২০ মে ২০১৯

স্ত্রীর লাশ ফেলে পালালেন স্বামী

স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে বরগুনায় শিল্পী নামে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী চার সন্তানের মা। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের চরকগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা মো: ফারুকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে গৃহবধূ শিল্পীর বোন মাজেদা বিদেশ থেকে ফিরে তাদের বাড়ি বেড়াতে আসেন। এ সময় শিল্পীর স্বামী ফারুক মাজেদার স্ত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা ঋণ চান; কিন্তু মাজেদা এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফারুক ও শিল্পীর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এ ঘটনা দেখে বোনের বাড়ি থেকে চলে যান মাজেদা। এরই জেরে গত বুধবার বিকেলে ফারুক তার স্ত্রী শিল্পীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিল্পীকে মৃত ভেবে মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করেন ফারুক। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ফারুক শিল্পীকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়; কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিল্পী মারা গেলে পালিয়ে যান ফারুক।

এ দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক তানভীর শাকিল জানান, শিল্পীর পেট থেকে কীটনাশক বের করা হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরো বলেন, যে পরিমাণ কীটনাশক তার পেট থেকে বের করা হয়েছে বা তার পেটে যে পরিমাণ কীটনাশকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, কেউ স্বেচ্ছায় পান না করলে কারো পক্ষে এতটা খাওয়ানো সম্ভব নয়।
বরগুনা থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নেয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

স্ত্রীকে হাত পা বেঁধে নির্যাতন
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা 

আড়াইহাজারে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকমিনা (২২) নামে এক স্ত্রীকে আমানুষিক নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত স্ত্রী তাকমিনাকে গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জের ঝাঁলকুড়ি এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। 

উপজেলার শ্রীনিবাসদী গ্রামের বাসিন্দা ও তাকমিনার বাবা আছমত আলী জানান, চার বছর আগে তার মেয়ের সাথে গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দি গ্রামের সালামের ছেলে আলমের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ে পর তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান আসে। কিছু দিন ভালোই চলছিল তাদের সংসার। একপর্যায়ে তাকমিনাকে তার স্বামী যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। বাড়তে থাকে সংসারে অশান্তি। সংসারে অশান্তির কারণে স্ত্রী তাকমিনা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

তাকমিনা মানুসিক অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের সংসারে রাখবে না বলে নানা অজুহাত খোঁজতে থাকে এবং নির্যাতন আরো বাড়িয়ে দেয়। কিছুদিন আগে বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসার পর গত মঙ্গলবার আবার শ্বশুরবাড়িতে যান তাকমিনা। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। 

পরে গতকাল জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ঝাঁলকুড়িতে এক নারীকে দেখে এলাকাবাসী তার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় জানার পর তাকে আড়াইহাজারে পাঠিয়ে দেয় ঝাঁলকুড়ির লোকজন। তখন মেয়েটির হাত-পা বাঁধা ছিল। উদ্ধারকৃত তাকমিনার পায়ে, হাতে, মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ব্যাপারে স্বামী আলমের সাথে যোগযোগ করলে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেন


আরো সংবাদ