২২ জুলাই ২০১৯

পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ ডাক্তার দিয়ে চলছে ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসা

এক্সরে মেশিন ও ডেন্টাল চেয়ার অকেজো ১২ বছর
-

জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানামুখী সঙ্কটে ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য সরকারি একমাত্র এই হাসপাতালে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি সঙ্কট তো আছেই। সব মিলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এসব সমস্যার সমাধান চেয়ে বারবার আবেদন করা হলেও সঙ্কট সমাধানে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়নি।
জানা যায়, ৩১ শয্যার হাসপাতালটিকে এর আগে ৫০ শয্যা ঘোষণা করা হয়েছে। ৫০ শয্যার ভিত্তিতে রোগী ভর্তি এবং ওষুধ পথ্য দেয়া হলেও জনবল কাঠামো রয়েছে ৩১ শয্যার। সেখানেও শূন্যতা আর শূন্যতা। ১০ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎিসক বা সহকারী সার্জনের পদ রয়েছে ২১টি, যার মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র পাঁচজন। অ্যানেসথেসিয়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন ডাক্তার দিয়ে গাইনি বিভাগের সিজারিয়ান অপারেশন এর আগে চালু রাখা গেলেও অ্যানেসথেসিস্টকে অন্যত্র বদলি করায় ০২.০১.১৮ ইং থেকে প্রায় ১৯ মাস ধরে এ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। ডেন্টাল বিভাগে চিকিৎসক থাকলেও ডেন্টাল চেয়ারটি ২০০৭ সালে অকেজো ঘোষিত হওয়ায় এ বিভাগের কার্যক্রম ১২ বছর ধরে প্রায় বন্ধ।
এ দিকে স্বাস্থকেন্দ্রের মেডিসিন, সার্জারি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, অ্যানেসথেসিয়া, ইউনানী ও শিশু বিভাগে কোনো চিকিৎক নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্যতম পদ আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের পদে একজন চিকিৎক কয়েক দিন আগে আগে বছরের প্রশিক্ষণে যোগদান করায় আরএমও পদটিও শূন্য রয়েছে। হাসপাতালের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের পদটি দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য। এ পদের ব্যক্তি সুবিধামতো নিজের এলাকায় ডেপুটেশনে রয়েছেন বছরের পর বছর ধরে। স্টোর কিপারের পদটিও শূন্য রয়েছে। স্যানিটেশন ও স্টোরের দায়িত্ব নিজ কাজের পাশাপাশি পালন করছেন স্বাস্থ্য সহকারী বকুল আলম। জনগুরুত্বপূর্ণ দু’টি সেক্টরের দায়িত্ব একা পালন করতে গিয়ে তিনি হাঁপিয়ে উঠেছেন। এ বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স সাবেরা খাতুন নিজের সুবিধামতো ঠাকুরগাঁওয়ে ডেপুটেশনে রয়েছেন। ফার্মাসিস্টের চারটি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন দু’জন।
হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি ২০০৯ সালে অকেজো হলেও আজো নতুন মেশিন সরবরাহ করা হয়নি ফলে ১০ বছরের বেশি ধরে এখানে এক্সরে বিভাগ বন্ধ হয়ে আছে। বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। উপজেলা শহরে তিনটি ক্লিনিক ও ৯-১০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও অ্যনেসথেসিস্ট না থাকায় তারাও ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর থেকে ডাক্তার নিয়ে আসতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বাইর থেকে ডাক্তার নিয়ে আসায় তাদের পীরক্ষা-নিরীক্ষার ব্যায় দ্বিগুণ বেড়ে যাচ্ছে, যা জনগণের কাঁধে যাচ্ছে।
হাসপাতালের সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বারবার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও সঙ্কট সমাধানে কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। কমিটির সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আখতারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে জুন মাসের সভায়ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং রেজুলেশনের কপি সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে, কেন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না তা তার জানা নেই। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতাদানকালে এক দৃষ্টি আকর্ষণীয় নোটিশে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির উপদেষ্টা জাহিদুর রহমান জাহিদ হাসপাতালের সমস্যা সমাধানের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রংপুর বিভাগের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: মোস্তফা খালিদ বলেন, এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, খুব শিগগিরই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব হবে।

 


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi