২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আন্ডারপাস বা গোলচত্বর না থাকায় সড়ক পারাপারে দুর্ভোগ

বারইয়ারহাটের ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস লেনদেন নেমেছে অর্ধেকে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বারইয়ারহাট পৌর সদরের এই স্থানে গোল চত্বর অথবা উড়াল সেতু চান ব্যবসাসীরা :নয়া দিগন্ত -

ধ্বংসের মুখে পড়েছে উত্তর চট্টগ্রামের বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বারইয়ারহাটের ব্যবসা-বাণিজ্য। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার ব্যবসায়ী অলস সময় পার করছেন। অথচ আগে দৈনিক গড়ে লেনদেন হতো কয়েক কোটি টাকার। এখন তার অর্ধেকেও হচ্ছে না। গোলচত্বর অথবা আন্ডারপাস না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা সড়ক পারাপারে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। একটি ফুটওভারব্রিজ থাকলেও ভারী কোনো মালামাল নিয়ে মানুষ সেটা দিয়ে যাতায়াত করতে পারছে না। গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারের বেশির ভাগ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্বপাশে অবস্থিত। ফলে উত্তর চট্টগ্রামের বড় এই বাজারে গোলচত্বর অথবা আন্ডারপাস নির্র্মাণের দাবি ওঠেছে।
জানা গেছে, বারইয়ারহাট থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার ও ফেনীর দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। বারইয়ারহাট বাজারটি কয়েকটি অঞ্চলের সংযোগস্থল। এখানে রয়েছে বড় একটি গরু বাজার। এই বাজারে রয়েছে কলেজ ও বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সহ আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দু’টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, চারটি বেসরকারি হাসপাতাল, প্রায় ১০টি ক্ষুদ্র ঋণের এনজিও সংস্থা, একটি রেলস্টেশন, চার-পাঁচটি মসজিদ। এ ছাড়াও রয়েছে ৫০টি স্বর্ণের দোকান, ৬৯টি হার্ডওয়ার টাইলস স্যানেটারি দোকান, ৫৫টি ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্সের দোকান, ২৫টি ক্রোকারিজ দোকান, ১৫০টি ফলের দোকান, ৫০টি ওষুধের দোকান, ২০০টি মুদি দোকান, ৩০০টি মাছ দোকান, ৫০টি জুতার দোকান, ৭০টি মোবাইল দোকান, কয়েক হাজার ভ্রাম্যমাণ দোকান, ২০০টি কাপড়ের দোকান, প্রায় ৫০টি ছোট বড় কুলিং কর্নার, ১৫টি রেস্টুরেন্ট, পাঁচটি আবাসিক হোটেল, ৫০টি সেলুন, ১০০টি ফার্নিচার দোকান, ৩০টি পান-সুপারির দোকান, ৫০টি কসমেটিকস দোকান ও ১০টি চালের আড়ত। এনসিসি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, কৃষি ব্যাংকের শাখা রয়েছে এখানে। শুধু তাই নয় রয়েছে তিনটি বাস স্ট্যান্ড, চারটি সিএনজি অটো স্ট্যান্ড, একটি পিকআপ স্ট্যান্ড, একটি মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার এই বাজারটি থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু গোলচত্বর অথবা আন্ডারপাস না থাকায় পাঁচ হাজার ব্যবসায়ীর ব্যবসায়ে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর তারা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এমতাবস্থায় লোকসানের মুখে পড়ে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, সড়কে ডিভাইডার থাকায় পথচারীদের চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে। পথচারী পারাপারে একটি ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে তা একপাশে হওয়ায় পথচারীরা ওভারব্রিজ দিয়ে চলাচল করেন না। এক কিলোমিটারের মধ্যে গাড়ি পার হওয়ার কোনো জায়গা না থাকায় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
আল-আমিন গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কের বারইয়ারহাটে পথচারী পারাপারে যে ওভারব্রিজটি দেয়া হয়েছে তা একপাশে হওয়ায় মানুষ চলাচল করে না। রামগড়, খাগড়াছড়ি সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা গাড়িগুলোকে অনেক দূর দিয়ে আসতে হয়। আন্ডারপাস না থাকায় এক বস্তা চাল বাজারের পূর্বপাশ থেকে পশ্চিম পাশে নিতে ১০০ টাকা ভাড়া লাগে। অথচ তিন কিলোমিটার দূরে জোরারগঞ্জ বাজার থেকে এক বস্তা চাল আনতে খরচ পড়ে ২০ টাকা। এ ছাড়া হাসপাতালগামী রোগীদের অনেক দূর দিয়ে আসতে হওয়ায় তারা ভোগান্তিতে পড়েন।
বারইয়ারহাট স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও লাকি জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন পেয়ার জানান, বারইয়ারহাট পৌরবাজারটি উত্তর চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এটি ফেনী, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, রামগড়, ছাগলনাইয়া, ফটিকছড়ির একমাত্র সংযোগস্থল। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কেনাবেচা করে। কিন্তু সড়কে আইল্যান্ড নির্মাণের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। এ সংযোগ স্থলে আন্ডারপাস স্থাপন করা হলে পথচারীদের ভোগান্তি কমত। এ ছাড়া মানুষ পারাপার হতে যে স্থান রয়েছে তা একেবারে অপ্রতুল। অনেক সময় একসাথে পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।
লাকি ফ্যাশন মলের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শামসুদ্দিন ও হাসান সুজের স্বত্বাধিকারী সাদাত হোসেন সাদেক জানান, সিএনজি অটোরিকশা বন্ধ হওয়ায় গ্রামঞ্চলের মানুষ আগেরমতো আসতে না পারায় ব্যবসা-বাণিজ্য একেবারে কমে গেছে। এরপর ডিভাইডার বন্ধের পর তো অবস্থা আরো করুণ। তাই আন্ডারপাস অথবা গোলচত্বর নির্মাণ করা প্রয়োজন।
এনসিসি ব্যাংক বারইয়ারহাট বাজার শাখার ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম জানান, বারইয়ারহাট বাজারে ৯টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে। অনেক বৃদ্ধ ও মহিলা গ্রাহক ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করে সড়ক পারাপার হতে পারে না। একটি আন্ডারপাস অথবা গোলচত্বর জরুরি।
বারইয়ারহাট গরু ছাগল বাজারের ইজারাদার ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন জানান, ডিভাইডার বন্ধ করে দেয়ায় ও আন্ডারপাস না থাকায় চলতি বছর কোরবানি ঈদে বারইয়ারহাট গরু বাজারে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বারইয়ারহাট পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন জানান, বারইয়ারহাট বাজারে গোলচত্বর অথবা আন্ডারপাস নির্মাণের বিষয়ে ইতোমধ্যে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।

 


আরো সংবাদ