২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন

-

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে এখন বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মনির খলিফার মেয়ে নির্যাতিত গৃহবধূ সুমা বেগম লিখিত অভিযোগে জানান, ৪ বছর আগে একই উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের চেংগুটিয়া গ্রামের মৃত আ. আজিজ ঘরামীর ছেলে মো. মিরাজুল ইসলামের সাথে সামাজিকভাবে নগদ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক, ও ¯¦র্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপঢৌকন দিয়ে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরেই মিরাজুল ঢাকায় তার ব্যবসা সম্প্রসারণ ও যাতায়াতের জন্য একটি মোটর সাইকেল কিনতে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে স্ত্রী সুমা তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সুমার উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। এদিকে সু-কৌশলী মিরাজুল স্ত্রী সুমাকে ঢাকায় নিয়ে বসবাসের কথা বলে ওই বাসার জন্য আসবাবপত্র কিনতে টাকা চেয়ে স্ত্রী সুমার উপর চাপ সৃষ্টি করে। সুমাকে ঢাকায় নিয়ে মিরাজুল তাকে গার্মেন্টসে চাকুরী করার জন্য বাধ্য করে। অন্যথায় সুমার সাথে সে সংসার করবে না বলে জানিয়ে দেয়। সংসার টিকিয়ে রাখতে স্বামীর ইচ্ছায় সুমা গার্মেন্টেসে চাকুরী নিয়ে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা স্বামী মিরাজুলের হাতে তুলে দিত। প্রায় এক বছর চাকুরীর পর সুমা অন্তঃস্বত্তা হলে শারীরিক কারণে চাকুরী ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। সুমা চাকুরী ছাড়ায় মিরাজুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেদম মারধর করে। মারধরের কারণে সুমার ৩ মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। মারধরের ঘটনা সুমা তার বাবার পরিবারকে জানালে বাবার পরিবার থেকে সুমাকে উদ্ধারের জন্য ঢাকায় গেলে মিরাজুল ও তার ভাই সিরাজুল সেখানে এক শালিশ বৈঠক ডাকে। সেখানে যৌতুকের জন্য আর কখনও সুমাকে মারধর করবেনা মর্মে সিদ্ধান্ত হলে সুমা মিরাজুলের সাথে সংসার করার সিদ্ধান্তে রাজি হয়। এর কয়েক দিন পরেই মিরাজুল তার পূর্বের চেহারায় ফিরে যায়। পূর্বের দাবীকৃত ২ লাখ টাকা না দিলে মিরাজুল সুমাকে তালাক দিয়ে তার প্রেমিকা খাদিজাকে বিয়ে করার কথা জানিয়ে দেয়। সুমার দরিদ্র বাবার পরিবার থেকে এত টাকা জোগার করা সম্ভব নয় জানালে মিরাজুল যৌতুকের দুই লাখ টাকার জন্য ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে ওড়না দিয়ে হাত পা বেঁধে সুমাকে বেদম মারধর করে স্বামী মিরাজুল। এসময় স্বামী মিরাজুল সুমার এইসএসসি’র সার্টিফিটেসহ সকল সার্টিফিকেটের মুল কপি আটকে রেখে তাকে ডিভোর্স দিতে বলে, অন্যথায় সার্টিফিকেট ফেরত দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। সুমার ডাকচিৎকারে বাড়ির মালিক ও অন্য ভাড়াটিয়ারা এগিয়ে এসে সুমাকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে সুমার বাবা মা তাকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা করিয়ে বাবার বাড়িতে এনে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। নির্যাতিত সুমা আরও জানায়, তাদের বিয়ের পরে প্রতারণা করে মিরাজুল গৌরনদী উপজেলার রাজাপুর গ্রামে বিয়ে করে। প্রাণ বাঁচাতে সুমা বর্তমানে তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে শুক্রবার লিখিত অভিযোগে সুমা তার উপর অন্যায় অবিচারের জন্য বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, আইন সহায়তা কেন্দ্র ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।


আরো সংবাদ