২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বরিশাল সিটি নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী পাচ্ছেন ২০ দলের সমর্থন!

বরিশাল সিটি নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী পাচ্ছেন ২০ দলের সমর্থন! - ছবি : সংগৃহীত

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ২০ দলীয় জোটের সমর্থন প্রত্যাশা করছে জামায়াতে ইসলামী। সে লক্ষ্যে তারা গত কয়েক মাস যাবত মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী সিলেকশন করে নগরীর প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিজস্ব নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন পেশাজীবীদের সাথে দফায় দফায় মতবিনিময় সভা করছেন তারা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিগত নির্বাচনগুলোতে জামায়াতে ইসলামী জোটের স্বার্থে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে গেলেও এবার আর তেমনটি থাকছে না। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তের আলোকে এখানে জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।

জামায়াতে ইসলামীর মহানগর শাখা নায়েবে আমির ও দলের সিটি নির্বাচন সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু বলেন, ‘আমরা বরিশালে এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা প্রত্যাশা করব ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এবার আমাদের প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হবে। কারণ, জোটের স্বার্থে আমরা বিগত নির্বাচনগুলোতে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছিলাম। এবার আমরা বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিকদের সমর্থন চাই।

অধ্যক্ষ খসরু বলেন, দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়ে আছেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জননেতা অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। নির্বাচন কমিশন থেকে দলীয় প্রতীকে আমাদের প্রার্থিতা গ্রহণ করা না হলে আমরা স্বতন্ত্রভাবে একক নির্বাচন করব।’ নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী কমিটি রয়েছে দাবি করে অধ্যক্ষ খসরু আরো বলেন, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের সভাপতি সম্পাদকরা মতামত দিয়ে আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন। মেয়র পদ ছাড়াও নগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামী তাদের কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বরিশাল ২০ দলীয় জোটের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত ১০ বছরে রাজনৈতিক কারণে প্রায় ১৮টি মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। পেশাদার আইনজীবী হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে বিএম কলেজ ছাত্রসংসদ (বাকসু) নির্বাচনে ভিপি এবং ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে পরিবহন সম্পাদক পদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।

এদিকে গত ২৯ মে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাসহ বিভিন্ন সেক্টরের পেশাজীবীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে বরিশাল মহানগর জামায়াত। এসব সভায় মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলালের পক্ষে কাজ করার জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র কমিটিও গঠন করা হয়। একই সাথে নগরীর পাঁচটি ওয়ার্ডে নিজেদের কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।


আরো পড়ুন :
বসে নেই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা
মঈন উদ্দিন খান

ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মাহবুবুল হাসান পিঙ্কু। ঈদকে সামনে রেখে এক সপ্তাহ আগেই চলে গেছেন এলাকায়। নেতাকর্মীদের সাথে ইফতার, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো আর ঈদের খুশি বিনিময়ই তার মূল লক্ষ্য। তবে এ সবকিছুই নির্বাচনী গণসংযোগেরই অংশ বলে জানান তিনি। যুবদল নেতা পিঙ্কুর মতো আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক পেতে ইচ্ছুক বেশির ভাগ নেতাই এবার নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। কেউ এলাকায় চলে গেছেন, কেউ যাবেন আজ-কালের মধ্যে। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী তরুণ নেতারা এ ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয়। তারা পুরো রমজানজুড়েই ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে গণসংযোগ চালিয়েছেন। ঈদেও থাকবে একই তৎপরতা।

এ বছরই একাদশ সংসদ নির্বাচন। আর একদিন পরই যে ঈদ আসছে, রাজনৈতিক দৃষ্টিতে সেটিকে তাই ‘নির্বাচনী ঈদ’ই বলছেন অনেকে। নানা হিসাব-নিকাশ ঝুলে থাকায় বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও প্রস্তুতি রয়েছে দলটির। আন্দোলন ও নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের এলাকায় সক্রিয় থাকার নির্দেশনাও রয়েছে কেন্দ্র থেকে। দলটির হাইকমান্ড নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে একাধিক জরিপের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে বাছাই করে রেখেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তার নিজস্ব উইং ব্যবহার করে ৩০০ আসনে দলের প্রার্থিতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে রেখেছেন। নির্বাচন এলে মাঠে লড়াই করে জয় তুলে আনতে পারবেন এমন প্রার্থীকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হবে বলে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন।

এমন অবস্থায় কেন্দ্রের গ্রিন সিগন্যাল পেতে নানাভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো যারা ধানের শীষ প্রতীক পেতে চান, তারা কাজ করছেন হরদম। সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি রাকিবুল করিম খান পাপ্পু নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে নানাভাবে কেন্দ্রের মনোযোগ আকর্ষে ণর চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবসময় নেতাকর্মীদের পাশে আছি। যদি দল আমাকে এই আসনের জন্য বেছে নেয়, তাহলে আমি তার প্রতিদান দিতে সক্ষম হবো।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির সহপ্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ বলেন, ঈদ-রমজানে যে ধরনের সাংগঠনিক তৎপরতা থাকে, সেটি চলছে। এলাকার অসহায় মানুষের মধ্যে জাকাতের কাপড় বিতরণ করা হয়েছে। তিনি এলাকায়ও যাবেন, সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে।

তরুণ নেতাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সহদফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি ফেনী-৩ আসনে, সহযুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ ঢাকা-৭, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ঢাকা-১২, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু লক্ষ্মীপুর-৪, বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীম সিরাজগঞ্জ-৫, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আওয়াল খান কুমিল্লা-৪, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তফা খান সফরী চাঁদপুর-৩, শেখ মোহাম্মদ শামীম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, সহদফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোর-১, যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান ঢাকা-১৪ এবং তরুণ ব্যবসায়ী নেতা বাহাউদ্দিন সাদী ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, বিএনপিতে এবার তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা শতাধিক। এদের সবাই নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পটুয়াখালী-৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন ঈদ করতে এলাকায় যাচ্ছেন জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের আশঙ্কা দূর না হলে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। সেই লক্ষ্যেই মাঠপর্যায়ে প্রচারণা এবং মানুষকে সংগঠিত করে গণআন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি আমরা।

ঢাকা-৪ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঢাকা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবীন বলেন, এলাকার জনগণই তার সুখ-দুঃখের উৎস। নেতাকর্মীসহ সবাইকে সাথে নিয়েই ঈদ করবেন তিনি। আর এতে করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে।
নেত্রকোনা-২ আসনে দলের মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা: আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, এলাকায় আছি। নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক সবার সাথে পৃথকভাবে ইফতার মাহফিল করেছি। নানাভাবে গণসংযোগ অব্যাহত রয়েছে। ঈদেও একই ধরনের ব্যস্ততা থাকবে।

নওগাঁ-৪ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা এম এ মতিন বলেন, নিজ উপজেলা মান্দায় রমজানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার কাজ চলছে। ঈদেও সেটি বজায় থাকবে।

ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মহানগর দক্ষিণের নেতা, ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতি শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, ঈদকে ঘিরে আসলে পৃথক কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। এলাকার সন্তান হিসেবে সবসময়ই সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের পাশে আছি। তারাও আমাকে ভালোবেসে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

নেত্রকোনা-৫ আসনে মনোনয়নের আশায় দীর্ঘ সময় ধরে সাংগঠনিক কাজ করছেন সাবেক ছাত্রনেতা শহীদুল্লাহ ইমরান। তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করাই আমার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।
ময়মনসিংহ-৯ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী তরুণ প্রবাসী ব্যবসায়ী মামুন বিন আব্দুল মান্নান বলেন, রমজানে ৭৯৫টি মসজিদে খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছি। ঈদেও নির্বাচনী গণসংযোগ অব্যাহত থাকবে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এবার বেশির ভাগ সিনিয়র নেতাই ঢাকায় ঈদ করবেন। ঈদের দিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে মহাসচিবের নেতৃত্বে ফুল ও দোয়া-মুনাজাতের পর নেতারা কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়াকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে জেল গেটে যাবেন। এরপর কেউ কেউ চলে যাবেন নিজ নিজ এলাকায়।

 


আরো সংবাদ