১১ ডিসেম্বর ২০১৮

হাম্বানতোতায় চীনা সামরিক ঘাঁটি!

হাম্বানতোতায় চীনা সামরিক ঘাঁটি! - ছবি : সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার হাম্বানতোতা বন্দরে চীন সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে। কৌশলগত এই বন্দরটি চীন ৯৯ বছরের জন্য শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে ইজারা নিয়েছে। চীনের কাছ থেকে নেয়া ১.৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে ইজারা দিতে বাধ্য হয় শ্রীলঙ্কা।

বন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র রুটে অবস্থিত। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অধীনে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপজুড়ে যে অসংখ্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, হাম্বানতোতা বন্দর এর অন্যতম। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ এর মিত্ররা এই উদ্যোগে উদ্বিগ্ন।

গত সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, হাম্বানতোতা বন্দর অল্প সময়ের মধ্যেই চীনের ক্রমবর্ধমান গভীর মহাসাগরীয় নৌবাহিনীর জন্য অগ্রসর সামরিক ঘাঁটি পরিণত হবে।

কিন্তু শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিঙ্গের অফিস জানিয়েছে, হাম্বানতোতায় কোনো বিদেশী সামরিক উপস্থিতি থাকবে না। এতে আরো বলা হয়, বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে জানানো হয়েছে।

ব্রিটেনে অবস্থানরত বিক্রমাসিঙ্গের উদ্ধৃতি দিয়ে সোমবার তার অফিস থেকে জানানো হয়, বন্দরটির নিরাপত্তা গ্রহণের জন্য আমাদের নৌবাহিনীর সাউদার্ন কমান্ডকে হাম্বানতোতায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

বিক্রমাসিঙ্গে বলেন, শ্রীলঙ্কা একটি বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে। এতে হাম্বানতোতা বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা ভারতের হাতে তুলে দেয়া হবে। এই প্রকল্পটিও চীনা বিনিয়োগে করা হয়েছিল। তবে তা ব্যাপক লোকসানে রয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় ক্রমবর্ধমান চীনা আগ্রহে উদ্বেগ প্রকাশ করছে আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত।

গত আগস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে সে শ্রীলঙ্কার নৌশক্তি বাড়ানোর জন্য ৩৯ মিলিয়ন ডলার মঞ্জুরি দেবে।

একইসাথে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন।


যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ : সংরক্ষণবাদ প্রতিরোধে ভারতের প্রতি যৌথ লড়াইয়ের আহ্বান চীনের

চীন ও ভারতের উচিত সংরক্ষণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা। কারণ উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে এই দুই অর্থনীতির স্বার্থ রয়েছে স্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিবেশের এবং আরো ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার। নয়া দিল্লিতে চীনা দূতাবাস বুধবার এ মন্তব্য করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন ও ভারতের প্রয়োজন বাণিজ্য সংরক্ষণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা জোরদার করা। দুটি বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ ও প্রধান উদীয়মান বাজার হিসেবে চীন ও ভারত উভয়েই সংস্কার ব্যাপক করা ও অর্থনীতি উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এ কারণে উভয়েরই প্রয়োজন বৈশ্বিক পরিবেশের। ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‌‘সুষ্ঠু বাণিজ্যের’ নামে একতরফা বাণিজ্য সংরক্ষণ কেবল চীনেরই অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে না, সেইসাথে ভারতের বৈশ্বিক পরিবেশেরও প্রভাব ফেলবে। এটি ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশে বাধার সৃষ্টি করবে। দূতাবাসের মুখপাত্র জি রং এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেছেন।

বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, দুই দেশ একতরফাবাদ ও ভীতির শিকার হচ্ছে। ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক আন্তর্জাতিকব্যবস্থায় চীন ও ভারত উভয় দেশের স্বার্থ রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, চীনা প্রেসিডেনটট শি জিনপিং ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার বহুপক্ষীয় বাণিজ্যিকব্যবস্থা ও অবাধ বাণিজ্যের কথা বলেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বেইজিং ও নয়া দিল্লি সংরক্ষণবাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বার্তায় যোগ দিয়েছে।

বাণিজ্য নিয়ে মতানৈক্যের ফলে গত কয়েক মাসে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক বেশ তিক্ত হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে নতুন করে চীনা পণ্যের ওপর করারোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করার জন্য এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ভারতও মার্কিন অবরোধের মুখে রয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও ইরান থেকে তেল আমদানি নিয়ে জটিলতায় রয়েছে ভারত।

 


আরো সংবাদ