১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আত্রাইয়ে ধানের দাম না থাকায় কৃষক পরিবারে নেই ঈদ আনন্দ

-

নওগাঁর আত্রাইয়ে কৃষকের মধ্যে নেই ঈদ আনন্দ। ধানের মূল্য কম হওয়ায় উপজেলার কৃষক পরিবারের ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। ঈদ দুয়ারে কড়া নাড়লেও নেই কোনো আমেজ। চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছে কৃষকদের।
অর্থাভাবে বেশির ভাগ পরিবারেই এখনো কেনা হয়নি নতুন জামাকাপড়। কোনো কোনো পরিবার বিভিন্ন দোকানের ঋণ পরিশোধ করতে ধান বিক্রি করে কোনো রকমে জীবনধারণ করছেন। আবার অনেকেই ঋণের দায়ে ছেড়েছেন নিজ গ্রাম। সে সব পরিবারের সদস্যরা গৃহকর্তার ফেরার আশায় দিন গুনছেন। ফলে আত্রাই উপজেলার কৃষকসহ সব শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে ঈদ নিয়ে নেই বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাস। ধানের মূল্য কম হওয়ায় উপজেলার কৃষি পরিবারের বেশির ভাগই এবার বঞ্চিত হবেন ঈদ আনন্দ থেকে। ফলে ক্রেতাশূন্য আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের দোকানপাট।
উপজেলার হাটবাজারগুলোতে এ সময়টিতে জমজমাট বিকিকিনি হলেও এ বছর অন্য দৃশ্য। ঈদের বর্ণিল সাজে দোকানগুলো সাজলেও ক্রেতা কম। কারণ একটাই ধানের মূল্য কম।
উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের আজাদ সরদার জানান, কঠোর পরিশ্রম করে এবারে তিনি ২৫ শতাংশ জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বাম্পার হয়েছে। আর মাত্র কয়েকদিন পর ঈদ। মহা খুশিতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেই ধান ঘরে ওঠার আগেই ধানের বাজার মূল্যের দরপতন হওয়ায় ভেঙে পড়েন তিনি।
শুধু আজাদ সরদার নয়, ঈদের আনন্দ মলিন হতে বসেছে আত্রাই উপজেলার কৃষক পরিবার। এ বছর লোকসানের মুখে পড়ে কৃষিকাজে আস্থা হারাচ্ছেন আত্রাই উপজেলাসহ এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক। তাই লোকসান থেকে বাঁচতে সরকারের কাছে ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ কৃষকরা।
উপজেলার বজ্রপুর গ্রামের কৃষক আবদুল মজিদ মণ্ডল বলেন, এ বছর ঋণ করে ধান আবাদ করে প্রায় অর্ধেক টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। আগামীতে তিনি আর ধানের আবাদ করবেন না বলেও জানান।
উপজেলার ভবানীপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আলহাজ আবদুর রশিদ জানান, আমাদের এ উপজেলায় ধান মাড়াই শুরু হলেই আমাদের বিক্রি বেড়ে যায়। কিন্তু এ বছর ঈদেও আশানুরূপ ক্রেতা নেই মার্কেটগুলোতে। ধানের দাম কম থাকায় কেনাকাটায় আগ্রহ নেই কৃষকদের। ঈদের জন্য বাহারি ডিজাইনের কাপড় নিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এবারের ঈদের বাজার তেমন একটা জমবে বলেও মন্তব্য করেন এ কাপড় ব্যবসায়ী।

 


আরো সংবাদ