১৪ অক্টোবর ২০১৯

পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা পাচ্ছেন না রোগী

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ জনবল সঙ্কট
-

জনবল সঙ্কট থেকে শুরু করে ডাক্তার-নার্সদের সেবার মান, হাসপাতাল অভ্যন্তরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জনবল সঙ্কটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ফলে কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না আগত রোগীরা। অভিযোগ, সেবা প্রদানে ডাক্তার-নার্সদের অনীহার পাশাপাশি হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেখানকার রোগী ও তাদের সাথে আগত স্বজনেরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে পাইকগাছা হাসপাতালে সেবার মান এখন অনেক ভালো। তবে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত একটি সংস্থার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরিচ্ছন্ন কর্মীর সঙ্কটে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিভিন্ন সময় তাদের হিমশিম খেতে হয় বলেও জানান তারা।
গত ২৩ মে চিকিৎসক ও নার্সদের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তফা শাহারিয়ার শুভ (১৩) নামে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগে উঠেছিল। এ ঘটনায় মৃতের পরিবার ও স্বজনরা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে উত্তেজিত হয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়ন করতে হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ ছিল, হাসপাতালে চিকিৎসক ডা: সুজন কুমার সরকারের দায়িত্ব অবহেলায় শুভর মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলা সদরের অবস্থিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রায় তিন লাখ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তির একমাত্র প্রতিষ্ঠান। প্রথমত, হাসপাতালের সেবার মান ভালো থাকলেও ক্রমান্বয়ে তা তলানিতে ঠেকেছে। গত কয়েক বছর জনবল সংকট থেকে শুরু করে নানা সঙ্কটে এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলেও মনে করেন অনেকে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে বর্তমানে ২১ জন ডাক্তারের স্থলে রয়েছে ১০ জন, ২০ জন নার্সের সবকটি, চারজন মিডওয়াইফ নার্সের বিপরীতে সব ক’টি পদে পোস্টিং থাকলেও দু’টি ফার্মাসিস্ট, তিনটি এমপি ল্যাব, একটি রেডিও গ্রাফার, তিনটি ওয়ার্ডবয় ও দু’টি আয়া পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। এমএলএসএস চারটি পদের বিপরীতে দু’টি, দুইজন প্রহরীর বিপরীতে একজন ও পাঁচজন সুইপারের বিপরীতে একজন সুইপার কর্মরত রয়েছেন। সর্বশেষ ডাক্তার ও নার্স বৃদ্ধি পেলেও হাসপাতালের সেবার মান বাড়েনি এতটুকু।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী আবদুল করিম বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ডাক্তার একবার রাউন্ডে এলেও দায়সারা দেখে চলে যান। নার্সদেরও ডেকে পাওয়া যায়না জরুরি প্রয়োজনে।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা: সুজন কুমার সরকার জানান, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সেবার মান এখন অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে, এক সময় হাসপাতালে তেমন কোনো ডেলিভারি হতো না। এনেসথেসিয়া ডাক্তার আসায় প্রতি মাসে ৫০-৬০ জন গর্ভবতী মহিলার ডেলিভারি হচ্ছে। প্রতিদিন তারা সাত-আটজন ডাক্তার নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক সময় তারা ২৪ ঘণ্টাই অন দ্য ডিইটিতে থাকেন বলেও দাবি করেন।
ডেলিভারির এই পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, হাসপাতালে এখন সেবার মান অনেক ভালো। তবে সামগ্রিক অভিযোগ প্রসঙ্গে সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা: এ এস এম মারুফ হাসান।

 


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum