২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সংযোগের আগেই বিদ্যুৎ বিল!

বিদ্যুৎ
প্রতিকী ছবি - ছবি: সংগৃহীত

ছয়মাস আগে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার জন্য স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসে আবেদন করেছিলেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনচর জাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা হনুফা বেগম। গত দুইমাস ধরে বসতঘর পর্যন্ত বিদ্যুতের তার ঝুঁলিয়ে রাখলেও দেয়া হয়নি সংযোগ।

বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলেও গত জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল পাঠিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ। ভূতুড়ে এ কান্ডটি ঘটিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেলার গৌরনদী জোনাল অফিস। এছাড়াও জুলাই মাসে ওই এলাকার সহ¯্রাধিক গ্রাহককে মনগড়াভাবে ভূতুরে বিল পাঠানো হয়েছে বলেও গ্রাহকরা অভিযোগ করেন।

বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়েও বিল পাওয়া নতুনচর জাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ মোল্লার স্ত্রী হনুফা বেগম জানান, বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও জুলাই মাসে তাকে ৭৮ টাকার বিল পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তিনি জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে তাকে জানিয়ে দেয়া হয় বিল পরিশোধ করতে। এতে স্থানীয়ভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি জানার পর বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার খালেদ হোসেন স্বপন পল্লী বিদ্যুত সমিতির জেলারেল ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করার পর গত চারদিন আগে হনুফা বেগমের বসতঘরে মিটার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হলেও ভূতুড়ে বিলের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি।

ওই গ্রামের মৃত আবুল হোসেন হাওলাদারের পুত্র কবির হোসেন অভিযোগ করেন, আগে প্রতিমাসে তার বসতঘরে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা হারে বিদ্যুৎ বিল আসলেও জুলাই মাসে তার কাছে পাঠানো বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৪৮০ টাকা। তিনি আরও জানান, স্থানীয় মসজিদে প্রতিমাসে ৮০ থেকে ৯০ টাকা বিল আসলেও জুলাই মাসে সেখানে বিল পাঠানো হয়েছে ১৮০ টাকা। এভাবেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গৌরনদী জোনাল অফিস থেকে ওই এলাকার সহ¯্রাধিক গ্রাহককে মনগড়াভাবে ভূতুড়ে বিল পাঠানো হয়েছে বলেও গ্রাহকরা অভিযোগ করেন। ফলে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পল্লী বিদ্যুৎ গৌরনদী জোনাল অফিসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব উপজেলার সরিকল বিদ্যুৎ অফিসের। তারাই ভালো বলতে পারবেন, কি হয়েছে।

এ ব্যাপারে সরিকল বিদ্যুত অফিসের প্রধান মো: গিয়াস উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন :
রাজারহাটে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
মাহবুবার রহমান, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম), ০৫ মে ২০১৮
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র। টাকা না দেয়ায় বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন গেলেও সংযোগ পায়নি অনেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন মাসের মধ্যে রাজারহাটের শতভাগ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর কাজ করছে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এই সময়ের মধ্যে উপজেলায় ২৯ হাজার ১৭৫টি পরিবারের মাঝে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করবে সমিতি।

অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার লক্ষ্যে ডিজাইন তৈরির সময় থেকেই উপজেলার হরিশ্বর তালুক ও তালুক আষাঢ়ু গ্রামসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণে আগ্রহীদের কাছ থেকে টাকা আদায় শুরু করে দালাল চক্র। এ সময় তাদের দাবিকৃত টাকা ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে না, এমনকি টাকা না দিলে ডিজাইনে তাদের বাড়ির পাশ দিয়েও বিদ্যুতের লাইন যাবে না বলে জানানো হলে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য গরু-ছাগল ও ধান-চাল বিক্রি করে এবং অনেকে জমি বন্ধক রেখে টাকা প্রদান করেন।

উপজেলার হরিশ্বর তালুক গ্রামে ৫৭৩টি পরিবারের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণকারীরা জানান, গ্রামের সাবেক শহিদুল মেম্বারের নেতৃত্বে লতিফ মোল্লা, আজগর মোল্লা ও সাত্তার মুন্সি পল্লী বিদ্যুতের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে আসছেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ার কারণে হরিশ্বর তালুক (কদম তলা) গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান, গ্রামের নুরজামাল, আবু তালেব, আনোয়ার, খলিলসহ অনেকে। একই গ্রামের সাহেব আলী, মতিয়ার রহমানসহ নতুন সংযোগ গ্রহণকারী অনেকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, সংযোগের জন্য প্রত্যেকে চার থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত ওই দালাল চক্রকে দিতে হয়েছে। দক্ষিণ পাড়ার মণি, রহিম, মমিন, নুর ইসলাম, খলিল পূর্বপাড়ার মিজানুর, মজনু, সিরাজুল, জামাল, রহমান, নজরুলসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা জানান, দালাল চক্রের লিডার শহীদুলের নেতৃত্বে ওই চক্রটিকে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য চার থেকে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত দেয়ার অভিযোগ করেন।

এদিকে উপজেলার তালুক আষাঢ়ু (বেদারজাল) গ্রামের নুরু মিয়া অভিযোগ করেন, পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ প্রদানের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাথে দালাল চক্রের যোগসাজশ রয়েছে, দালাল রাঙ্গা মিয়া অন্যদের মতো আমার কাছেও বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছিল কিন্তু আমি টাকা দিতে না পারায় আমার বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন গেলেও আমাকে সংযোগ দেয়া হয়নি। একই অভিযোগ ওই গ্রামের সাহের আলী ও আখের আলীসহ অনেকের।

তালুক আষাঢ়ু গ্রামের রাজ্জাক, মকবুল, ছফর, মাইদুল, আয়নালসহ শতাধিক ব্যক্তি জানান, পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ প্রদানকারী কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে দালাল রাঙ্গা মিয়ার যোগসাজশ থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বাধ্য হয়ে সর্বনিম্ন চার হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। বিদ্যুতের পোল থেকে তাদের বাড়িতে তার লাগানো হলেও আরো টাকার জন্য সংযোগ দিতে টালবাহানা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এই গ্রামে ২০৫টি পরিবার নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার কথা।

অপর দিকে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ গ্রামের সাইফুল নামে এক দালালের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের নামে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইভাবে উপজেলার চাকিরপশার, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, বিদ্যানন্দ, উমর মজিদসহ প্রতি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে হরিশ্বর তালুক গ্রামের দালাল চক্রের হোতা শহীদুল জানান আমি ওই এলাকার সাবেক মেম্বার খুঁটি লাগানোর সময় বিভিন্ন সমস্যা হয়েছিল আমি সমাধান করেছি, খুঁটি বসানো কাজের শ্রমিকদের খরচা বাবদ স্থানীয় লোকজন কিছু টাকা উত্তোলন করে। তালুক আষাঢ়ু গ্রামের দালাল রাঙ্গা মিয়া সংযোগ প্রদানের নামে টাকা গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ: রাশেদুল হক প্রধান জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে, আমি হরিশ্বর তালুক গ্রামে খোঁজ খবর নিয়ে দেখব।

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের জিএম স্বদেশকুমার ঘোষ জানান, দালালদের কাছে টাকা দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, আমরা প্রচার করেছি, রশিদ ছাড়া টাকা না দেয়ার জন্য। তবে আমাদের লোকজন যদি জড়িত থাকে আমাকে জানালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।

শেরপুরে বিদ্যুৎ সংযোগে সাড়ে ৯ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা, ৩১ মে ২০১৮
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের হুসনাবাদ গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে এলাকার টাউট-বাটপারেরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সংযোগে কালক্ষেপণ করায় গত সোমবার রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ইউপি সদস্যসহ উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা যায়, সরকারের প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিনামূল্যে প্রতিটি ঘর বিদ্যুতায়িত করার অংশ হিসেবে উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের হুসনাবাদ গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ অনুকূলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে বিগত দুই বছর আগে থেকে প্রায় ১২০টি পরিবারের কাছ থেকে হাউজ ওয়্যারিং ও জামানতসহ ৯ হাজার ৩০০ টাকা করে আদায় করেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আনছার আলী ও তার সহযোগীরা। প্রায় দুই-তিন মাস যাবৎ ওই এলাকার বিদ্যুৎগ্রাহক পরিবারে হাউজ ওয়্যারিংসহ খুঁটির লাইনে তার ও মিটার লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু গ্রাহকেরা এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় গ্রাহকদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আর এই সুযোগ বুঝেই একই এলাকার আরেক টাউট দুলাল হোসেন দুলু ওই ইউপি সদস্য আনছারের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করার একপর্যায়ে গত সোমবার রাত অনুমান ৮টার দিকে ইউপি সদস্য আনছার আলীর ছেলে সুমন গ্রামের দোকানে বসে চা খাওয়ার সময় ইকবাল নামের গ্রাহকের সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনাটি গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উভয়ের পক্ষের লোকজনের মধ্যে লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষ বাধে।

এ ব্যাপারে বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শরিফুল আলম বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো টাকা আদায়ের নিয়ম নাই। আমার কথা বলে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তার দায়িত্বেই নিয়েছে। এ কাজের জন্য কোনো টাকা গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন ওই ঠিকাদার।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে বগুড়া পল্লী বিদ্যুতের নির্বাহী প্রকৌশলী খাদেমুল ইসলামের ০১৭১১ ৪৪১১৫৬ একাধিকরার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।


আরো সংবাদ