২৩ আগস্ট ২০১৯

মতলবে বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগ : হতাশ কৃষক

চাঁদপুরের মতলবের ছেংগারচরে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত ধান নিয়ে হতাশ কৃষক : নয়া দিগন্ত -

চাঁদপুরের মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষক হতাশ। এ বছর বোরো মওসুমে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকেরা খুশি। কিন্তু বাধ সেজেছে ব্লাস্ট রোগ। বোরো ধানে নেক ব্লাস্ট রোগে মহামারী আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে বিআর-২৮ জাতের ধানে এ রোগের প্রবণতা বেশি লক্ষ করা গেছে। দিনে গরম, রাতে ঠাণ্ডা, কুয়াশা, অতিবৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়ার কারণে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে বোরো ধানে ব্যাপকভাবে নেক ব্লাস্ট ও লিফ ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ মওসুমে ৯ হাজার ১৩০ হেক্টরে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলার তালতলী, কলাকান্দা, ঠাকুরচর, গজরা, সুজাতপুর, নাথুতহশিলদার কান্দি, আদুরভিটি বিলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে কৃষকের মুখে সোনালি হাসি। কিন্তু নেক ব্লাস্ট রোগ ও লিফ ব্লাস্ট রোগ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকের মুখের হাসি ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
আদুরভিটি গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম বলেন, আমি ১ একর জমিতে বিআর-২৮ ধান করেছি। নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষি অফিসের পরামর্শে চারবার স্প্রে করার পরও কোনো প্রতিকার পাইনি। এখন আমার কী হবে? এক মুঠো ধানও পাবো না। তিনি জানান, আদুরভিটি, দেওয়ানজিকান্দি, ঠাকুরচর বিলে প্রায় ২০ একর জমিতে নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
দেওয়ানজিকান্দি গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া জানান, ধানে নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর একপর্যায়ে ধানের পাতা ঝলসে যায়। এ ছাড়াও ধান সাদা হয়ে চিটা হয়ে যায়। পাতা ঝলসে যাওয়া ও ধান চিটা হয়ে যাওয়া এ রোগকে কৃষি বিভাগের লোকজনেরা লিফ ব্লাস্ট রোগ বলে দাবি করছে।
মতলব উত্তর উপজেলার ৪৩টি কৃষি ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে ছুটে গিয়ে কৃষকদেরকে রোগ থেকে ধান রক্ষায় প্রয়োজনীয় (সঠিক) কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগের জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাউদ্দিন জানান, যেসব কারণে নেক ব্লাস্ট রোগ হয় তা প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাধ্যমে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় (সঠিক) কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। এ ছাড়াও মাঠ দিবস করে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ধানের জমিতে রোগ হোক বা না হোক শীষ বের হওয়ার আগেই জমিতে সঠিক কীটনাশক পরিমাণমতো ৭ দিনে দু’বার প্রয়োগ করতে হবে।

 


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet