২৩ জুলাই ২০১৯
যশোরে এক মাসে ৯ খুন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার তৎপরতা কম

-

যশোরে জেলার মানুষের মাঝে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ এর প্রধান কারণ। তুচ্ছ ঘটনায় প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে। চলতি মাসে ৯ জনকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে যশোর সদরেই খুন হয়েছে ছয়জন। শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা কমে যাওয়ায় অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে মনে করছে সচেতন মহল।
শার্শা উপজেলার গোগা গাজীপাড়ার মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ হাফিজুর রহমান পয়লা জুন নিজ বাড়িতে নিয়ে মাদরাসার ছাত্র শাহ পরানকে হত্যা করে। পরদিন ২ জুন ওই বাড়ি থেকে শাহ পরানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার ১০ দিন পর অভিযুক্ত হাফেজ হাফিজুর রহমানকে ১১ জুন খুলনা থেকে আটক করা হয়। ৬ জুন সন্ধ্যারাতে যশোর শহরের রেল রোড রেলবাজার (গাড়োয়ানপট্টি) এলাকায় কিশোর সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে খুন হয় আব্দুল্লাহ খান নামে আরেক কিশোর। নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার মুরাদ খানের ছেলে। এ হত্যাকাণ্ডের দু’দিন পর সদর উপজেলার দোগাছিয়া গ্রামে খুন হন দুই সন্তানের জননী পলি খাতুন। তিনি একই গ্রামের ইউনুস আলীর স্ত্রী। এর পাঁচ দিন পর যশোর শহরের শঙ্করপুর সন্ন্যাসী দীঘিরপাড়ে কিশোর সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন ফেরদৌস হোসেন নামে এক যুবক। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কিলার হিসেবে চিহ্নিত কিশোর সন্ত্রাসী সাব্বিরকে আটক করতে পারেনি। এই হত্যাকাণ্ডের এক দিন পর চৌগাছা উপজেলার লস্কারপুর ভোগের বিলে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে মমিনুর রহমান মমিনকে।
১৫ জুন সন্ধ্যায় অভয়নগর উপজেলার মহাকালের আমভাঙ্গা খাল থেকে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের পনিক বিশ্বাসের ছেলে। ১৮ জুন সন্ধ্যারাতে যশোর শহরের শঙ্করপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত হয় সানি নামে এক সন্ত্রাসী। নয়নের ওপর বোমা হামলা চালাতে গিয়ে সে আটক হয়। সনিকে পিটিয়ে হত্যা করে জনগণ। এ ঘটনার দু’দিন পর ২০ জুন সকালে শহরতলির খোলাডাঙ্গা গাজীর বাজার থেকে সিনবাদ নামে একজন হোটেল শ্রমিকের ড্রাম ভর্তি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্যাসফিল্ডের কাছে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে খুন হয় মাদরাসা ছাত্র সাজিদ হোসেন সম্রাট।
এদিকে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, আগে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় পুলিশ নিয়মিত টহল দিতো। কিন্তু এখন আর দেখা যায় না। পুলিশ কোনো স্থানে বখাটে কিশোর অথবা যুবকদের আড্ডা দিতে দেখলে তল্লাশি চালাত। কিন্তু বর্তমানে আগের মতো শহরের পাড়া মহল্লায় পুলিশের জোরালো টহল দিতে দেখা যায় না। আর এ কারণে অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তবে যশোর পুলিশের দাবি পুলিশের টহল বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষ হলে অথবা অপরাধ রোধে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

 

 


আরো সংবাদ

সকল




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi