২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কুয়াকাটায় ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ জেলেপরিবারে কান্নার রোল

নিখোঁজ জেলে ছিদ্দিকের পরিবার -

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় গত ৫ সেপ্টেম্বর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হওয়ায় গভীর সমুদ্রে দুটি মাছ ধরা ট্রলার ডুবির ঘটনায় আট দিন পার হলেও নিখোঁজ সাত জেলের সন্ধান মেলেনি আজো। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে তাদের স্বজনরা মৎস্যবন্দরের আড়ৎ পল্লীর বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ওইসব জেলেপল্লী ঘুরে দেখা গেছে, স্বজনদের ফিরে পেতে তাদের আহাজারী ও কান্নার রোল। স্বজন হারানো বেদনা নিয়ে ফিরে আসার প্রত্যাশায় অপেক্ষমান হৃদয়বিদারক দৃশ্যে এখানে শোকের ছায়া নেমে আসছে।

নিখোঁজ জেলে ছিদ্দিকের বাড়ি গেলে দেখা যায় করুণ দৃশ্য। ছিদ্দিকের সাড়ে তিন বছরের কন্যা সামিরা শুধু বাবা বাবা করছে। বাবা ফিরে আসবে, মজা খাবে আরও কত কী। কিন্তু বাবা ফিরে আসবে কি আসবে না, জীবিত আছে না মৃত কেউ জানে না। শুধু অপেক্ষার প্রহর।

জেলে ছিদ্দিকের স্ত্রী শারমিন অশ্রুবিজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমি আমার স্বামীকে ট্রলারে যেতে দিতে চাইনি, ট্রলার মালিক জোর করে নিয়ে গেছে। আর এখন তার কোনো খোঁজ-খবর পর্যন্ত নিচ্ছে না। আমি কিচ্ছু চাই না, আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই।’

মা পরি বানুর একই কথা- ‘কিছুই চাই না আমার সন্তান চাই, আমার সন্তান চাই, আমার সন্তান চাই।’

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকাল থেকে হঠাৎ গভীর সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠে। প্রচন্ড ঢেউয়ের মধ্য দিয়ে তীরে ফিরে আসার সময় মহিপুরের নজিবপুর এলাকার এফবি ইলিয়াছ এবং লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আনছার উদ্দিন মোল্লার মালিকানাধীন এফবি মারজিয়া আক্তার রিমা নামের মাছ ধরা দুটি ট্রলার বুধবার গভীর রাতে মাঝি-মাল্লাসহ সুন্দরবন সংলগ্ন সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়।

এসময় নজিবপুর এলাকার এফবি ইলিয়াছ ট্রলারের ১৩ জেলের মধ্যে ছয়জন অন্য একটি ট্রলারের সাহায্যে তীরে ফিরে আসে। তবে ট্রলারডুবির দু’দিন অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ সাত জেলের সন্ধান মেলেনি আজো।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন- মাঝি মনির হাওলাদার (৩২), কাদের (৫৫), ইব্রাহিম (৪৫), মাহাবুব (২৬), ছিদ্দিক (২৮), ফাইজুল (২৮) ও জাহিদ (২৭)। নিখোঁজ জেলে জাহিদের বাড়ি বরগুনা জেলার খাকবুনিয়া এবং অন্যদের বাড়ি মহিপুরের নজিবপুর এলাকায় বলে জানা যায়।

অপরদিকে এফবি মারজিয়া আক্তার রিমা ট্রলারের ১৭ জেলে আরেকটি ট্রলারের সাহায্যে মৎস্যবন্দর আলীপুর নিয়ে এলেও নিমজ্জিত ট্রলার দু’টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নজিবপুর এলাকার এফবি ইলিয়াছ ট্রলারের মালিক মো: ইলিয়াছ বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, কোনো সন্ধান মেলেনি। এখনো চেষ্টা চালাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও ডেমরাঘাট শাখার সভাপতি, বাংলাদেশ জাহাজী ফেডারেশনের কার্যকরী সদস্য মো: জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি ও আমার সংগঠনের পক্ষ থেকে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানের জন্য শক্তিশালী নৌ-যান ব্যবহার তথা নিখোঁজ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা বললে কতিপয় লোক বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।’

এব্যাপারে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে আমরাও তৎপর আছি। বর্তমানে পায়রা বন্দর সংলগ্ন এলাকায় আছি। বিশেষ করে ট্রলারের প্রত্যেক জেলেদের লাইফবয়, জ্যাকেট নিশ্চিত করে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme