১৭ আগস্ট ২০১৯

বেড়ানোর নামে স্কুলছাত্রীকে পার্কে নিয়ে ধর্ষণ : ধর্ষক আটক

পুলিশের হাতে আটককৃত ধর্ষক জলিল প্যাদা। পাশের ছবিটি প্রতীকী - নয়া দিগন্ত

বেড়ানোর নাম করে এক স্কুলছাত্রীকে পার্কে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত অভিযুক্ত ধর্ষকের নাম জলিল প্যাদা (২৫)। সে বেলাল ছদ্মনাম ব্যবহার করে ওই স্কুলছাত্রীর সাথে মোবাইল ফোনে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলায়। ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী উপজেলার একটি স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। এদিকে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক জলিল প্যাদাকে আটকের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানা পুলিশের ওসি হানিফ শিকদার। রোববার (১৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টা দিকে মোবাইল ফোন ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে তাকে বরগুনা সদর উপজেলার গাজী মাহমুদ থেকে আটক করা হয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলে ভূক্তভোগী ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রেমিক জলিল প্যাদা। এরপর গত ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার হরিণঘাটা পর্যটন কেন্দ্রে বানর দেখানোর কথা বলে নিয়ে যায় ওই স্কুলছাত্রীকে।

পরে সেখানে নির্জন স্থানে নিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ধর্ষক জলিল প্যাদা। এই ঘটনার পর ওই স্কুলছাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে প্রেমিকাকে ঘটনাস্থলে রেখেই সেখান থেকে তাৎক্ষণিক ধর্ষক জলিল পালিয়ে যায়।

পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। পরের দিন শুক্রবার বিকেলে ওই ভূক্তভোগী ছাত্রীর মা জয়নব বাদী হয়ে ধর্ষক জলিল প্যাদা ও আলতাফ হোসনকে আসামী করে পাথরঘাটা থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানা পুলিশের ওসি হানিফ সিকদার বলেন, আমরা মোবাইল ফোন ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে ধর্ষক জলিল প্যাদাকে বরগুনা জেলার গাজী মাহমুদ থেকে আটক করেছি।

তিনি বলেন, তার মূল নাম জলিল প্যাদা, সে ধর্ষিত স্কুলছাত্রীর সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বেলাল ছদ্মনাম ব্যবহার করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পাশাপাশি ভূক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রীর মোবাইল ফোনে জলিল প্যাদার সাথে তার কথোপকথনের অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে।

তিনি আরো জানান, ধর্ষক জলিল প্যাদাকে আটক করতে এর আগে তার আত্মীয়ের বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলা মঠবাড়িয়ায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। আপকের পর ধর্ষক জলিল প্যাদাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : তালাকপ্রাপ্তা নারীকে ধর্ষণ, দিগম্বর অবস্থায় ধর্ষক আটক
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা, (১৩ এপ্রিল ২০১৯)

কুমিলার নাঙ্গলকোটে তালাকপ্রাপ্ত এক সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষক নুরুজ্জামান রাজু উপজেলার আদ্রা উত্তর ইউপির মেরকট গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই গ্রামের উত্তর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল ধর্ষিতার বাবা বাদি হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় দু’জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে নুরুজ্জামান ধর্ষিতার ঘরে প্রবেশ করে গলা চেপে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষিতার চিৎকারে তার ভগ্নিপতি সাফায়েত হোসেন ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে লম্পট নুরুজ্জামান পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসী ওই লম্পটকে দিগম্বর অবস্থায় আটক করে ওই গ্রামের জীবন কৃষ্ণ বাবুর মাছের ঘরে তালা বন্ধ করে রাখে।

রাতের কোনো এক সময় লোকজনের চলে যাওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে ওই লম্পট ঘরের জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে নুরুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরাও ঘর তালা বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে আদ্রা উত্তর ইউপির স্থানীয় ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম গাজী বলেন, রাতে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নুরুজ্জামানকে আটক করে জীবন কৃষ্ণ বাবুর মাছের খামারের একটি ঘরে তালাবন্ধ করে রাখা হয়। পরে ধর্ষিতার পরিবারকে খবর পাঠাতে গেলে ওই সুযোগে নুরুজ্জামান ঘরের জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়। 

ধর্ষিতার বাবা জানান, আমি ঘটনার দিন রাতে পৌর এলাকার বেতাগাঁও গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাই। খবর শুনে রাত প্রায় ২টার দিকে বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি জানতে পারি। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। 

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম পিপিএম বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


আরো সংবাদ




bedava internet