২২ জুন ২০১৮

স্ত্রীকে হত্যার ১ বছর পর যেভাবে গ্রেফতার হলো স্বামী

বিজয় ওঝা। ছবি - নয়া দিগন্ত।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্ত্রী হত্যার এক বছর পর হত্যা মামলায় স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্ত্রী হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে নিহতের স্বামী বিজয় ওঝা (৪০) কে গ্রেফতার করেন মামলার বাদী আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের এসআই মোশারফ হোসেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৫ জুন উপজেলার কোদালধোয়া গ্রামে বড় ভাই বিনয় ওঝার পাট ক্ষেত থেকে ছোট ভাই বিজয় ওঝার স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানের জননী সীমা ওঝা (৩৫) এর লাশ উদ্ধার করেন আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের এসআই মোশারফ হোসেন। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ওই সময় গৌরনদী সার্কেলের দ্বায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম ও আগৈলঝাড়ার তৎকালীন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে আগৈলঝাড়া থানার জিডি নং ১০৯৪ তে এসআই মোশারফ হোসেন লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে লাশ পোষ্টমর্টেমের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করেন। চলতি বছরের ১১জুন গত সোমবার পোস্টমর্টেম রিপোর্টে চিকিৎসক গৃহবধূর মাথায় আঘাত জনিত কারণে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করায় এসআই মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে হত্যা, হত্যায় সহায়তা করা ও লাশ গুমের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামী করে গতকাল মঙ্গলবার মামলা দায়ের করেন, যার নং-৮ (১২-৬-১৮)। মামলার পরে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী বিজয় ওঝাকে উপজেলার কোদালধোয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেন এসআই মোশারফ হোসেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) খোন্দকার মোঃ আবুল খায়ের জানান, গ্রেফতারকৃতকে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

আরো দেখুন : জাতিকে মাদক মুক্ত করা হবে

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন। এক শ্রেণীর মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান নস্যাৎ করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। সকল ষড়যন্ত্রকে পন্ড করে দিয়ে, যারা এটাকে বানচাল করতে চায় তাদের মুখে ছাই দিয়ে সবাইকে সাথে নিয়ে দেশকে বাঁচাতে হবে। আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে হবে, আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে। মাদক সরবরাহ বন্ধের সাথে সাথে মাদকের চাহিদা নির্মূল করতে র‌্যাব কাজ করছে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবন থেকে আমরা ইতোমধ্যে অসংখ্য দস্যু বাহিনীকে আত্মসমর্পনের সুযোগ দিয়েছি। এতে প্রায় আড়াইশ’র মতো জলদস্যু আমাদের কাছে আত্মসমর্পন করেছে। তবে এখনও কিছু জলদস্যু বাহিনী রয়ে গেছে। আমরা চাই অক্টোবর মাসের মধ্যে গোটা সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করবো। এটাই আমাদের লক্ষ্য, এজন্য আমরা সবার সহযোগীতা চাই।

বরিশাল নগরীর রুপাতলীস্থ র‌্যাব-৮ এর সদর দফতরে আত্মসমর্পনকৃত জলদস্যুদের মাঝে মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় ঈদ উপহার বিতরণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের (সুন্দরবনের হাসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে র‌্যাবের মহাপরিচালক হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, অক্টোবরের মধ্যে সুন্দরবনের বাকী দস্যুরা আত্মসমর্পণ না করলে কঠিন পরিস্থিতির শিকার হতে হবে। তিনি বলেন, দস্যুরা যে মুক্তিপন আদায় করেছে সে অর্থ কোথায়, কোথা থেকে আসে, অস্ত্র-গুলি, খাবার, রেশন কারা গহিন জঙ্গলে পৌঁছে দেয়, কারা তাদের বিকাশে টাকা কালেকশন করে দেয় এসবই খুঁজে বের করা হবে।

র‌্যাব-৮ এর পরিচালক আতিকা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুজ্জামান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

সূত্রমতে, বরিশালে র‌্যাব ৮ এর সদর দফতর কার্যালয়ে অনুষ্ঠানে ২০টি পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন, চারটি পরিবারে চিকিৎসা সহায়তা ও শিক্ষা সহায়তায় আর্থিক অনুদান এবং আত্মসমর্পনকারী সকল জলদস্যুদের পরিবারের মাঝে ঈদের উপহার তুলে দেয়া হয়। র‌্যাব-৮ সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাবের কঠোর তৎপরতার কারনে সুন্দরবন কেন্দ্রিক বনদস্যু/জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে কমে এসেছে। বিগত ২৪ মাসে সর্বমোট ২৩টি বাহিনীর ২৪৩ জন জলদস্যু ৩৭৯টি অস্ত্র ও ১৮ হাজার ৮০৪ রাউন্ড গোলাবারুদসহ র‌্যাব-৮ এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যু পরিবারবর্গের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে র‌্যাব কর্তৃক ‘সুন্দরবনের হাসি’ (প্রস্তাবিত) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আত্মসমর্পণকৃত সকল জলদস্যুদের পরিবারবর্গের মাঝে কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ এবং সেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাহায্য প্রদান করা হবে।

 


আরো সংবাদ