২৪ জানুয়ারি ২০১৯

ফিলিস্তিনী আইন পরিষদ ভেঙ্গে দিতে চান মাহমুদ আব্বাস

মাহমুদ আব্বাস - ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস শনিবার সন্ধ্যায় বলেছেন, হামাসের-নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি আইন পরিষদ শিগগিরই ভেঙ্গে দেয়া হবে। তবে আব্বাসের এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে পারে ফাতাহ’র প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনী ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন-হামাস। ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে একটি সম্মেলনে ভাষণদানকালে আব্বাস ঘোষণা করেন যে আইন পরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হবে ‘এ আইনী পদ্ধতিতে বা বৈধভাবে’। তবে তিনি এ ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি। আব্বাসের ফাতাহ আন্দোলনের পরিবর্তে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হামাস আন্দোলন পরিষদের অধিকাংশ আসন পেয়েছিল।

২০০৭ সালে ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক ভাগাভাগির পর পরিষদের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। সে সময় থেকে ফিলিস্তিনে দু’টি প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনি সরকার চালু ছিল। কাউন্সিলে ১৩২টি আসনের মধ্যে ৭৬টি হামাসের, ফাতাহ’র ৪৩টি এবং বামপন্থী ও স্বতন্ত্রদের ১৩টি।

ফাতাহ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দালাল সালাম মে মাসে আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছিলেন যে, ফিলিস্তিনী আইন পরিষদের ক্ষমতা পিএনসির হাতে ন্যাস্ত করার ব্যাপারে আলোচনা চলছে।

ফিলিস্তিনি লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) সংযুক্ত ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিষদের (পিএনসি) কেন্দ্রীয় কমিটি হচেছ একটি স্থায়ী সংস্থা। এটি হচ্ছে ফিলিস্তিনী জনগণের সর্বোচ্চ আইন পরিষদ। এই কমিটিতে হামাস ও ইসলামিক জিহাদ বাদে অন্য সব ফিলিস্তিনী উপদল সংশ্লিষ্ট রয়েছে।

একাধিক বার হামাস ফিলিস্তিনি আইন পরিষদ ভেঙ্গে দেয়ার বিরোধিতা করে বলেছে, আইন পরিষদ ভেঙ্গে দেয়ার কোনো ক্ষমতা আব্বাসের নেই। ফিলিস্তিনের আইনে প্রতি চার বছর পর পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বল হয়েছে। কিন্তু গত পার্লামেন্ট নির্বাচন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১২ বছর আগে, ২০০৬ সালে।

২০০৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর এবং অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। সে সময় কয়েকদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর হামাস প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহ’র কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। সেই থেকেই হামাস অবরুদ্ধ গাজার নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

এই অক্টোবরে কায়রোতে ১০ বছরের বিরক্তিকর বিভাজন অবসানের লক্ষ্যে একটি ঐক্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে হামাস ও ফাতাহ। যদি এটি কার্যকর থাকে তাহলে ফাতাহ’র নেতৃত্বে রামাল্লা সরকার গাজার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পাবে।


আরো সংবাদ