২১ আগস্ট ২০১৯

বন্যায় সুনামগঞ্জের ৮১৮ কিমি সড়কের বেহাল দশা

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার একটি সড়কের বেহাল দশা হনয়া দিগন্ত -

সুনামগঞ্জে বন্যায় বিভিন্ন উপজেলা সড়কসহ ৮১৮ মিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা হয়েছে। এ কারণে জেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগে ২৫ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী মা, শিশু, বয়ষ্ক মানুষ ও রোগীদের জন্য চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের ওপর দিয়ে চলছে নৌকা। কোনো কোনো সড়কে ‘না-নাও, না পা’ অর্থাৎ নৌকাও চলছে না, হেঁটেও চলাচল করা কষ্টকর। বন্যার পানির বেগে গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেসে গেছে। যেসব সড়কে পানি ওঠেনি, সেগুলোতে লাগাতার বৃষ্টিতে এমনভাবে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে যে, রিকশা বা অটো রিকশায় যাতায়াত করলে কোমর ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা। এ কারণে যোগাযোগে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই, শাল্লা, ছাতক, দোয়ারাবাজারসহ ১১ উপজেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে ডুবেছে। কোনো কোনো অংশ পানির তোড়ে ভেসে গেছে। সুনামগঞ্জ শহরতলির সুনামগঞ্জ-ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সড়কের বেশ কিছু অংশ ভেঙেছে। সড়কের ওপর দিয়ে সুরমা নদীর কূল উপচে পানি প্রবাহিত হওয়ায় খানখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার সকল সড়কেরই বেহাল অবস্থা। খানাখন্দ ১ থেকে ২ ফুট পরপর। যানবাহনে চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের চালবন্দ থেকে কাছিরগাতি পর্যন্ত খানাখন্দ। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সড়ক থেকে বাজার পর্যন্ত সড়কে হাঁটু সমান পানি। সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কের চিকশা থেকে আনোয়ারপুর পর্যন্ত কোথাও ভেঙেছে, কোথাওবা হাঁটু পানি। এই উপজেলার বাগলী থেকে বারেকের টিলা পর্যন্ত ১০ স্থানে ভেঙেছে। এই সড়কে হাঁটু সমান পানি। দোয়ারা-ছাতক সড়কের স্থানে স্থানে পানি উঠেছে। এই সড়কের দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সামনের অংশ সুরমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কের মাঝেরগাঁও, মংলারগাঁও অংশে হাঁটু সমান পানি। দোয়ারাবাজার-ভোগলা সড়কের শরিফপুর থেকে শ্রীপুর, টেংরা থেকে আজবপুর অংশে পানি। এই সড়কের মাহমুদপুরের পাশের অংশ ভেঙে গেছে। সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের বিটুমিনের সড়কের সেরমস্তপুর সেতুর পাশে হাঁটু সমান পানি শুকিয়ে এখন খানাখন্দ বের হয়ে গেছে। নিয়ামতপুর সেতুর পাশে এবং ইচ্ছারচর বাজারের পাশের সড়কে পানি শুকালেও খানাখন্দের কারণে চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। জামালগঞ্জ-নয়াহালট সড়কের কামলাবাজ অংশ ভেঙে গেছে। জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ সড়কে নয়াহালট পশ্চিম পাড়া থেকে হারুন মাকেট পর্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থা। ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের গলইখালী অংশ ডুবে আছে। বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই উপজেলাগুলো ছাড়াও দিরাই-শালা, জগন্নাথপুর, ছাতক ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জেও টানা ভারী বর্ষণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এ দিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তথ্য মতে, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৬৬টি স্থানে প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার, শাল্লা উপজেলায় ২৩টি স্থানে ৪৫ কিলোমিটার, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৩০টি স্থানে ৬০ কি.মি., দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৪২টি স্থানে ১২৬ কি.মি., দিরাই উপজেলার ৯টি স্থানে ২৮ কি.মি., বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৫১টি স্থানে ১৬৮ কি.মি., তাহিরপুর উপজেলায় ৩টি স্থানে ১৬ কিলোমিটার, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬টি স্থানে ৬ কি.মি., জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০টি স্থানে ৭৫ কি.মি., ধর্মপাশা উপজেলায় ১৫টি স্থানে ৫০ কি.মি., ছাতক উপজেলায় ১০টি স্থানে ৫৮ কি.মি. রাস্তা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জেলার মোট ২৭৫টি স্থানের ৮১৮ কিলোমিটার রাস্তায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে প্রায় ১৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তা ছাড়া ১১ উপজেলায় প্রায় ৯৬টি ব্রিজ ও কালভার্টের ক্ষতি হয়েছে। যার আনুমানিক ক্ষতি ধরা হয়েছে ৪ কোটি টাকা।
জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য মতে, সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যায় প্রায় ৩০ কি.মি. সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তা ছাড়া সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কেও ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে জেলা এলজিইডি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমেদ বলেন, পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে আমাদের ৮১৮ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার থেকে আমাদের বরাদ্দ পাঠানো হয়েছে। এখনো অনেক সড়কে পানি। এই পানি কমে গেলে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করব।


আরো সংবাদ

এমপিও তালিকার প্রজ্ঞাপন কয়েক দিনের মধ্যে, কার্যকর গত জুলাই থেকে ২১ আগস্ট নিহত‌দের স্মরণে শহীদ বে‌দী‌তে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন 'ভারতের জামাই' পাকিস্তানি পেসারকে দারুণ অভিনন্দন সানিয়া মির্জার কাশ্মির নিয়ে আবার মধ্যস্ততার প্রস্তাব ট্রাম্পের ট্রেনে আসমাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয় যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী চিদম্বরম শিশু ধর্ষকের রহস্যজনক মৃত্যু, কী হবে বাচ্চাটির? ১২৮ বছর বয়সের বৃদ্ধের আকুতি : ‘বাবা আমাকে বাঁচাও, ওরা আমারে খেতে দেয় না’ ভারতীয় গোয়েন্দা রিপোর্ট : বারুদের স্তূপে কাশ্মির, যেকোনো সময় বিস্ফোরণ বক্তব্যকে ভুলভাবে নেয়া : যা বললেন জাকির নায়েক সপ্তম কাউন্সিল : বিএনপির লক্ষ্য নেতাকর্মীদের হতাশার বৃত্ত থেকে বের করে আনার চেষ্টা

সকল




bedava internet