ তরুণ নেতা মানিকগঞ্জে বেড়েই চলছে ডেঙ্গু রোগী সিরাজগঞ্জে ডেঙ্গু রোগে আক্রন্ত কলেজ ছাত্রের মৃত্যু উপকূল সুরক্ষায় ৬৪২ কিলোমিটার সুপার ডাইক নিমার্ণের উদ্যোগ ছাগলের ক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধা খুন

সকল




bedava internet