২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলছাত্রীর উপর বর্বর আক্রমণ

অপরাধ
তুলিকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে নাঈম - ছবি : নয়া দিগন্ত

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার প্রেম প্রত্যাখান করায় তুলি আক্তার (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে নাইম (১৯) নামে এক বখাটে।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৯টার দিকে কুয়াকাটার অদূরে ধূলাসার মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তার উপরে।

স্কুল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নিজাম হাওলাদারের কন্যা ধুলাসার মাধ্যমিক বিদ্যালয় নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত তুলি আক্তার (১৪) প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ধূলাসার আলহাজ্ব জালাল উদ্দিন কলেজ সংলগ্ন একটি দোকানের সামনে এলে বখাটে নাইম তুলিকে প্রেমসহ কুপ্রস্তাব দিলে তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে সে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসী নাইম তার সাথে থাকা ছুরি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে তাকে।

তুলির ডাক চিৎকারে অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা এসে তুলিকে উদ্ধার করে এবং নাইমকে আটক করে পুলিশে দেন।

তুলির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তার অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রথমে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স এ চিকিৎসা সেবা দেন। পরে তার অবস্থা আরো অবনতি দেখে তাকে বরিশাল শেবাচিমে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে সে এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

বখাটে নাইম ধুলাসার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছে।

এ ব্যাপারে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান গতকাল বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং নাইমকে আদালতে পাঠানো হবে।

আরো পড়ুন :
বড় বোন প্রেম প্রত্যাখান করায় জীবন গেল ছোট বোনের
এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর), ২৮ জুন ২০১৮
যশোরের চৌগাছায় মাদ্রাসা ছাত্রী শর্মীলা হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকার তথ্য বেরিয়ে এসেছে। হত্যার পর লাশের মাথার চুলসহ অনেক কিছুই কেটে তা মাটিতে পুতে ফেলা হয়। লাশ বাড়িতে এনে পেট চিরে বের করা হয় নাড়ি ভুড়ি । এরপর লাশ বস্তা বন্দি করে ঘরের বারন্দায় থাকা বড় টিনের সাব-বাক্সে লুকিয়ে রাখা হয়। হত্যার চার দিন পর লাশ ওই বাক্স থেকে বের করে হত্যাকরীরা শিশুটির বাড়ির পাশেই তৈমুরের আমবাগানে ফেলে রেখে আসে ।

স্বজনরা জানান,বড় বোন খুনির প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ছোট বোন শিশু শর্মীলাকে জীবন দিতে হয়েছে । এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ৬ জন গ্রেফতার হলেও ১ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। এদিকে তবে নিহত শিশুর পিতা ও মামলার বাদি হাফিজুর রহমান বলেন গ্রেফতারকৃত ছয়জনকেই আসামী করে মামলা করেছেন। জানাযায়, মাদ্রাসা ছাত্রী শর্মিলা খাতুন (১০) নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর তার অর্ধগলিত লাশ বাড়ির পাশেএকটি আমবাগান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে নির্মম এই হত্যাকান্ডের ৭ দিন পর চাঞ্চল্যকার সব তথ্য বের হতে শুরুকরেছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিন এলাকায় গেলে এ সকল তথ্য পাওয়া যায়। নিহতের পরিবারসহ এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, নিহত শিশু শর্মিলার বড় বোন হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী উর্মিলা খাতুনকে (১৩) জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে ফটকা মুন্সির বখাটে ছেলে রাজু প্রেম প্রস্তাব দেয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে উভয় পরিবারের মধ্যে গোলযোগের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় রাজু তাদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।

এই ঘটনার প্রায় ১ মাস পর গত ২২ জুন সন্ধ্যায় উর্মিলার ছোট বোন শর্মিলাকে আম দেয়ার নাম করে রাজু ও তুষারের ছেলে নাহিদ আম বাগানে ডাকে। শর্মিলার পরিবারের দাবি রাজু ও নাহিদ তাকে ধর্ষন করে। সে চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করলে তার শ্বাসরোধ করা হয়। একপর্যায় শর্মিলার মৃত্যু হলে ঘটনাটি রাজু তার পিতা জাহাঙ্গীরকে বলে। এ সময় জাহাঙ্গীর তার ছেলে রাজু ও রাজুর বন্ধু নাহিদকে বকাবকি করেন। লাশ কি করবে কোথায় রাখবে, মৃত্যু ঘটনাটি কিভাবে ধামাচাপা দেয়া যাবে এ নিয়ে তারা বেসামাল হয়ে পড়ে।

জানা যায়, ঘটনার প্রায় ৩ ঘন্টা পর রাত ৯ টার দিকে জাহাঙ্গীর আম বাগান থেকে লাশ নিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে শর্মিলার লাশ নিয়ে এসে ঘরের বারান্দায় রাখা হয়। এরপর লাশের পেট কেটে নাড়ি ভুড়িসহ মাথা ও হাত পায়ের মাংস কেটে ফেলে জাহাঙ্গীর। পরবর্তীতে লাশ পলিথিন বন্দি করে ঘরের বারান্দায় রাখা বড়টিনের সাব-বাক্সে রাখে। তাদের ধারনা লাশের মাংস ও নাড়ি ভুড়ি বের করলে গন্ধ ছড়াবেনা। কিছু দিন পর শুকিয়ে যাওয়া কংকাল কোথাও ফেলে রেখে আসবে। কিন্তু ঘটনার ৪ দিন পর পচা দূর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে সন্ধ্যার পরে লাশ বাক্স থেকে বের করে পাশেই আম বাগানে ফেলে তা লতা-পাতা দিয়ে ঢেকে রাখে। যে ঘরের বারান্দায় শিশুটিকে কাটা ছেড়া করা হয় ওই ঘরের বান্দায় এখন রক্তের দাগ ছাপ লেগে রয়েছে। বাড়িটি থেকে পচা দূর্গন্ধ ও ব্যাপক কেরসিন তেলের গন্ধ বের হচ্ছে। এলাকাবাসী ধারনা করছে জাহাঙ্গীর একাই শিশুটিকে এ ভাবে কাটা ছেড়া করে বাক্স বন্দি করেছে।

স্থানীয়রা বলছেন জাহাঙ্গীর গ্রামের বসবাস করছেন ২ বছর ধরে। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরের ফতেপুরের সাড়াতলা গ্রামে। জাহাঙ্গীরকে বুধবার আটক করা হলেও মামলায় আসামী করা হয়নি। অন্যদিকে তার স্ত্রী এখনও পালাতক।

এলাকাবাসি জানান, ফতেপুর গ্রামের দুটি হত্যা মামলার আসামী এই জাহাঙ্গীর। দীর্ঘদিন সে ঢাকাতে আগোপনে থেকে কসাই এর কাজ করত। প্রায় দুই বছর আগে সে চৌগাছার হাকিমপুর ইউনিয়নের আজিজুর রহমানের সাথে পরিচয় হয়। তার বাড়িতে কাজ করার কথা বলে সে ওই ইউনিয়নে আসে। আজিজুর রহমানের ফকিরাবাদ গ্রামের আম বাগানে কিছু জমি নিয়ে সে একটি টিন সেটের বাড়ি বানিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করে এবং আজিজুরের পরিবারের কাজ করে।

প্রতিবেশি ফজলুর রহমান, সাজিদা বেগম, আলিমুন নেছা, আব্দুল কুদ্দুস, কলেজ ছাত্র আল আমিন, মিরাজুল ইসলাম জানান, শর্মিলা নিখোঁজ হলে আমরা যখন সকলে তাকে খুজতে থাকি তখন আটক সকলেই আমাদের সাথে খুজতে থাকে। এমনকি জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ির পিছনে একটি পুকুর আছে আমরা সকলেই রাতে ওই পুকুরে শর্মিলাকে খুজতে যাই। ধারণা করছিলাম হয়ত পুকুরের পানিতে ডুবে যেতে পারে। পুকুরেও হত্যাকরীরা আমাদের সাথে খুজতে নামে। শর্মিলার লাশ পাওয়ার পর আত্মীয় স্বজন আসতে থাকে। গ্রামের লোকজনের আত্মীয়-স্বজনদের খাবার রান্নার কাজেও হত্যাকারীরা সহযোগিতা করেছে। এ সবই তাদের লোক দেখানো ছিল বলে এখন বুঝতি পারছি।

নিহত শিশুর মা জাহানারা বেগম ওরফে জানু, চাচি শিউলী বেগম, চাচা আজিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিশোধ নিতেই তারা পরিকল্পিত ভাবে আমার সন্তানকে হত্যা করেছে। এই হত্যাকান্ডের আমি আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই। শর্মীলার লাশ উদ্ধারের একদিন পর বুধবার বিকেলে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বিলধরা গ্রামের তবির আলীর ছেলে এ ঘটনার প্রধন অভিযুক্ত তজিবর রহমানকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়াতথ্যে চৌগাছা উপজেলার ফকিরাবাদ গ্রামের আবু বক্করের ছেলে জাহাঙ্গীর (৪৮), তার পুত্র রাজু (১৪), জাহাঙ্গীরের জামাই ও জলিল ওরফে ভাষনের ছেলে সুমন (৩২), জাহাঙ্গীরের বোন-জামাই ও রফিকুলের ছেলে তুষার (৩২) এবং তুষারের ছেলে নাহিদকে (১৩) আটক করে পুলিশ। ওই রাতেই নিহত শিশুর পিতা বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলা নং ২৪, তারিখ-২৭-০৬-২০১৮। মামলায় মেহেরপুরের তজিবর রহমানকে আসামী করা হয়। গ্রেফতার বাকি পাঁচজনকে আসামী করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার আসামী তজিবর রহমানকে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে নিহত শিশুর পিতা হাফিজুর রহমান ওরফে কালু বলেন, পুলিশ রাতে আমাকে বাড়ি থেকে ডেকে থানায় নিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর করে নেয়, বলে মামলা করা হচ্ছে। মামলায় একজনকে আসামী করা হয়েছে তা আমাকে জানানো হয়নি। আমি ভভিযুক্ত সকলকেই আসামী করেছি বলে জানি।

এ ব্যাপারে চৌগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ খন্দকার শামীম উদ্দিন বলেন, ঘটনার সাথে তজিবর রহমান নিজে জড়িত তার স্বীকারোক্তিতে তাকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে এবং জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।


আরো সংবাদ