বেটা ভার্সন

রেলওয়ের ছাতক অঞ্চলে দুর্নীতি সম্পদ আত্মসাৎ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

ছাতক রেলওয়ের রোপওয়ে বাংকার এলাকা :নয়া দিগন্ত -

বাংলাদেশ রেলওয়ের ছাতক অঞ্চলে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জোন ছাতকের অধীনে রয়েছে রেলওয়ের ছাতক-ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথ, পাথর কোয়ারী, কংক্রিট স্লিপার প্ল্যান্ট এবং রেলওয়ে স্টেশন, রেস্ট হাউজ, গুদাম, বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও তিন শতাধিক একর মূল্যবান ভূমি। এখানে বাংলাদেশ রেলওয়ের এসব সম্পদকে পুঁজি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যবসায়-বাণিজ্য ও আত্মসাতে জড়িয়ে পড়েছে। কিছু দিন পরপর গুদাম চুরি হয়ে গেছে বলে থানায় একটি জিডি করে লাখ লাখ টাকার মালামাল বিক্রি করে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিচ্ছে তারা।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, রেলওয়ে স্টেশন, রোপওয়ে ব্যাংকার ও সিএসপিতে রাখা রেলওয়ের কোটি টাকা মূল্যের স্ক্র্যাপমাল বিভিন্ন সময়ে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। শহরে রেলওয়ের নদীঘাটের ভূমি ভাড়া, মার্কেট ভাড়া ও গুদাম ভাড়া দিচ্ছেন কর্মকর্তারা। এতে প্রতি মাসে জমি, মার্কেট ও গুদাম ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এ ছাড়া মাছ চাষ ও ধান েেতর জন্য রেলওয়ের ভূমি ভাড়া ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকার অধিক মূল্যবান কিছু ভূমি ভাড়া দিয়ে টাকা আদায় করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রেলওয়ে ও সিএসপির বিদ্যুৎ সংযোগ বাসাবাড়িতে দিয়েও টাকা কামাই করছে অসাধু একটি চক্র। গত ছয় মাস ধরে রেলওয়ের পুরনো রেস্টহাউজসহ বিআর-৩ এ, বিআর ৩০ এ, বিআর ৬ এ, বিআর ৭ এ-বি, বিআর ৮ এ-বি, বিআর ৬ডি, সিএসপি ৪ এ-বিসহ মোট-১৭টি বাসা বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সিএসপির ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (কার্য) ফারুক হোসেন, বিআর ওয়ার্ক সুপারভাইজার শহিদুল ইসলাম, এ ই এন (সিএসপি) মুজিবুর রহমান ও সিএসপির গার্ড আবু বক্কর। প্রতি মাসে প্রায় লাখ টাকা বাসাভাড়া আদায় করে ভাগ-বাঁটোয়ারা করছেন তারা। এসব বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা, মদ-গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল সেবন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সিএসপির প্রধান সহকারী সুরঞ্জন পুরকায়স্থ বাসা বরাদ্দ নিয়ে ছয় মাস বাসা ভাড়া দেননি। স্টেনো টাইপিস্ট ফারহানা আলী বিআর ২৬-বি বাসায় থাকেন; কিন্তু বাসা ভাড়া দিচ্ছেন না। নিচ তলায় ইউসুফ আলীও বিনা ভাড়ায় অতিথি হিসেবে বসবাস করছেন। বিআর, বিকেএইচ গাড়ি লোড টেন্ডার না দিয়ে প্রায় দেড় লাখ ঘনফুট পাথর লোডের কার্যক্রম কর্মচারীর মাধ্যমে পরিচালনা করছেন ফারুক হোসেন ও মুজিবুর রহমান। সিএসপির নাইট গার্ড আবু বক্কর জানান, ছাতক রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান জাবীরসহ কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে জড়িত রয়েছেন। ক্রাসার মিল মেরামতের নামে আট লাখ টাকার বিল উত্তোলন, সিএসপির দেয়াল নির্মাণে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, কর্মচারীদের দিয়ে পিতলের মোল্ড নম্বর প্লেইট অর্ধেক করে ১২ লাখ টাকার বিল উত্তোলনসহ লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের সাথে জড়িত রয়েছেন ফারুক হোসেন, মুজিবুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, কর্মচারী প্রদিপ কুমার ও গার্ড আবু বক্করসহ ক’জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এসব বিষয়ে কাগজপত্রে টেন্ডার দেখানো হলেও বাস্তবে রেলওয়ের কর্মচারীদের দিয়ে তারা সব কাজ করিয়ে থাকেন।
সিএসপিতে পাথর ও সিমেন্ট সংগ্রহের নামে জালিয়াতি হচ্ছে বলেও রয়েছে একাধিক অভিযোগ। পাথর গ্রহণ না করেই বিল উত্তোলন ও কম মূল্যে ৫০ কেজির স্থলে ৪০ কেজি ওজনের সিমেন্টের বস্তা ক্রয় করে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন জানান, রেলওয়ে ও সিএসপির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি সম্পদ চুরি ও লুটপাটে জড়িত। এদের বিরুদ্ধে জরুরিভিত্তিতে তদন্তসাপেে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।
তবে সিএসপির ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (কার্য) ফারুক হোসেন টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, রেলওয়ে ও সিএসপির সব কার্যক্রম টেন্ডারের মাধ্যমে হয়ে থাকে। টেন্ডার ছাড়া রেলওয়ের কোনো কাজ হয়নি জানিয়ে এ ই এন মুজিবুর রহমান বলেন, এখানে কোনো দুর্নীতি নেই। রেলওয়ের বাসায় কোনো বহিরাগত লোকের বসবাসও নেই। সিএসপির ভারপ্রাপ্ত সুপারভাইজার শহিদুল ইসলাম জানান, রেলওয়ের ছয়-সাতটি বাসায় বহিরাগত লোক থাকেন। কে বা কারা এসব বাসার ভাড়া উত্তোলন করে তার জানা নেই। ছাতক রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান জাবীর এ ব্যাপারে জানান, রেলওয়েতে দুর্নীতি-আত্মসাৎ, বাসা ও জমি ভাড়ার বিষয়ে তাকে লিখিতভাবে অবহিত করলে তিনি এর ব্যবস্থা নেবেন।

 




আরো সংবাদ