২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
গুদামজাত রয়েছে হাজার হাজার বস্তা

অভয়নগরে পাচার হয়ে যাচ্ছে নন ইউরিয়া সার

অভয়নগরে খোলা আকাশের নিচে মজুদ হাজার হাজার বস্তা সরকারি সার :নয়া দিগন্ত -

ন্যায্যমূল্যে কৃষকের দ্বারে দ্বারে সার পৌঁছে দেয়ার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে কতিপয় অসাধু আমদানিকারকের জন্য কৃষক সে সুফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ডিএপি ও টিএসপি সার দুই থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে আমদানিকারকরা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের জন্য আমদানিকৃত সরকারের দেয়া ভর্তুকির সার আমদানিকারকরা ডিলারদের বরাদ্দের পূর্বেই নিজেরা কার্গো থেকে গুদাম এবং গুদাম থেকে ট্রাকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে পাচার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, যশোরের অভয়নগর উপজেলায় কয়েকজন আমদানিকারক সার আমদানিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু তাদের এই ভূমিকার ভেতরেই অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। বিশেষ করে ডিএপি ও টিএসপি সার সাদা-কালো ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অজুহাত দেখিয়ে বিসিআইসির ডিলারদের বিভিন্ন ধরনের দামে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে।
ডিলাররা জানান, টিএসপি সার সাধারণত কালো ও সাদা রঙের আমদানি করা হয়ে থাকে। এতে সরকার কর্তৃক একই মূল্য নির্ধারিত ও ভর্তুকি প্রদান করা হয়ে থাকে। অথচ এসব সার আমদানিকারকরা বরাদ্দপত্র আনলে কালো সার দিতে অপারগতা প্রকাশ করে সাদা রঙের টিএসপি সার নিতে বাধ্য করে। এ ছাড়া এলসি নাম্বার উল্লিখিত বরাদ্দপত্রের সার আমদানিকারকদের কাছে দাবি করলে কোনো কোনো আমদানিকারক বা তাদের প্রতিনিধিরা অর্ধেক সার খোদ আমদানিকারকদের কাছে বিক্রি করে যেতে বাধ্য করেন। বিক্রি না করলে বরাদ্দকৃত সার তুলে নেয়ার শেষ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন টালবাহানায় ঘোরাতে থাকে। এরপর ওই ডিলার আর সার তুলতে পারে না। এভাবে প্রচুর সার কারসাজি করে আমদানিকারকরা নিজেদের গুদামে রেখে দেয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিয়মানুযায়ী ডিলার নির্ধারিত সময়ে সার উত্তোলন না করলে ওই সার সরকারি ভর্তুকি মূল্যেই খোলাবাজারে বিক্রি করার কথা। কিন্তু নওয়াপাড়া, নারায়ণগঞ্জ ও নগরবাড়ী পয়েন্টগুলোতে এসব সার বস্তায় দুই থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে খোলা বাজারে বিক্রি করে একদিকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আমদানিকারকরা, অন্যদিকে সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে বাজারে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। বর্তমানে বাণিজ্য ও বন্দরনগরী নওয়াপাড়ার বিভিন্ন ঘাট এলাকার গুদামে হাজার হাজার বস্তা নন ইউরিয়া সার মজুদ আছে।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, গত দুই বছরের ভর্তুকিকৃত সারও এসব গুদামে মজুদ রয়েছে। ডিলারদের কাছ থেকে কেনা এবং বিভিন্ন অজুহাতে রেখে দেয়া হাজার হাজার বস্তা সার অসৎ উদ্দেশ্যে গুদামে মজুদ রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও আগামী মৌসুমের জন্য আমদানি করা নন ইউরিয়া সার কোনো কোনো ঘাটে কার্গো থেকে আনলোড করে গুদামে মজুদ করা শুরু করে আবার গুদাম থেকে ট্রাকে কোনো বরাদ্দপত্র ছাড়াই ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করছে। অথচ পরক্ষণেই সেসব সার ট্রাকে নওয়াপাড়া থেকে পাচার হয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এমন ঘটনা প্রতিনিয়তই দৃশ্যমান হচ্ছে। কোনো মনিটরিং ব্যবস্থা নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সরকারের ভর্তুকি দেয়া আমদানিকারকদের আমদানিকৃত নন ইউরিয়া সার মনিটরিং করার আমাদের কোনো নিয়ম নেই। এটি সম্পূর্ণ জেলাপর্যায় থেকে নিয়ন্ত্রণ করা বা আগমনী বার্তা জমা দেয়ার বিধান রয়েছে। যে কারণে আদৌ গত বছরের সার মজুদ আছে কি না এবং আগামী বছরের জন্য আমদানিকৃত সার পাচার হয়ে যাচ্ছে কি না আমি তার কিছুই জানি না।

 


আরো সংবাদ