১৫ অক্টোবর ২০১৯

মিঠাপুকুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

-

রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত ও সংস্কার কাজ, রুটিন মেইনটেন্যান্স (দ্বিতীয় ধাপ) ও স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) প্রকল্পের কাজ নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত-সংস্কার কাজে ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দের টাকা উত্তোলনে প্রত্যয়ন নিতে উৎকোচ দিতে হয় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা সহকারী প্রকৌশলীদের। কোমরপুর, তরফবাহাদী, চকগোপাল, নানকর, রসুলপুর, ইসলামপুর, লাটকৃষ্ণপুর, ইমাদপুর, রহমতপুর ও আস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নামমাত্র কাজ করে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে ব্যয় দেখিয়ে সে টাকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ও প্রধান শিক্ষকদের ভাগাভাগি করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অন্য দিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) প্রকল্পের আওতায় ৭১টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে ২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। একই অর্থবছরে পিডিইপি-৪ প্রকল্পের অর্থায়নে রুটিন মেইনটেন্যান্স (দ্বিতীয় ধাপ) প্রকল্পে উপজেলার ৫০টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই সব বিদ্যালয়ে স্লিপ ও রুটিন মেইনটেন্যান্স খাতে গত বছরের শিক্ষা উপকরণ ও মালামাল কেনার ভাউচার দেখতে চাইলে কোনো প্রধান শিক্ষকই তা দেখাতে পারেননি।
গত ৩০ জুনের মধ্যে বিল ভাউচার দিয়ে সব টাকা তুলে নেয়া হলেও বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে কোনো কাজই চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্যরা বরাদ্দকৃত অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করেছেন। উপজেলা শিক্ষা কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক এলজিইডির প্রাক্কলন তৈরি করে ১৭ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। ৫০ শতাংশ কাজ করার পর সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির রেজুলেশনসহ বিল-ভাউচার করে সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দেয়ার নির্দেশ আছে।
সে মর্মে উপজেলা এলজিইডি অফিসের সহকারী প্রকৌশলীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিদর্শন শেষে কাজের ওপর প্রতিবেদন দেয়ার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসাররা বিদ্যালয়ে গিয়ে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান যাচাই করে বিল ছাড় করবেন বলে নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এ সবের কোনো তোয়াক্কা না করে শুধু বিল ভাউচারই জমা দেয়া হয়েছে মাত্র। যা খতিয়ে দেখার কেউ নেই।
কিছু ভুক্তভোগী শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, এসব টাকা উত্তোলনের সময় উৎকোচ দিতে হয়। অন্যথায় পুরো টাকাটা পাওয়া যায় না। বিদ্যালয়ে কাজ ও উপকরণ নিয়েও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা। সূত্র মতে, এসব অনিয়ম দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া আবশ্যক।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি উৎকোচ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তার মতে যেসব বিদ্যালয়ে মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেগুলো পরিদর্শন করে ঠিক মতো কাজ সম্পন্ন করা হবে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum