১৫ নভেম্বর ২০১৮

অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম অভিবাসীদের নিষিদ্ধের প্রস্তাব, নিন্দার ঝড়

অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম অভিবাসীদের নিষিদ্ধের প্রস্তাব, নিন্দার ঝড় - সংগৃহীত

মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংসদে মুসলিম অভিবাসী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রস্তাব পেশ করেন স্বতন্ত্র সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিং। এনিয়ে দেশটিতে তুমুল নিন্দার ঝড় বইছে। প্রস্তাবে ইংরেজি না জানা অভিবাসীদেরও দেশটিতে প্রবেশ করতে না দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সিনেটর ফ্রেসারের এমন প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। অস্ট্রেলিয়া কখনোই বৈষম্যবাদকে সমর্থন করে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সংসদে হামলার ঘটনার পর ফ্রেসারের মন্তব্যই সবচে বড় বিবাদ সৃষ্টিকারী বক্তব্য বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রায় সব রাজনীতিবিদ।

এ প্রস্তাবের নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ও প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রধান বিল শর্টেনএ প্রস্তাবের নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ও প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রধান বিল শর্টেনঅভিবাসন আইন কঠোর করা সংক্রান্ত বক্তব্যে ফ্রেসার তাঁর এই মুসলিম অভিবাসী নিষিদ্ধের প্রস্তাব রাখেন। তিনি বলেন, ‘মুসলমানেরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধের জন্য দায়ী। অস্ট্রেলিয়ায় জঙ্গিবাদ রুখতে মুসলিম অভিবাসীদের নিষিদ্ধ করাই চূড়ান্ত সমাধান।’ আর তাঁর প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে একটি গণভোটের আয়োজন করারও আমন্ত্রণ জানান ফ্রেসার।

ফ্রেসারের এমন মন্তব্যে সংসদেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি উগ্র ডানপন্থী সিনেটর ওয়ান ন্যাশন দলের নেতা পোলিং হ্যানসনও ফ্রেসারের মন্তব্যের নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁর কথায় হতভম্ব হয়েছি, আমি বিশ্বাস করি ফ্রেসার তাঁর সীমা ছাড়িয়েছেন এবং এমনটা গ্রহণযোগ্য নয়।’ তবে সমস্যা সমাধানে ফ্রেসারের গণভোটের প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার সংসদে হ্যানসন মুসলিমবিদ্বেষী হিসেবে আগ থেকেই সমালোচিত।

প্রধানমন্ত্রী টার্নবুল মুসলিম অভিবাসীদের প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য ইসলামি সন্ত্রাসবাদ কোনো কারণ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ইসলামি সন্ত্রাসবাদের ভুক্তভোগী অধিকাংশই মুসলমান।

এদিকে ফ্রেসারের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সিনেটর অ্যানি এলি। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে অ্যানি বলেন, ‘বারবার ঘৃণার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দাঁড়াতে আমি ক্লান্ত।...আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ রেখে যেতে আমাদের এই বৈষম্যবাদ বন্ধ করতে হবে।’ অ্যানি এলি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংসদের প্রথম মুসলিম নারী সাংসদ।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রধান বিল শর্টেনও ফ্রেসারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন।

 আদমশুমারিতে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার তিন শতাংশেরও কম হচ্ছে মুসলমান।

হিজাব পরা ফৌজদারি অপরাধ যেসব দেশে

২৪ জুলাই ২০১৮

পৃথিবীর অনেক দেশেই হিজাব পরা ফৌজদারি অপরাধ।  নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, স্পেন, ফ্রান্স, চাদ ও ক্যামেরুনে হিজাব পরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। 

নেদারল্যান্ডে মুখ ঢেকে রাখা তথা নিকাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটিকে একটি ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আইন অনুযায়ী, যে কেউ বোরকা পরবে- যেটি তার পুরো মুখ এবং শরীর ঢেকে রাখে বা নিকাব যেটি জনসমাগম স্থানে শুধু মুখ ঢেকে রাখে সে ব্যক্তিকে ৪৫০ ইউরো বা ৪৭২ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হবে। 

সুইজারল্যান্ডে ১ জুলাই ২০১৬ স্কার্ফ-বোরকা-নেকাব পরিধানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আইন অনুযায়ী টিচিনো নামক ইটালিয়ান ভাষাভাষীর একটি স্থান যেটি দক্ষিণ সুইজল্যান্ডে অবস্থিত সেখানকার মুসলিম মহিলারা ৯,২০০ ইউরো জরিমানার সম্মুখীন হয়েছিলেন। অধিকাংশ সুইস নাগরিক সমগ্র দেশে জনসমাগম স্থানে মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দার উপর নিষেধাজ্ঞা চায়। 

২০১১ সালে বেলজিয়াম মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ আইন অনুযায়ী যে কেউ পর্দা বা এমন পোশাক যা জনসমাগম স্থানে মানুষের মুখ ঢেকে রাখে বা মুখ চিনতে কষ্ট হয় এমন পোশাক পরিধান করে সে ব্যক্তি ৭ দিনের কারাবাস অথবা ১,৩৭৮ ইউরো জরিমানার সম্মুখীন হবেন।

উত্তর-পূর্ব স্পেনের কাতালোনিয়া নামক স্থানের কিছু অংশে মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০১৩ সালে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট এ আইন উঠিয়ে দেয় এবং মতামত প্রদান করেন যে, ‘এটি ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সীমিত করবে’। তবে কিছু কিছু অঞ্চলে এখনো নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। 

ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এটা হয়েছিল ২০১১ সালে। এ আইন অনুসারে কোনো মহিলা যদি এ আইন ভঙ্গ করে তবে তাকে ১৫০ ইউরো জরিমানা করা হবে এবং যদি কেউ কোনো মহিলাকে তার মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করে তবে তাকে ৩০,০০০ ইউরো জরিমানা করা হবে। 

২০১৫ সালের জুন মাসে সেখানে পর পর দুইবার আত্মঘাতী বোমা হামলার দুদিন পরেই মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দা নিষিদ্ধ করে চাদ। উক্ত হামলার পরেই, দেশটির প্রধানমন্ত্রী কালজেউব ফাহিমি ডেউবেট বোরকা পুড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। বোরকা পরার দন্ড হিসেবে গ্রেফতার অথবা কারাবাসের আইন করা হয়। 

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ক্যামেরুনও মুখ ঢেকে রাখে এমন পর্দা পরিধান নিষিদ্ধ করেছে।


আরো সংবাদ