২৩ মে ২০১৯

ক্রাইস্টচার্চ হামলাকারীর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নৃশংস হামলা চালিয়ে ৫০ জন মুসল্লিকে হত্যার দায়ে আটক ব্রেন্টন ট্যারান্টকে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের হাই কোর্ট। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে এ নির্দেশ দেয়া হয়। হাইকোর্টের এ নির্দেশের পর অভিযুক্ত ব্রেন্টন সতর্ক হয়ে ওঠে। অথচ এ নির্দেশের আগ পর্যন্ত তাকে বিরক্ত দেখাচ্ছিল।

বিচারক ক্যামেরন ম্যান্ডের বলেন, ২৮ বছর বয়সী ব্রেন্টন ট্যারান্ট বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ‘উপযুক্ত’, না কি মানসিকভাবে অসুস্থ- বিশেষজ্ঞরা এখন তা পরীক্ষা করে দেখবেন।

ক্রাইস্টচার্চে হামলায় গ্রেপ্তার এ শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদী আজ শুক্রবার অকল্যান্ডের প্যারেমোরেমো কারাগার থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে অংশ নেন।

নিউজিল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যোগ দেয়া অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্যামেরায় বিচারক ও তার আইনজীবীদের দেখার সুযোগ পান। কিন্তু ট্যারান্টের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম করা হয়েছে। ব্রেন্টনের ক্যামেরা বিচারকক্ষে উপস্থিত দর্শণার্থীদের দিকেই ঘোরানো ছিল। উল্লেখ্য আদালত কক্ষে হতাহতদের আত্মীয়-স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন।

শুনানির সময় ব্রেন্টন ট্যারান্টকে হাতকড়া পড়ানো ছিল। স্বল্পকালীন এ শুনানিতে ট্যারান্ট কোনো মন্তব্য করেনি। পুরো শুনানির সময় তাকে নির্লিপ্ত ও বিরক্ত বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু মানসিক পরীক্ষার নির্দেশের সময় সে সতর্ক হয়ে ওঠে বলে জানায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিচারক ক্যামেরন ম্যান্ডের ব্রেন্টনকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়ে ১৪ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ঘোষণা করেন। শ্বেতাঙ্গ এই উগ্র ডান-পন্থি হামলাকারীর বিরুদ্ধে ৫০ জনকে খুন এবং আরো ৩৯ জনকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণ হলে ব্রেন্টনকে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করতে হবে।

 

আরো পড়ুন : আবারো প্রশংসিত জেসিন্ডার মমত্ব-মাতৃত্ব
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:০৬

গত দুই মাসে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন বিশ্ব নেতৃত্বে নিজের জন্য পৃথক একটি স্থান তৈরি করেছেন। সম্প্রতি নতুন করে আবারো প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি জেসিন্ডা গিয়েছিলেন একটি সুপারমলে। সেখানে লাইনে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এমন সময় সামনে দাঁড়ানো এক নারী বিল দিতে গিয়ে দেখেন তিনি তার পার্স আনেন নি। এ সময় তিনি খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। কারণ তার সাথে থাকা দুই বাচ্চাও কান্না জুড়ে দিয়েছিল। সেই অবস্থায় জেসিন্ডা নিজেই ওই নারীর বিল মিটিয়ে দেন।

আজ বৃহস্পতিবার তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি এ বিষয়ে বলেন, আমি ওই নারীর সাহায্যে এগিয়ে গিয়েছি। কারণ ওই নারী একজন মা, আর আমিও তো একজন মা।

বিষয়টি অবশ্য আগেই সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। কারণ ওই নারীর এক বান্ধবী হেলেন বারনেস বিষয়টি আগেই সেখানে শেয়ার করেন। তিনি বলেন, সুপারমার্কেটে আমার বান্ধবী কেনাকাটা করার পর সে দেখতে পায় তার পার্স আনেনি। সে সময় তার দুই শিশু সন্তানও কাঁদছিল। তখন আরডার্ন এসে তার পক্ষ থেকে বিল পরিশোধ করেন।

হেলেনের এ ঘটনা সেখানে ভাইরাল হয়ে যায়। সবাই আরেকবার নতুন করে জেসিন্ডা আরডার্নের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে পড়ে।

আটত্রিশ বছর বয়সী আরডার্ন গত জুনে এক কন্যা সন্তানের মা হন। দায়িত্বরত অবস্থায় মা হওয়ার দিক দিয়ে জেসিন্ডা বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী। নেভে নামের ওই শিশুকে নিয়েই তিনি নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নিয়েছিলেন।

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ খুবই প্রশংসিত হয়। তিনি যেমন সাথে সাথেই মুসলমানদের পাশে এসে দাঁড়ান, তাদের ব্যথায় সহানুভূতিশীল হন, ঠিক তেমনি সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সাথে হামলায় ব্যবহৃত সব ধরনের অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

সব মিলিয়ে তার পদক্ষেপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয় পুরো বিশ্ব। এমনকি নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এমন একজন নেতা চাই।


আরো সংবাদ




agario agario - agario