২৩ আগস্ট ২০১৯

তরুণীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক, চাকরি হারালেন রেজিস্ট্রার

ভিসির পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার দাবীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ইনসেটে বহিস্কৃত রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম - নয়া দিগন্ত

যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সাবেক রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে মোবাইল ফোনে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এসএম ইমামুল হক।

তিনি বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামকে এরআগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিলো। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কলাবাগানে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াজো অফিসে সিন্ডিকেটের সভার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি প্রত্যাশী এক তরুণীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ ওঠে রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজ ওইসময় ভাইরাল হয়। ভিডিও প্রমাণসহ রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিচারের দাবিতে ভিসির কাছে লিখিত আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভিসি সিন্ডিকেটের তিন সদস্যর সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি সিন্ডিকেট সভায় রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং নতুন রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. মোঃ হাসিনুর রহমানকে।

শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

এদিকে  ভিসির পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি লিখিত আকারে পাওয়ার দাবিতে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ভিসির পদত্যাগের কারণে গত কয়েকদিন থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।

বুধবার বেলা ১১টায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নীচতলায় প্রধান ফটক আটকে অবস্থান করে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে ভিসির পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ শুরু করে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসির পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি লিখিত আকারে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুর ঘোষনার চারদিন পরও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখান করে আন্দোলন কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধের কারনে বরিশাল থেকে পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা জেলার সাথে সড়কপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সড়কের উভয়প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকা পরে দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পরতে হয়েছে।

এ রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী একাধিক যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ যাবত তিনবার মহাসড়ক অবরোধ করায় প্রতিবারই তাদের চরম দুর্ভোগে পরতে হয়েছে। মহাসড়ক অবরোধ না করার জন্য প্রশাসনের উচ্চমহল থেকে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি। তাই তারা (যাত্রীরা) শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের ফলে ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই পেতে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে বিষয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভিসি ড. এসএম ইমামুল হক মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, এটা আমাদের কারও হাতে নেই। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে পদত্যাগ অথবা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ছুটিতে যাওয়ার মতো কোন কারন নেই। আর ভিসিকে কেউ ছুটিতে পাঠাতে পারেন না। ছুটি নিতে হলে আমি নিজে ছুটি চাইবো, সেটি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ছুটি আসবে। আর একটি হতে পারে রাষ্ট্রপতি আমাকে ডেকে বলবেন, তুমি ছুটিতে যাও। এছাড়া কারও কিছু করার এখতিয়ার নেই।

মেয়াদকাল বাড়বে কিনা এ বিষয়ে ভিসি বলেন, এটা আমি বলতে পারবো না, এটা প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। আর মেয়াদকাল পর্যন্ত না থাকারও কোন সুযোগ নেই। কারোর হুমকিতে যদি আমাকে যদি রিজাইন করতে হয়, তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়ায়। আমি এমন কিছু করিনি যে আমাকে হুমকির মুখে রিজাইন করতে হবে। ২৬ মার্চে আমার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তার পরেও আমি যা বলেছি তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় প্রতিবাদ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এসএম ইমামুল হক শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেয়। এর প্রতিবাদে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে জোরদার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের দু’দিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়ার ঘোষনা দিয়ে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা চলছে।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet