১৪ নভেম্বর ২০১৮

একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম

-

গলাচিপা উপজেলার দক্ষিণ বলইবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট রয়েছে। একজন শিক্ষক দ্বারা সব শ্রেনির পাঠদানের কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়রা শিক্ষা অফিসে বার বার আবেদন জানালেও কোনো শিক্ষক দেননি। ফলে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গলাচিপা উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে ৬২টি এবং সহকারী শিক্ষক পদ খালি রয়েছে ৭২টি। দক্ষিণ বলইবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বলইবুনিয়া গ্রামের অবস্থিত। যা পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলা হলদিয়া ইউনিয়নের সীমানা ঘেষা। গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে বিদ্যালয়ে মাত্র একজন শিক্ষককে ১১১ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস নিতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, শিক্ষক সংকট এ বিদ্যালয়ের একটি মারাত্মক সমস্যা। উপজেলা সদর থেকে তুলনামূলক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় কোনো শিক্ষকই এখানে বেশি দিন থাকেন না। এ কারণে শিশুদের পড়াশোনা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় অভিভাবকদের। গত বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষক উত্তম চন্দ্র মন্ডল বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করছেন। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ফয়সাল জানায়, এভাবে সবাইকে এক জায়গায় বসিয়ে ক্লাস করানোর কারণে পড়া বুঝতে কষ্ট হয়।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহানের মা ইয়ানুর বেগম বলেন, স্কুলে শিক্ষক নেই। তাই মেয়ের পড়াশোনাও তেমন হচ্ছে না। অন্য স্কুল দূর হওয়ায় সেখানে দেওয়া সম্ভব না। দেড় বছর ধরে শুনছি নতুন শিক্ষক আসবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক আসে নাই। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।’
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষক উত্তম চন্দ্র মন্ডল জানান, তিনি গলাচিপা সদর থেকে বিদ্যালয়ে আসেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদান ছাড়াও সব রকমের দাপ্তরিক কাজও তাঁকে করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় একই ইউনিয়নের অন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষককে ওই বিদ্যালয়ে পাঠদান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে। কিন্তু তাঁরাও এখন আর আসছেন না।
এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের কথা আমার জানা আছে। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ায় অল্প দিনের মধ্যেই বিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করব।

 

 


আরো সংবাদ