২১ অক্টোবর ২০১৮

এক মিনিটের টর্নেডো : লণ্ডভণ্ড গ্রাম, ঘর উড়ে গেল ১৫০ ফুট দূরে

জহিরুল ইসলামের বসতঘর উড়ে ১৫০ ফুট দূরে রাস্তার অপর পাশে খালের মধ্যে পড়ে - ছবি : নয়া দিগন্ত

এক মিনিটের টর্নেডোর আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গলাচিপা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম। সোমবার রাত সোয়া ৯টায় আঘাত হানা টর্নেডোতে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বোয়ালিয়া গ্রাম ও পানপট্টি ইউনিয়নের গ্রামর্দ্দন, সেনের হাওলা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টর্নেডোর আঘাতে অর্ধ-শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও কয়েক শ' গাছ উপড়ে গেছে। এতে হাজারখানেক লোক ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া পানপট্টির রাকিব নামের এক স্কুল ছাত্র আহত হয়েছে। ঘটনা ঘটার খবর পেয়ে রাতেই গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তৌছিফ আহমেদ, ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাদি ও উপজেলা বাস্তবায়ন প্রকল্প কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এলাকাবাসী সূত্র জানা গেছে, টর্নেডোর আঘাতে গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২৪টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি ঘর সম্পূর্ণ এবং বাকি ১৪টি ঘর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানপট্টি ইউনিয়নের ২৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি ঘর সম্পূর্ণ এবং বাকি ১০টি ঘর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানপট্টি ইউনিয়নের গ্রামর্দ্দন গ্রামের রফিক মোল্লার পোল্টি ফার্মটি বিধ্বস্ত হয়েছে। একই গ্রামের বিলকিস বেগমের ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেনের হাওলা গ্রামের জহিরুল ইসলামের বসতঘর উড়িয়ে নিয়ে ১৫০ ফুট দূরে রাস্তার অপর পাশে খালের মধ্যে নিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্থ দক্ষিণ বোয়ালিয়ার মোশারেফ গাজী (৬০), আলাউদ্দিন গাজী (২৮) কান্না জড়িত কন্ঠে বর্ণনা করে বলেন, কোনো কিছু বোঝার আগেই দক্ষিণ পশ্চিম কোণ থেকে প্রবল বেগে টর্নেডো আঘাত হানে। যার স্থায়িত্ব ছিল এক থেকে দেড় মিনিট। যার ফলে ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তৌছিফ আহমেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্থ প্রতি পরিবারকে ২টি করে শাড়ি ও লুঙ্গি এবং শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ঘর নির্মাণ করে দেয়ার জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দের প্রস্তুতি চলছে।

আরো পড়ুন :

পাথরঘাটার দিনভর বৃষ্টিতে ঈদ বাজারে বিড়ম্বনা

এএসএম জসিম, পাথরঘাটা (বরগুনা)
লঘুচাপের কারণে বায়ুর প্রভাবে রোববার থেকেই পাথরঘাটায় মুসলধারে বৃষ্টি চলছে। টানা বর্ষণে উপজেলা বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে বেড়েছে নাগরিক দুর্ভোগ। বিশেষ করে রমজানের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়েছে ক্রেতাদের।

মঙ্গলবার শবে-কদরের নামাজ। টানা বৃষ্টিতে যেন ভোগান্তির শেষ নেই। পৌরশহরের বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও বৃষ্টিতে সমস্যায় পড়ছে। পাথরঘাটা পৌরশহরে যানবাহনের সংখ্যাও কম। কেনাকাটার জন্য মার্কেটে যেতেও দুর্ভোগে পড়তে হয় ক্রেতাদের। পৌরশহরের পূর্ব বাজার, উকিলপট্টি, ব্রিজের উত্তরপার ও সিনেমা হল রোড এলাকায় পানি জমে যাবার কারনে চলাচলে অসুবিধায় পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষদের।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বভাসে আরো বলা হয়, সারা দেশের দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন চট্টগ্রাম ও নোয়াখারী উপকূলে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর অথবা উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে বিস্তার লাভ করছে।

 

 


আরো সংবাদ