২৭ মে ২০১৯

পবিপ্রবি : ছাত্র সংসদ নেই তবুও ফি আদায়

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় - ছবি : নয়া দিগন্ত

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নেই তবুও চলছে ছাত্র সংসদের নামে ফি আদায়। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে ছাত্র সংসদের নির্বাচিত কমিটি নেই, শিক্ষার্থীদের জোড়ালো দাবি সত্ত্বেও নির্বাচনের কোন উদ্যোগ নেয়া না হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদ পরিচালনা ও উন্নয়নের নামে নিয়মিত ফি (চাঁদা) আদায় করছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ছাত্র সংসদ নেই। পবিপ্রবি’র আদি প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী কৃষি কলেজ থাকাকালে ১৯৯৯ সালে কলেজ ছাত্র সংসদের সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল। ২০০০ সালে ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০০ সালের ৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ছাত্র সংসদের কোন কমিটি হয়নি। শিক্ষার্থীদের জোড়ালো দাবি সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে বিগত ১৯বছরেও নির্বাচনের কোন উদ্যোগ নেয়া না হলেও ছাত্র সংসদ পরিচালনা ও উন্নয়নের নামে থেমে নেই কর্তৃপক্ষের নিয়মিত ফি (চাঁদা) আদায়।

পবিপ্রবি’র হিসাব বিভাগের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি সেমিস্টারে ছাত্র সংসদের নামে নির্ধারিত হারে টাকা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্রীয় সংসদের নামেও ফি নেয়া হয়; কিন্তু নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকায় এ খাতে আদায়কৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। ছাত্র সংসদের কার্যক্রম না থাকায় এবং নির্বাচন না দেয়ায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি আদায় হচ্ছে না বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্র আল মামুন বলেন, ‘নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি থাকলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা ও দাবি-দাওয়া সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা ও দাবি আদায় করা সহজ হয়।’

ছাত্র সংসদের নামে আদায়কৃত ও বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায়, কিভাবে ব্যয় হচ্ছে- তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ৮ম সেমিষ্টারের ছাত্র মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ছাত্র সংসদের কার্যক্রম না থাকা সত্বেও কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে ফি (চাঁদা) নিচ্ছে; কিন্তু ছাত্র সংসদ নেই, তো টাকা যায় কোথায়? ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়া এবং শিক্ষার্থীদের অর্থ নির্বাচিত বৈধ প্রতিনিধির মাধ্যমে কল্যাণকর খাতে খরচ করার সুযোগ করে দেওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।’

প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, ‘ভর্তির সময় তাদের কাছ থেকে হল কর্তৃপক্ষ ‘টাকা আদায়ের রশিদ বহি’তে ৫০ টাকা হারে ছয় মাসের জন্য ৩০০ টাকা ফি (চাঁদা) নিয়েছে; কিন্তু এখন দেখছি ছাত্র সংসদের কোনো কার্যক্রম নেই।’

‘ছাত্র সংসদ চালু করা যায় কি-না, এ প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আ.ক.ম মোস্তফা জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ প্রয়োজন আছে। এ জন্য ছাত্রদেরই এগিয়ে আসতে হবে। কিছুদিন পূর্বে শিক্ষা বিষয়ক কমিটির কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। ওই চিঠিতে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, দলীয় কোন্দল ইত্যাদি বিষয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানা প্রশ্ন করা হয়। আমরা সার্বিক বিষয়ে ইতিবাচকভাবে কমিটিকে জানিয়েছি। মনে হয়েছে যে, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া সংসদ নির্বাচন দেয়া যাবে না।’

অর্থের ব্যয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত এবং বরাদ্দকৃত অর্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই ব্যয় হচ্ছে।’

শের-ই-বাংলা হল-১ এর প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো: ফজলুল হক বলেন, ‘ছাত্র সংসদ রুমের চাবি ছাত্রদের কাছে দেয়া হয়েছে; কিন্তু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তারা অফিসিয়ালি ছাত্র সংসদ চালাতে পারবে না। এছাড়া ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় অনুমোদন থাকতে হবে; কিন্তু ছাত্ররা আমাদের তেমন কোনো অনুমোদনের কাগজ দিচ্ছে না। আমরাও চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের কমিটি থাকুক এবং সুষ্ঠুভাবে এর কার্যক্রম চলুক।’ অর্থের ব্যয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শবে বরাত, ঈদ-এ-মিলাদুননবীসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ছাত্রদের কল্যাণমূলক কাজেই তাদের টাকা ব্যয় করা হয়।’


আরো সংবাদ




Instagram Web Viewer
hd film izle pvc zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Canlı Radyo Dinle Yatırımlık arsa Tesettürspor Ankara evden eve nakliyat İstanbul ilaçlama İstanbul böcek ilaçlama paykasa
agario agario - agario