২৪ জানুয়ারি ২০১৯

পুলিশ কন্যাকে উত্যক্ত করায় বখাটে পুলিশ পুত্র আটক

পুলিশ কন্যাকে উত্যক্ত করায় বখাটে পুলিশ পুত্র আটক - ছবি : নয়া দিগন্ত

বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলে পুলিশ কর্মকর্তার স্কুল পড়ুয়া কন্যাকে উত্ত্যক্ত করায় মাহফুজ মিয়া (৩৪) নামে এক সাবেক পুলিশ সদস্যর বখাটে পুত্রকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের তাঁরাবাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত মাহফুজ উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মুন্ডপাশা গ্রামের সাবেক পুলিশ সদস্য মো: আফজাল মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ওই স্কুল ছাত্রীর মা লুনা বেগম বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা উপজেলার শোলক ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানায় কর্মরত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কামাল হোসেন। তার স্ত্রী-সন্তান উপজেলার বামরাইল বাজার সংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়ীতে থাকেন। গত তিন মাস পূর্বে তার নিজ বাড়ীর জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বখাটে মাহফুজ মিয়ার সাথে ওই পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের পরিচয় হয়। সেই সুবাদে মাহফুজ প্রায়ই তাদের বাসায় যাতায়াত করতো।

এরপর হঠাৎ একদিন ওই পুলিশ কন্যা বামরাইল অনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর প্রথম স্থান অধিকারী মেধাবী ছাত্রীকে বখাটে মাহফুজ প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব প্রত্যাখান করে ওই পুলিশ কন্যা বিষয়টি তার মাকে জানালে মাহফুজকে সতর্ক করে দেয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহফুজ সেই থেকে স্কুল পড়ুয়া ওই পুলিশ কন্যাকে বিভিন্ন সময় স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্যক্ত করে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে ওই পুলিশ কন্যা স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে তার খালাতো ভাইয়ের সাথে বাড়ি ফিরছিলো।

বাসার কাছাকাছি আসলে বখাটে মাহফুজ তিনটি মোটর সাইকেলযোগে ৭/৮ জন সহযোগীকে নিয়ে ওই স্কুল ছাত্রী পুলিশ কন্যাকে বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা বলে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। এ সময় তার (ছাত্রী) সাথে থাকা খালাতো ভাই নাজমুল উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটে মাহফুজ ও তার সহযোগীরা নাজমুলকে বেধম মারধর করে। পরে এ ঘটনার বিচার চেয়ে ওই পুলিশ কন্যা স্কুল ছাত্রীর মা উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও মডেল থানার ওসির বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

এরপরই রোববার দুপুরে উজিরপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আল-আমিন বখাটে মাহফুজকে তার বাড়ির সামনের একটি চায়ের দোকান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।


আরো সংবাদ