১৮ জুন ২০১৯
মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ

জাতিসঙ্ঘকে মিথ্যা বলেছে মিয়ানমার

রোহিঙ্গা মুসলিম নারীদের ধর্ষণের ব্যাপারে জাতিসঙ্ঘকে দেয়া মিয়ানমার সরকারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে মানবাধিকার সংস্থা দ্য হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)।


মিয়ানমার দাবি করেছিল, তাদের সেনাসদস্যরা রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তার কোনো প্রমাণ নেই।


এই সপ্তাহের শুরুর দিকে মিয়ানমার সরকার জাতিসঙ্ঘের কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করে। এতে উত্তর রাখাইন রাজ্যের নারী ও মেয়ে শিশুদের ওপর চালানো নির্যাতনের অভিযোগের ব্যাপারে তারা জানায়, সেখানে সেনাবাহিনী কর্তৃক তাদের ধর্ষণের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।


মানবাধিকার সংস্থাটি মিয়ানমারের এই বক্তব্যকে ‘একটি বেদনাদায়ক সত্যের হাস্যকার প্রত্যাখ্যান’ বলে উল্লেখ করেছে।
২০১৭ সালের শেষ দিকে জাতিসঙ্ঘের সিডও (নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ) কমিটি রাখাইনের নারী ও মেয়ে শিশুদের ব্যাপারে রিপোর্ট পেশ করার আহ্বান জানিয়েছিল। ওই রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়।


হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের বিবৃতির সাথে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, গণমাধ্যম ও জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন প্রমাণ যুক্ত করে বলেছে, রাখাইন রাজ্যে যে ভয়ঙ্কর মাত্রায় ধর্ষণ, হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এগুলো তা-ই প্রমাণ করবে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, শত শত রোহিঙ্গা নারী ও শিশু ধর্ষিত হয়েছে। আমরা তাদের অনেকের সাথে কথা বলেছি। তারা এখন অসহায়ভাবে জীবন যাপন করছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আশা তাদের সামান্যই। তারা যে সব ভয়ঙ্কর অত্যাচারের শিকার হয়েছে, তা বলতেও তারা শঙ্কা বোধ করছিল।


জাতিসঙ্ঘ এই জনগোষ্ঠীকে বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত সম্প্রদায় বলে উল্লেখ করেছে। ২০১২ সাল থেকেই তারা বিভিন্ন সময় তথাকথিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার হয়েছে।


অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত তথ্যানুসারে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়ে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। তবে বাংলাদেশ সরকারের হিসাব মতে এ দফায় কমপক্ষে ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্টে হঠাৎ করে তাদের প্রতি নিপীড়নের মাত্রা মাত্রাহীনভাবে বেড়ে গেলে এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।


অন্টারিও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (ওআইডিএ) প্রকাশিত ‘ফোর্সড মাইগ্রেশন অব রোহিঙ্গা : দ্য আনটোল্ড এক্সপেরিয়েন্স’ শিরোনামের রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সেই নির্যাতনে প্রায় ২৪ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়। ৩৪ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। তাদের নির্মম প্রহারের শিকার হয় আরো এক লাখ ১৪ হাজার মানুষ। সেনাবাহিনী ও পুলিশের দ্বারা ধর্ষিত হয় ১৮ হাজার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু। এক লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং আরো এক লাখ ১৩ হাজার বাড়িঘরে চালানো হয় ভয়াবহ তাণ্ডবলীলা।


জাতিসঙ্ঘও রোহিঙ্গা বিষয়ে যে সব তথ্য সংগ্রহ করেছে, তার মধ্যেও মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী কর্তৃক গণধর্ষণ, হত্যা, শিশুদের নৃশংসভাবে নির্যাতন, গুমের প্রমাণ রয়েছে।


এক রিপোর্টে জাতিসঙ্ঘের তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, মিয়ানমার যে ধরনের অত্যাচার চালিয়েছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।

সূত্র : আনাদোলু


আরো সংবাদ

আফগানদের পঞ্ম হারের ‘স্বাদ’ দিলো ইংলিশরা সাকিবকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় অস্ট্রেলিয়া আমরা সেমিফাইনাল খেলতে চাই : সাকিব ৮ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে মারা গেলেন মেধাবী ছাত্র রাজু মোবাইল চার্জ দিতে গিয়ে নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু রোহিঙ্গাদের রক্ষায় পদ্ধতিগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসঙ্ঘ : পর্যালোচনা প্রতিবেদন গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী জয়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন সাইফউদ্দিন-মোস্তাফিজে ভারতকে পিছনে ফেলল বাংলাদেশ ভোটার শূন্য কেন্দ্রে জালভোটের মহোৎসব ঘাপটি মেরে বসে থাকলেও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই : নাসিম ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন মরগান

সকল