১৮ আগস্ট ২০১৯

ব্রুনাইয়ের শরীয়া আইনে জাতিসঙ্ঘের আপত্তি

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ ব্রুনাই গতকাল সমকামিতা ও ব্যাভিচারের ক্ষেত্রে শরীয়া আইন জারির ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এসব ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের পাথর মেরে হত্যা করা হবে। দেশটির এ পদক্ষেপে ওই দেশের কিছু নাগরিক এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসঙ্ঘ বলেছে, এর দ্বারা ব্রুনাইয়ের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে।

বেশ কিছুদিন বিলম্বিত হওয়ার পর গতকাল বুধবার এ আইন বলবৎ করার ঘোষণা আসে। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর সরকারি ওয়েবসাইটে এ আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিল।

নতুন ঘোষিত আইনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সমকামিতা, ব্যাভিচার ও ধর্ষণের ক্ষেত্রে পাথর ছুড়ে হত্যা, চুরির ক্ষেত্রে ডান হাত এবং বাম পা কেটে ফেলা ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে মদ্যপান বা দুই নারীর মধ্যে যৌন সম্পর্কের কারণে চাবুক, কারাগার ও জরিমানার মতো শাস্তির ঘোষণা।

এই অঞ্চলে ব্রুনাইয়ে সর্বপ্রথম জাতীয় পর্যায়ে শরীয়া আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু এলাকাতে শরীয়া আইন থাকলেও পুরো দেশে এত কঠোরভাবে শরীয়া আইনের প্রচলন নেই।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তেলসমৃদ্ধ এ দেশটির মোট জনসংখ্যা চার লাখ ৪০ হাজার। দেশটিতে কোনো নির্বাচনের ব্যবস্থা নেই। বরং ৭২ বয়সী সুলতান হাসান আল বলখিয়াহ দীর্ঘদিন ধরে দেশটি পরিচালনা করছেন। ১৯৮৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসা এই সুলতান বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মেয়াদের রাষ্ট্রপ্রধান।

গত ডিসেম্বরে নোটিশ দেয়ার পর থেকেই এ আইনের বিরুদ্ধে কেউ কেউ ক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। কিন্তু এসব উপেক্ষা করেই গত বুধবার আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়। সরকারি এই আইনটি ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের সমর্থন লাভ করেছে। তবে দেশের এলজিবিটি (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল ও ট্রান্সজেন্ডার) সম্প্রদায়ের অনেকে এখন ব্রুনেই ছাড়ার চিন্তাভাবনা করছেন। তাদের মতে, সমকামিতার কারণে এত কঠোর শাস্তি খুবই অমানবিক।

জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, সমকামিতা ও ব্যাভিচারের কারণে যে কঠোর শাস্তি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ব্রুনাই, তা দেশটির মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে। মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনার মিশেল বেচেলেট ব্রুনাইকে এ আইন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটি ব্রুনাইয়ের নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুতর বিপত্তি হিসেবে চিহ্নিত হবে।

 

আরো পড়ুন : ব্রুনাইতে সমকামিতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৯ মার্চ ২০১৯, ১২:০৮
ব্রুনাইয়ের শরিয়া আইনে সমকামিতার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড যুক্ত করা হয়েছে। এই মৃত্যুদণ্ড আবার হতে হবে পাথর ছুড়ে ও বেত্রাঘাতে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দেশটির এমন উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুলতানি শাসনতন্ত্রের দেশ ব্রুনাই ২০১৪ সালে শরিয়া পেনাল কোড চালু করে। প্রথম পর্যায়ে ব্যভিচার বা শুক্রবারের জুম্মার নামাজে অংশ না নেয়ার জন্য জরিমানা ও জেলের বিধান চালু করা হয়।

তবে শরিয়া পেনাল কোডের সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো ব্যভিচারী, সমকামী ও ধর্ষকদের বেত্রাঘাত ও পাথর ছুড়ে হত্যা, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার কারণে চালু করতে বিলম্ব করছে ব্রুনাই সরকার। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ৩ এপ্রিল নাগাদ এসব শাস্তি পুরোদমে চালুর পরিকল্পনা আছে তাদের।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার সংগঠন ‘দ্য ব্রুনাই প্রজেক্ট'এর কর্মী ম্যাথু উল্ফ বলেছেন যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো কোনো অঞ্চলে শরিয়া আইন চালু থাকলেও ব্রুনাইয়ের মতো এত কঠোর অবস্থানে কেউ নেই।

‘‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু পকেট আছে যেখানে শরিয়া আইনের প্রয়োগ রয়েছে। যেমন মালয়শিয়ার কয়েকটি রাজ্যে এ ব্যবস্থা আছে। তবে কোথাও ব্রুনাইয়ের মতো এত কঠোর নয়,'' বলেন উল্ফে।

ব্রুনাইয়ের এই আইন এলজিবিটি সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন এই মানবাধিকার কর্মী। ‘‘ব্রুনাইতে সমকামের শাস্তি ব্রিটিশ ঔপনেশিবেশিক আমল থেকে। সেখানে সমকামের শাস্তি ১০ বছরের জেল। তবে আমার জানা মতে, এই আইন কখনো প্রয়োগ করা হয়নি,'' বলেন উল্ফে। ‘‘তবে এই নতুন আইন এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।''

তিনি বলেন, হঠাৎ করে কেন ব্রুনাই সরকার এই আইন প্রয়োগের ব্যাপারে তৎপর হয়ে উঠেছে, তা পরিষ্কার নয়। ‘‘আমার মনে হয় না, ব্রুনাইয়ের জনগণ এই আইন চালুর ব্যাপারে কোনো চাপ দিয়েছে, এবং সরকারও এ ব্যাপারে জনগণের সঙ্গে আলোচনা করেনি। অবশ্যই সেখানে অনেক মানুষ এই আইন ও তার প্রয়োগ নিয়ে উৎকন্ঠায় আছেন। তাই কেন এই আইনের ব্যাপারে সরকার আগ্রহী হয়ে উঠল তা পরিষ্কার নয়।''


আরো সংবাদ

bedava internet