১৬ নভেম্বর ২০১৮

পাটগ্রামে রোড মেইনটেন্সের নারীকর্মীদের অর্থ আত্মসাৎ

-

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর-এলজিইডির অধীনে রুরাল মেইনটেনেন্স অ্যান্ড রোড মেইনটেনেন্স প্রোগ্রাম-২ কর্মসূচি প্রকল্পের ৮০ জন নারীকর্মীর পাঁচ মাসের সঞ্চয়ের প্রায় ছয় লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর ও সোনালী ব্যাংক একে অপরকে দায়ী করছে।
জানা গেছে, উপজেলার দহগ্রামসহ আটটি ইউনিয়নের পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচিতে আটটি দলে ৮০ জন নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেয় স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল এ কর্মসূচি শেষ হয়। কর্মসূচির অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত নারীকর্মীদের মাসিক বেতন চার হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে প্রতিজনকে মাসে তিন হাজার টাকা করে বেতন দেয়া হয়। বাকি দেড় হাজার টাকা স্থানীয় সোনালী ব্যাংক শাখায় নারীকর্মীদের নির্ধারিত সঞ্চয় হিসেবে জমা করা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু এলজিইডির কমিউনিটি অর্গানাইজার খয়বর আলী ওই টাকা সঞ্চয়ী হিসাবে জমা না করে মজুরি হিসাব নম্বরে জমা দিয়েছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। পরে সঞ্চয়ের প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। নারীকর্মীরা চাকরি শেষে তাদের পাওনা টাকা সোনালী ব্যাংক পাটগ্রাম শাখায় গেলে তারা এই গড়মিল দেখতে পান। বিষয়টি এলজিইডির প্রকৌশলীকে জানানো হলে হইচই পড়ে যায়।
নারীকর্মীদের বুড়িমারী দলনেতা শাহিনা আকতারসহ একাধিক নারীকর্মী অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ৮০ জন নারীকর্মীর সঞ্চয়ের দুই লাখ ৪০ হাজার এবং ২০১৭ সালের মে, জুন ও জুলাই মাসের তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে জমা না করে তাদের মজুরি হিসাব নম্বরে জমা দিয়ে প্রকল্পের কমিউনিটি অর্গানাইজার খয়বর আলী কৌশলে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।
এ ব্যাপারে পাটগ্রাম সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান বলেন, এলজিইডির ৮০ জন নারীকর্মীর নামে লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রতিটি মহিলা সদস্যের যৌথ স্বাক্ষরে বেতন হিসাব খোলা হয়েছে। তাদের টাকা জমার ক্ষেত্রে এলজিইডির প্রতিনিধি যেভাবে ব্যাংকে নোট দিয়েছেন সেভাবেই আমরা পাঁচ মাসের সঞ্চয়ের টাকা বেতনের হিসাব নম্বরে পোস্টিং দেই। ভুল হওয়ার কারণ নেই।
পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আবু তৈয়ব শামসুজ্জামান বলেছেন, ব্যাংকে ভুল পোস্টিং দেয়া হয়েছে। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।
নারীকর্মীদের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, রংপুর অঞ্চলে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কমিউনিটি অর্গানাইজার খয়বার আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তার অফিস থেকে বলা হয় তিনি অসুস্থ কথা বলতে পারবেন না।

 


আরো সংবাদ