২২ জুন ২০১৮

ঈদবাজারে গাউন আর ভিনয়ের বাজিমাত

ঈদবাজারে গাউন আর ভিনয়ের বাজিমাত - ছবি : সংগৃহীত

জমে উঠেছে বরগুনা জেলার ঈদ বাজার। শিশু, নারী,-পুরুষের পদচারণায় সরগরম বিপণি বিতানগুলো। সবচেয়ে কদর বেশি ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি পোশাকের। ক্রেতারা তাদের পছন্দ মতো জামা, জুতা, পোশাক, প্রসাধনী ইত্যাদি ঈদপণ্য কিনছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ও তত বাড়ছে। এছাড়া পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত টেইলার্স কারিগররা। রাত জেগে তারা কাজ করছে। শহরের বড়বড় দোকানগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতের ছোট দোকানগুলোতেও উপছে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

জানাগেছে, ২০ রোজা থেকে ঈদ বাজার জমে ওঠেছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। ঈদ বাজারে ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানী পোশাকের চাহিদা বেশী। ভিনয় ফ্যাশন-১৮ ও গাউন মেয়েদের পোশাকটি প্রকার ভেদে ৩ হাজার ২ শ' থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরগুনায় ভিনয় পোশাক মানেই ঈদ আনন্দ।

মদন মোহন বস্ত্রালয়, সুবর্না ক্লোথ ষ্টোর, আকন বস্ত্রালয়, ইসলামিয়া বস্ত্রালয়, সিরাজ উদ্দিন বস্ত্রালয় নিউ মাতৃছোয়া বস্ত্রালয়সহ বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে ইন্ডিয়ান কান্দিবরন, হাফ সিল্ক, পার্টি শাড়ি, স্বর্ণকাতান, কারিনা, মমতাজ, ভিনয় ফ্যাশন-১৮, গাউন, পাকিস্তানী কামদানী, ফেরদৌস, লোন, লেহেঙ্গা, ফ্যান্সি শাড়ী, চায়না ঈদ কালেকশন, কাতান, টাঙ্গাইল, সিনথেটিক্স জামদানি, ঢাকাইয়া জামদানী, কুচি প্রিন্স শাড়ি, লংফ্রোগ ও ল্যাহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন দোকানের কয়েকজন সেলসম্যান জানান, ভিনয় ফ্যাশন-১৮ থ্রিপিস ও গাউন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। ভিনয় থ্রিপিস ৩ হাজার ২ শ' টাকা থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা রোজিনা বেগম বলেন, এ বছর পোশাকের ধরন বদলে গেছে এবং দামও অনেক বেশি। ভিনয় ফ্যাশনের একটি থ্রিপিস ১২ হাজার টাকায় ক্রয় করেছি। তিনি আরো বলেন, দাম একটু বেশি হলেও ভালো মানের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতা শামিমা নাসরিন বলেন, নিউ মাতৃছোয়া বস্ত্রালয় থেকে একটি কাতান শাড়ি ক্রয় করেছি।
নিউ মাতৃছোয়া বস্ত্রালয়ের পরিচালক জিএম মুছা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বিক্রি অনেক ভালো। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। সেলসম্যানদের ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আমতলী পৌর শহরের আকন বস্ত্রালয়, মদনমোহন বস্ত্রালয়, সিরাজ উদ্দিন বস্ত্রালয়, ইসলামিয়া বস্ত্রালয়, সুবর্না ক্লোথ স্টোর, মাসফি চয়েজ ও সারমিন ফ্যাসন হাউস, ভাইভাই গার্মেন্টস, মাতৃছায়া গার্মেন্টস ঘুরে দেখাগেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। নারী ও পুরুষরা মিলে পছন্দের পোশাক ক্রয় করছে। এ সকল বিপণি বিতানগুলোতে ভিনয়, গাউন, লাক্কা, ল্যাহেঙ্গা, জর্জেট ল্যাহেঙ্গা, জামদানী, সিল্ক, টাঙ্গাইল, লোন, জর্জেট, নাগিন ও লেহেঙ্গা থ্রিপিস বেশী বিক্রি হচ্ছে। সুমাইয়া কমপ্লেক্সের মাসফি চয়েজ গার্মেন্টেস মালিক আসাদুজ্জামান বলেন, বাচ্চাদের পোশাক ল্যাহেঙ্গা, সুতি ফ্রোগ ও গাউনের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে ভারতীয় ও পাকিস্তানি পোশাক দখল করে আছে দোকানগুলোতে।

আকন বস্ত্রালয়ের মালিক কামাল আকন ও সিরাজ উদ্দিন বস্ত্রালয়ের মালিক রিয়াজ উদ্দিন মৃধা বলেন, ভিনয়, গাউন, লাক্কা, জর্জেট ও লেহেঙ্গা থ্রিপিস বেশী বিক্রি হচ্ছে।

বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মাসুদুজ্জামান নয়াদিগন্তকে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোশাকে ও পোশাকধারী পুলিশ গভীর রাত পর্যন্ত নিরাপত্তায় দায়িত্বে রয়েছে।


আরো পড়ুন :
'ডালি গাউন' কিনে দেউলিয়া
আব্দুর রশীদ তারেক, নওগাঁ

নওগাঁয় এবার তুলনামূলক আগেভাগেই জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ফুটপাত থেকে শুরু করে বহুতল শপিং কমপ্লেক্স সব জায়গাতেই শিশু ও নারী-পুরুষের পদচারণায় সরগম হয়ে উঠেছে। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঈদবাজার উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা বিপণি বিতানগুলো আলোকসজ্জা করেছেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতার ভীড়ও তত বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিক্রি বেশি। রোজার শুরু থেকেই এবার মার্কেটে কেনাকাটা জমে উঠলেও দিন যত যাচ্ছে ক্রেতাদের ভিড় তত বাড়ছে। বিক্রয় কর্মীদের এখন দম ফেলানোর সময় নেই। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে শুক্রবারেও খোলা থাকছে শহরের বিপণি বিতানগুলো। এখন পর্যন্ত বেচাকেনা নিয়ে সন্তুষ্ট বিক্রেতারা। তবে দোকানদাররা জিনিসপত্রের দাম বেশি চাচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

সরেজমিনে গত সোমবার ও মঙ্গলবার শহরের দেওয়ান বাজার, আনন্দবাজার শপিং কমপ্লেক্স, জহির প্লাজা, মক্কা মার্কেট, শুভ প্লাজা, ইসলাম মার্কেট, সৌদিয়া সুপার প্লাজা, মাজেদা সুপার মার্কেট ইত্যাদি অভিজাত মার্কেটে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। বিকেলে ও সন্ধ্যার পর এসব মার্কেটে ভিড় দেখা গেছে। কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। তার মধ্যে আয়োজনের ভিন্নতার কারণে আসমান বিগবাজার, শিলামনি, শিপলু বুটিকস, বাঁকুড়া বস্ত্রালয়, কুমাখালী বস্ত্রালয়, পালকী বুটিকস, প্রিয়া ফ্যাশন সহ বেশ কিছু দোকানে ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি ভিড় জমাচ্ছেন। বিপণি বিতানগুলোতে নারী ও শিশুদের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় সব বয়সী মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ধরণের থ্রি পিস, টপস, জিপসি, ফ্লোর টাচ নামের পোশাক রয়েছে বিপণি বিতানগুলোতে। এসব পোশাক এক হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তরুণীদের হাল ফ্যাশনের বিভিন্ন ধরণের গাউন, ফ্রগ ও লেহেঙ্গা চাহিদাও রয়েছে প্রচুর।

ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘ভজ গোবিন্দ’ নাটকের চরিত্র ডালি চৌধুরী। ওই চরিত্রের নামে দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে ডালি গাউন ও ডালি স্কার্ট। এই গাউন ও স্কার্ট বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়। এছাড়া পদ্মাবত সিনেমার চরিত্র রাণী পদ্মাবতীর নামে বাজারে আসা ‘পদ্মাবতী লেহেঙ্গা’ তরুণীদের মাঝে বেশ সাঁড়া ফেলেছে। এই লেহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে আট হাজার টাকায়। ছেলেদের সুতি পাজামা-পাঞ্জাবী এক হাজার থেকে সাত হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

আনন্দবাজার শপিং কমপ্লেক্সের পোশাকের দোকান শিলামনির বিক্রয়কর্মী রনি তালুকদার বলেন, ‘ভজ গোবিন্দ নাটকের নায়িকা ডালি চৌধুরী যে সব গাউন ও স্কার্ট পড়েছে মেয়েরা ওই পোশাকগুলো বেশি কিনছে। এইবার ডালি গাউন ও স্কার্ট হিট। শুধু বড়রা না ছোটদের জন্যও এই পোশাক আছে। এছাড়া পদ্মাবতী লেহেঙ্গাও ভালো বিক্রি হচ্ছে।’

দেওয়ান বাজার মার্কেটের আসমান বিগবাজার দোকানের সত্ত্বাধিকারী ওহিদুর রহমান বলেন, ‘দশ রমজানের পর থেকেই এবার ঈদের কেনাকেটা পুরো দমে জমে উঠেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসা ভালই হবে বলে মনে হচ্ছে। আমাদের দোকানে সব ধরণের কালেকশন রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের হাল ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখে দোকানে বিভিন্ন ধরণ ও দামের পোশাকের সমাহার রেখেছি। এর মধ্যে তরুণীদের বেশি পছন্দ দেখা যাচ্ছে ডালি গাউন-এর প্রতি।’

ঈদের কেনাকাটা করতে মহাদেবপুর উপজেলা থেকে তিন মেয়েকে সাথে করে নওগাঁ শহরের দেওয়ানবাজার মার্কেটে এসেছেন নারগিস বেগম। বলেন, ঈদ উপলক্ষে বড় ও মেঝ মেয়ে বায়না ধরেছে ডালি গাউন কিনে দিতে হবে। আর ছোট মেয়েটার পছন্দ ডালি স্কার্ট। তিনটা জামা কিনতে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হলো। মেয়েদের আবদার পূরণ করতে দেউলিয়া হয়ে গেলাম।’

নওগাঁ পোশাক মালিক সমিতির সভাপতি সাজাহান আলী বলেন, ‘নওগাঁয় বেশ কিছু ভাল মানের তৈরি পোশাক বিক্রির দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানগুলোতে ক্রেতাদের রুচি এবং ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখে বিক্রেতারা পণ্যের সমাহার রাখছেন। আর ছিট কাপড়ের জন্য আগে থেকেই নওগাঁর একটা সুনাম রয়েছে। ফলে নওগাঁর লোকজনকে কেনাকাটার জন্য বাইরের শহরে যেতে হয় না।’


আরো সংবাদ