১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ

-

ইলিশ মওসুম আসলেই সাগর উপকূলে চলে জেলেদের মহা কর্মযজ্ঞ। কিন্তু প্রতি বছরের তুলনায় এবছর সাগর উপকূলের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। মওসুম শুরু হওয়ার পরও প্রায় দুই মাস সাগরে ইলিশের আকাল ছিল। চিন্তিত হয়ে পরেছিল জেলে পরিবার। মওসুমের মাঝামাঝি সময় এসে হঠাৎ দুই সপ্তাহ ধরে উপকূলীয় জেলেদের জালে ধরা পরছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। এতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া ও মহিপুর মৎস বন্দরের জেলেদের মুখে খুশির ঝিলিক লেগেছে। ইলিশ বেশি পাওয়ায় দামও কমে আসছে, এতে ক্রেতারাও স্বস্তিতে আছেন। জেলেরা জানান, বঙ্গোপসাগরে এখন যেভাবে ইলিশ ধরা পরছে, এভাবে এক মাস চলতে থাকলে পিছনের দুই মাসের লোকসান ও দাদনের ঋণ শোধ করতে পারবেন তারা।

জানা গেছে, ১৫ জ্যৈষ্ঠ থেকে ১৫ আশ্বিন পর্যন্ত এ চার মাস ইলিশের মওসুম। এবং আষাঢ়ের প্রবল বর্ষায় শুরু হয় ভরা মওসুম। বিগত বছর গুলোতে এ সময় জেলেদের জালে ধরা পরত ঝাঁকে ঝঁকে ইলিশ। পটুয়াখালীর উপকূলীয় জেলেরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ রাপ্তানী করত। এছাড়াও স্থানীয় হাট বাজারগুলোতে বিক্রি হত প্রচুর পরিমাণ ইলিশ। জেলেরা তাদের জালে যে পরিমাণ ইলিশ মাছ পেত তা দিয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আনা দাদনের টাকা অথবা বিভিন্ন এনজিও থেকে আনা ঋণ পরিশোধ করেও সাচ্ছন্দে জীবন যাপন করত জেলে পরিবারগুলো। কিন্তু এবছরের চিত্রটা ছিল একটু ভিন্ন। মওসুমের শুরু থেকে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ মাছ ধরা পরেনি। মাঝামাঝি সময় এসে গত দুই সপ্তাহ ধরে জেলেদের জালে ধরা পরছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ।

রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ এলাকার জেলে আইয়ুব মাঝি, তোফাজ্জেল সরদার, আব্দুল মাঝি, নিজাম মাঝি ও হাসান মাঝি জানান, দেড়-দুই মাস ধরে ফিশিং বোট নিয়ে সাগরে পড়ে আছি। কিন্তু আশানুরূপ ইলিশ পাইনি। যা পেয়েছি তা দিয়ে তেল খরচ উঠনোই দায় ছিল। অনেক সময়ই খালি ট্রলার নিয়ে সাগর থেকে ফিরতে হয়েছে। হাঠাৎ গত দুই সপ্তাহ ধরে সাগরে প্রচুর ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে ইলিশ ধরা পরলে দাদনের ঋণের টাকা শোধ করেও আমরা পরিবার নিয়ে সুন্দার ভাবে জীবন যাপন করতে পারবো।

রাঙ্গাবালী উপজেলার গঙ্গীপাড়া গ্রামের জেলে জসিম কাজি জানান, রাঙ্গাবালী উপজেলায় দুই শ্রেণীর জেলে রয়েছে। এক শ্রেণীর জেলে উপজেলার দারছিরা, আগুনমুখা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে মাছ ধরে। আর অন্য এক শ্রেণীর জেলে গভীর সাগরে গিয়ে মাছ শিকার করে। গত দুই মাসে কারও জালেই তুলনামূলক ইলিশ ধরা পরেনি। বর্তমানে এখানকার জেলেরা প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাচ্ছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালীয়া গ্রামের জেলে জামাল মৃধা জানান, সাগরে প্রচন্ড ঢেউ আর দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিগত দুই মাস ইলিশ কম ধরা পরেছে। প্রচন্ড ডেউয়ের তোড়ে জেলেদের ট্রলার ডুবির ঘটনাও ঘটেছিল। এখন আবহাওয়া অনুকূলে আসায় জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন খান জানান, রাঙ্গাবালী উপজেলার অধিকাংশ মানুষ জেলে পেশায় নিয়োজিত। সাগরের মাছই তাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র ভরসা। সাগরে মাছ ধরা পড়লে এখানকার মানুষের মুখে হাঁসি থাকে। হাট বাজার জমজমাট থাকে। আর সাগরে যদি ইলিশ ধরা না দেয় তাহলে এখানে দুর্দিন লেগে যায়। যেটা হয়েছিল গত দুই মাসে। সাগরে এখন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। এভাবে আরো এক মাস প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ




Hacklink

ofis taşıma