১৫ অক্টোবর ২০১৯

এবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকেই হত্যার হুমকি?

নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন - ছবি: সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডে দু’টি মসজিদে হামলায় ৫০ জন নিহতের ঘটনার মাঝেই এবার হত্যার হুমকি পেলেন দেশটির খোদ প্রধানমন্ত্রী জেসিকা আরডার্ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে এ হুমকি দেয়া হয়। খবর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের।

খবরে প্রকাশ, বন্দুকের একটি ছবি দিয়ে ‘পবর্তীতে আপনি’ ক্যাপশন লেখা একটি টুইট প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো হয়।

পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড বলছে, তারা এটা বুঝতে পেরেছে যে, ওই টুইটার অ্যাকান্টটি হত্যার হুমকির দেয়ার ৪৮ ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

‘পরবর্তীতে আপনি’ ক্যাপশনসহ বন্দুকের একটি ছবি দিয়ে করা আরেকটি পোস্ট প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন ও নিউজিল্যান্ড পুলিশকে ট্যাগ করা হয়েছে।

বাতিল করে দেয়া ওই অ্যাকাউন্টটিতে ইসলামবিরোধী বিষয় ও শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্যবাদী বিভিন্ন ঘৃণাসূচক বক্তব্য ছিল।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা হেরাল্ডকে বলেছেন, টুইটারের ওই কমেন্ট সম্পর্কে পুলিশ অবগত এবং এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ৫০ জন নিহতের ঘটনার পর থেকে দেশটিতে পোস্টগুলোতে টুইটার নিজ থেকে নজরদারি বাড়িয়েছে।

এ বার্তাটি এসেছে দেশব্যাপী দুই মিনিট নীরবতা পালনের পর দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটে।

গত শুক্রবারের ওই হামলার ঘটনা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ফেসবুক এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, মাত্র ২০০ জন এ ভিডিওটি সরাসরি দেখতে পেয়েছেন।

এ ঘটনার পরদিন আরেক সামাজিক মাধ্যম টুইটার জানায়, তারা ওই ঘটনা বর্ণনা করা বা সংশ্লিষ্ট কনটেন্টগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন।

আরো পড়ুন :
আজ হিজাব পরেছে নিউজিল্যান্ডের মেয়েরা
নিউজিল্যান্ডের মুসলমান নারীদের প্রতি সমর্থন জানাতে আজ শুক্রবার সারা দেশজুড়ে নারীরা এক দিনের জন্য মাথা ঢেকে রাখছে। 'হেডস্কার্ফ ফর হারমনি'র আয়োজকরা বলছেন, কী ধরনের কাপড় মাথায় পরতে হবে, বা কিভাবে তা পরতে হবে, তা নিয়ে বিশেষ কোনো নিয়মকানুন থাকছে না। ক্রাইস্ট চার্চ মসজিদে হামলার ঠিক পরের শুক্রবার এমনভাবে দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শুধু এর মাধ্যমে কিউইরা নিউজিল্যান্ডের মুসলমান নারীদের প্রতি তাদের সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন বলে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড সংবাদপত্র খবর দিয়েছে।

কিন্তু এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে ইতোমধ্যেই হৈচৈ শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নারীদের প্রতি অবিচার করা হবে, এবং নারীরা যে পুরুষের অনুগত, সেই বার্তাও দেয়া হবে।

তবে অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম বিষয়ক একজন পণ্ডিত ড. যাইন আলী বলছেন, এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে তিনি ভীষণভাবে গর্বিত। নিউজিল্যান্ডের মুসলমান নারীরাও অনুষ্ঠানটি নিয়ে গর্বিত হতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত শুক্রবার একজন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী উগ্রপন্থী নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যা করে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড বলছে, 'হেডস্কার্ফ ফর হারমনি'র ধারণাটা প্রথম আসে অকল্যান্ডের একজন ডাক্তার থায়য়া আশমানের মাথায়।

ক্রাইস্টচার্চের হামলার পর এক দিন তিনি টিভির খবর দেখতে পান যে একজন মহিলা বলছেন, ঐ ঘটনার পর তিনি হিজাব পরে বাইরে বেরুতে ভয় পাচ্ছেন।

একথা শুনে তিনি মনে করলেন সারা দেশের মুসলমান নারীদের জন্য কিছু একটা করা দরকার। এরই পথ ধরে 'হেডস্কার্ফ ফর হারমনি'র শুরু।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানাচ্ছে, শুরুর দিকে ডা. আশমান বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে আলাপ বলেন। পরে তিনি ইসলামিক উইমেন কাউন্সিল অফ নিউজিল্যান্ড এবং মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অফ নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলেন।

দুটি প্রতিষ্ঠানই ডা. আশমানের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানায়। কিউইরা কিভাবে এই মাথা ঢেকে রাখবেন তা নিয়ে ডা. আশমান তাদের কাছ থেকে পরামর্শ চান।

তবে তিনি বলছেন, তিনি ঠিক হিজাব পরার কথা বলছেন না। তার বদলে নিউজিল্যান্ডের নারীরা যেকোনোভাবে কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে মুসলিমদের প্রতি সমর্থন জানালেই চলবে।

তবে শুক্রবারের এই অনুষ্ঠান নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই বিরোধিতা করছেন। অনেকে বলছেন এতে নারী অধিকারের অবমাননা হবে।

একজন পোস্ট করেছেন: ‘হ্যাঁ, নারীদের নির্যাতন করতেই হবে। ইরানে নারীরা মাথার চাদর খুলে ফেললে তাদের পিটিয়ে জেলে ঢোকানো হয়।’

‘নির্যাতন আর বৈষম্যের প্রতীক মাথায় বেঁধে আপনারা এক হত্যাযজ্ঞের স্মরণ অনুষ্ঠান করছেন, ‘অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘এটা ভুলে গেলে চলবে না।’

অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. যাইন আলী বলছেন, এর মধ্য দিয়ে মুসলিম নারীদের অবমাননা হবে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

‘কিন্তু এর মাধ্যমে অন্য নারীদের কি অপমান করা হচ্ছে? না, কারণ কাউকে জোর করে মাথায় কাপড় দেয়ানো হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের নারীরা যদি মাথায় স্কার্ফ পরেন, তার মানে এই নয় যে সৌদি আরব বা ইরানে যা ঘটছে তারা তার সাথে একমত। দুটি ভিন্ন বাস্তবতাকে আলাদা করে দেখার পরিপক্বতা থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum