২১ মে ২০১৯

রাঙ্গাবালীতে পাগলীর পিতৃপরিচয়হীন সন্তানের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগলী) এক নারী। তবে সন্তানের বাবার পরিচয় জানা যায়নি। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার ভোর রাতে উপজেলার খালগোড়া বাজার সংলগ্ন বালুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ফুটফুটে এ নবজাতকের পাশে দাড়িয়েছেন রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান। শনিবার সন্ধ্যায় নবজাতককে লালনকারী ওই এলাকার অহিদুল পলোয়ানের বাড়িতে গিয়ে নবজাতকের পোশাক ও খাবারের তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা করেন নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়াও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে চিঠি দিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত ওই নারী বছর দুয়েক আগে রাঙ্গাবালী উপজেলায় আসেন। এর পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তাকে দেখা যায়। গত তিন মাস থেকে পাগলীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি স্থানীয়দের চোখে পরে।

শুক্রবার ভোররাতে খালগোড়া বাজারের বালুর মাঠ থেকে হঠাৎ কান্নার আওয়াজ শুনতে পান পারুল বেগম নামের এক মহিলা। কান্নার আওয়াজ পেয়ে ছুটে যান বালুর মাঠে। সেখানে গিয়ে দেখেন পাগলীটি ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন। পরে পারুল বেগম বালুর মাঠ হতে ওই নবজাতক ও মাকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।

বর্তমানে ওই নবজাতক ও তার মাকে পারুল বেগমের বাড়িতেই আছেন। খবর পেয়ে শনিবার সন্ধায় ঘটনাস্থালে গিয়ে নবজাতকের খোঁজখবর নেন রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান।

এসময় তার সাথে ছিলেন রাঙ্গাবালী থানা অফিসার ইনচার্জ আলী আহম্মেদ, রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুজ্জামান মামুন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। পরে নবজাতকের পোশাক ও খাবারের জন্য তাৎক্ষণিক কিছু অর্থ প্রদান করেন মাশফাকুর রহমান। এছাড়াও মা-মেয়ের চিকিৎসার জন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে চিঠি দিয়েছেন তিনি।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তখনই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকের খোঁজখবর নিয়েছি এবং খাবার ও পোশাকের জন্য কিছু টাকা আমি ব্যক্তিগতভাবে দিয়েছি। নবজাতকটিকে লালনপালনের জন্য পারুল বেগম নামের উদ্ধারকারী ওই মহিলা স্ব-ইচ্ছায় নিতে চাচ্ছেন। পরবর্তীতে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় সন্তানটিকে তার হতে তুলে দিব।


আরো সংবাদ




agario agario - agario