১৯ নভেম্বর ২০১৮

কপোতাক্ষের শত শত একর জমি বেদখল : দুই তীরে পাকা ঘর নির্মাণ ও চাষাবাদ

-

যশোরের চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদের ভেতর পিলার করে নির্মাণ করা হচ্ছে আলীসান বাড়ি, মিল-কলকারখানা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। নদের দুই তীরের শত শত একর জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে নিচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।
কপোতাক্ষ নদ বাঁচাও আন্দোলনের যশোর জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, নদের দুই তীর ব্যাপকহারে দখল করায় এটি একটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর ভৈরব নদ থেকে কপোতাক্ষ নদের উৎপত্তি। সেই উৎপত্তিস্থলে এ নদকে মাছ চাষ করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর ফলে নদটি ধীরে ধীরে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে নদটি দখলমুক্ত করার দাবিতে আমরা যশোরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছি। যশোর প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশও করেছি। এর ফলে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে একটি তদন্ত টিম পরিদর্শনে এসেছিলেন। তাদের মতে, তাহেরপুর এলাকায় নদটির কিছু অংশ দখল করে স্থানীয়রা মাছচাষ করছেন।
নদ বাঁচাও আন্দোলনের চৌগাছা উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মাস্টার আবদুল জলিল বলেন, কপোতাক্ষ নদটির জেগে ওঠা জমি দখল নিয়েছে এলাকার প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা। অনেকে এরই মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নগদ নারায়ণে তুষ্ট করে নজরবন্দী কাগজপত্রাদি তৈরি করে কপোতাক্ষ নদের দুই তীরের হাজার হাজার একর জমি দখলে নিয়েছেন। এরই মধ্যে নদের তলদেশে পলি পড়ে উঁচু হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে বর্ষা মওসুমে বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে না পারায় নদের উপকূলীয় চৌগাছা-ঝিকরগাছার ১৭টি ইউনিয়নের ১০২টি গ্রামের ৫০ হাজার বসতবাড়ি, ৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩৮০ কিলোমিটার পাকা-কাঁচা রাস্তা প্লাবিত হয়। এতে প্রতি বছর বর্ষা মওসুম এলেই চার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নদ গবেষক কপোতাক্ষ গেজেট পত্রিকার সম্পাদক এম মুজাহিদ আলী বলেন, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া এ নদ মহান আল্লাহর বিরাট নিয়ামত। চৌগাছা-ঝিকরগাছার ২২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার প্রায় ৬ লাখ মানুষের মিষ্টি পানি সরবরাহ করত কপোতাক্ষ নদ। চৌগাছা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র বাবুখাট এলাকায় নিমাই হালদারের ছেলে তুষার হালদার নদের ভেতর পাকা পিলার দিয়ে নির্মাণ করেছেন আলীসান বাড়ি।
এ ব্যাপারে তুষার হালদার বলেন, পৌরসভার সার্ভেয়ার থেকে মেপে দিয়েছেন আমি নদীর ভেতরে আরো চার হাত জমি পাবো।
নদ দখলের ব্যাপারে জানতে চাইলে চৌগাছা সদর পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এম এ মজিদ তালুকদার বলেন, নদী দখল হচ্ছে কি না সেটি দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। যাদের দেখার জন্য সরকার বেতন দেয় তারাই দেখে নিক।


আরো সংবাদ