২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আর্সেনিক আতঙ্কে ঘিওরবাসী ২১ বছর পরীক্ষা হয় না

আর্সেনিকপ্রবণ নলকূপের পানি পান করছে এক কিশোর :নয়া দিগন্ত -

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আর্সেনিক ও আয়রন আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিভিন্ন নলকূপের পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে। নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ জেনে শুনে বিষপান করছে। স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিভাগের একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মর্কূা কর্মচারীদের দায়িত্বে-র্কূব্যে গাফিলতির কারণে বিগত ২১ বছর ধরে ঘিওরে আর্সেনিক পরীক্ষা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এলাকার হাজার-হাজার লোক আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে আর্সেনিকোসিস রোগসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ভয়ে অনেক লোকজন নলকূপের পানি পান করা বন্ধ করে দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের প্রথম দিকে আর্সেনিক পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৭ মাসে মাত্র এক হাজার ৩৩৪টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পরে নলকূপগুলোর পানি যাতে কেউ পান না করে, সেজন্য কর্তৃপক্ষ প্রতিটি নলকূপের গায়ে লাল রঙের চিহ্ন দিয়ে দেয়। দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও নলকূপগুলো পরীক্ষা করা হয়নি। নব্বই দশকের আগে আর্সেনিক সম্বন্ধে মানুষের তেমন কোনো ধারণা ছিল না। কিছু মানুষের ত্বক খসখসে, ঘা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার পর চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্সেনিকের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় খবর প্রচারিত হলে দেশের মানুষের আর্সেনিকের সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। নলকূপের প্রতিলিটার পানিতে দশমিক শূন্য পাঁচ মিলিগ্রাম আর্সেনিক থাকলে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি মাত্রায় আর্সেনিক থাকলে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার নলকূপ রয়েছে। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে এই নলকূপগুলো পরীক্ষা করা হয় না। গত বছর এডিপি থেকে ২১টি নলকূপ বরাদ্দ দেয়া হয়। বেশির ভাগ নলকূপ নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় বর্তমানে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ৬ নং হ্যান্ড পাম্প নলকূপ, অগভীর, নলকূপসহ ৪৩টি তারা গভীর নলকূপ বিতরণের ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে।
বর্তমানে ঘিওরের বেশির ভাগ নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। প্রতিটি হস্তচালিত নলকূপের (অগভীর) নলকূপের জন্য চালানের মাধ্যমে গ্রহীতাকে এক হাজার ৫০০ টাকা জমা দিতে হয়। খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। গভীর নলকূপের জন্য সাধারণ গ্রহীতাকে সাত হাজার টাকা জমা দিতে হয়। খরচ হয় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। রিং ওয়েলের জন্য জমা দিতে হয় তিন হাজার ৫০০ টাকা। খরচ হয় ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা। গোপনে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের একশ্রেণীর দর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কমচারীদের সহযোগিতায় নি¤œমানের উপকরণের মাধ্যমে এসব নলকূপ নির্মাণ করা হয়। নি¤œœমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে অল্প দিনেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকায় আর্সেনিক পরীক্ষা ধীরগতিতে চলছে। তবে অনেকেই ওষুধের দোকান থেকে কেনা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ফিল্টার ব্যবহার করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা: সুজিত সরকার জানান, আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীদের হাত ও পায়ে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা পড়ে কালো রঙ গোল আকার ধারণ করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষা ছাড়া নলকূপের পানি পান করা নিরাপদ নয়। এদিকে জনস্বাস্থ্য অফিসের বিল্ডিংটির পলেস্তরা উঠে রড বেরিয়ে যায়। বৃষ্টির সময় ছাদ চুয়ে পানি পড়ে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ২০১২ সালে জনস্বাস্থ্য অফিসের বিল্ডিংটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেন। কিন্তু এই ভবনেরই সংস্কার কাজের জন্য দেয়া হয় চার লাখ টাকা। রাতারাতি চুনকাম ও টাইলস করা হয়।
জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী দবিরুল আসলাম বলেন, উপজেলাতে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হলে এলাকার জনগণের সুবিধা হবে। আমি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তবে নতুন যোগদান করার কারণে অনেক তথ্য আমার কাছে নেই। উপজেলার সব নলকূপে আর্সেনিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

 


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme