২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দুমকিতে পায়রার ভাঙনে শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন

দুমকিতে পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনের দৃশ্য : নয়া দিগন্ত -

পটুয়াখালীর দুমকিতে আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় পায়রা নদীতে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র স্রোতে ভাঙনে শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙনকবলিত অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও বেশির ভাগ পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
বাহেরচরের বাসিন্দা জকিার হাওলাদার বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি। খেয়ে না খেয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছি। আঙ্গারিয়ার ইউপি সদস্য রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, বাহেরচর গ্রামের প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরো অসংখ্য ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমতাবস্থায় ভাঙন রোধ করা না গেলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ওই ইউনিয়নের অনেক ঘরবাড়ি ও আবাদি জমির ফসল নদীতে তলিয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভিটেমাটি নদী ভাঙনের মুখে থাকা জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘আমরা ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহযোগিতা চাই না। সরকারের কাছে একটাই দাবিÑ নদী শাসন করে আমাদের ভিটেমাটি রক্ষা করা হোক। এ ছাড়াও ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্তরা।
আঙ্গারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার বলেন, বিগত এক সপ্তাহে বাহেরচর গ্রামের শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। প্রতিদিনই ভাঙছে, ভাঙনের কবলে পড়া প্রায় ২৫০-৩০০ অসহায় মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তিনি আরো বলেন, নদীভাঙনে বাহেরচরের প্রায় শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে।
এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন উপজেলার মানচিত্র থেকে অচিরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তিনি ভাঙনকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।
দুমকি উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে আশা করি শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মহল ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিবেন।
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হাসানুজ্জামান বলেন, বাহেরচরের ভাঙন পরিদর্শনে লোক পাঠিয়েছি এবং শিগগিরই ভাঙন ঠেকাতে তীর রক্ষা বাঁধ তৈরির আশ্বাস দেন তিনি।


আরো সংবাদ