২৫ মে ২০১৯

মালয়েশিয়ায় কোনো মৃত্যুদণ্ড থাকবে না

মালয়েশিয়ার কোনো মৃত্যুদণ্ড থাকবে না - সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তে রাজি হয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। এর ফলে দেশটিতে ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা সাজাপ্রাপ্তদের দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার কমিউনিকেশন ও মাল্টিমিডিয়াবিষয়ক মন্ত্রী গোবিন্দ সিং দেও এ তথ্য জানিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ড বাতিল করতে দেশটির সরকারের নেয়া এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও বিদেশি কূটনীতিক। সোমবার দেশটির সংসদে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বাতিল করতে প্রস্তাবিত একটি বিল উত্থাপন করা হলে সরকারি দল এ নিয়ে আলোচনা করে।

মালয়েশিয়ার আইনমন্ত্রী লুই ভুই কিওং চ্যানেল নিউজ এশিয়াকে বলেন, সকল ধরনের মৃত্যুদণ্ড স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সব ধরনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিত করার আহ্বান জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী কিওং বলেন, ‘যেহেতু আমরা এ মৃত্যুদণ্ড বাতিল করতে যাচ্ছি; তাই উচিত হবে এই সময়ে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করা। আমরা ‘পারডর্ন বোর্ড’কে অপেক্ষারতদের তালিকা প্রকাশ এবং মুক্তি দেয়ার জন্য দোষী সাব্যস্তদের করা আবেদনগুলো বিবেচনা করার কথা বলবো।’

বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দেশটির যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়াবিষয়ক মন্ত্রী গোবিন্দ সিং দেও। তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি আশা করছি খুব দ্রুতই আইনটি সংশোধন করা হবে।’

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় হত্যা, অপহরণ, মাদক চোরাচালান এবং রাষ্ট্রদ্রোহীতাসহ এ ধরনের অপরাধের কারণে প্রত্যেক বছর দেশটিতে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে ফাঁসি দেয়া হয়।

আরো পড়ুন : জাকির নায়েকের প্রত্যার্পণে নারাজ মালয়েশিয়া, বেকায়দায় দিল্লি
নয়া দিগন্ত অনলাইন ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:৪১

প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক জাকির নায়েককে ভারতের কাছে প্রত্যাবর্তন করতে অস্বীকার করেছে কুয়ালামপুর। এর মাধ্যমে কুটনৈতিক মঞ্চে ভারতকে ফের বড়সড় ধাক্কা দিলো মালয়েশিয়া৷ এই ইসলামি চিন্তাবিদকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে আপাতত নারাজ মাহাথির মোহাম্মদের দেশটি৷ এবার আদালতের রায়েই হতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত৷ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে এমনটাই জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার এক মন্ত্রী৷

ভারতে বর্তমান সরকারের আমলে আর্থিক প্রতারণা ও সন্ত্রাসবাদে মদত দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে৷ তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে এনআইএ ও ইডি৷ ২০১৬ সালে ভারত ত্যাগ করেছিলেন জাকির নায়েক। তারপরই মালয়শিয়ায় আশ্রয় নেন তিনি৷ গত জানুয়ারি মাসে ওই ইসলামি চিন্তাবিদের প্রত্যার্পণ চেয়ে মালয়েশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায় ভারত সরকার৷

সম্প্রতি ভারত সফরে এসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলা সাগারান জানিয়েছিলেন, জাকির নায়েককে ফেরত পাঠানোর আবেদন করেন সুষমা স্বরাজ৷ তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি৷ তিনি আরো জানান, জাকিরের প্রত্যার্পণের বিষয়টি আদালতের পাঠাতে পারে সরকার৷ সেক্ষেত্রে আদালতের রায়ই শেষ কথা হবে৷ তবে ভারতে ফেরত যাওয়ার আদেশ দিলে, সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন জাকির নায়েক৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাকির নায়েককে ফেরত পাঠাতে মোটেও রাজি নয় মালেশিয়া৷ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া একটি চাল মাত্র৷ ওই দেশের নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে যথেষ্ট গভীর সম্পর্ক রয়েছে জাকির নায়েকের৷ আগেই সেদেশের প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মহম্মদ বলেছিলেন, যতদিন পর্যন্ত জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি না করছেন ততদিন তাকে ভারতে ফেরানোর কথা ভাবছে না সরকার। কারণ জাকির নায়েককে ইতিমধ্যেই স্থায়ী নাগরিকত্ব দিয়ে ফেলেছে মালয়েশিয়া।

যা বললেন জাকির নায়েক

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ইসলামি বক্তা ড. জাকির নায়েক বলেছেন,  ২৫ বছর ধরে আমি ‘ইসলাম ও শান্তি’ বিষয়ে বক্তৃতা করছি। কখনো সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করিনি।  সবসময় সম্প্রীতি ও ঐক্যকে উৎসাহ জুগিয়েছি।

এক বিবৃতিতে ড. জাকির বলেন, গেল কয়েক বছরে হাজার হাজার ‘নিউজ’, ইউটিউব ভিডিও এবং সোস্যাল মিডিয়ার পোস্টে আমার কথা ব্যবহার করা হয়েছে, যা আমি বলিনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একটি ইমেজে আমার ছবি ও বার্তাজুড়ে দিয়ে সেটি প্রচার করা হচ্ছে। যারা ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবে মনে করে না, তাদের কাছে এই ধর্ম বিশ্বাসকে দ্রুত ও নোংরাভাবে উপস্থাপন করার এটি সহজ উপায়।

তিনি বলেন, যারা এ ধরনের কিছু দেখতে পাবেন তাদের বলছি কোনো উপসংহারে পৌঁছানোর আগে এগুলো যাচাই করে নেবেন। কেননা মানবতাবিরোধী কোনো বক্তব্যে আমার নাম জুড়ে দেয়া যেকোনো কিছুই মিথ্যা। আমি বারবার বলেছি, একজন ভালো মুসলিম হতে গেলে তার আগে একজন ভালো মানুষ হতে হবে।

জাকির আরো বলেন, আমি যে হাজার হাজার লেকচার দিয়েছি সেগুলোর কোনো একটি নিয়ে কখনো অভিযোগ পাইনি। কিন্তু ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে এক দল ধর্মীয় উগ্রবাদীরা আমার চরিত্র হরণের চেষ্টা চালায়।

মালয়েশিয়ায় স্থায়ী নাগরিকত্ব পেয়েছেন জাকির নায়েক

দ্য হিন্দু
মালয়েশিযার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ বলেছেন, ‘যতদিন পর্যন্ত জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি না করছেন, তত দিন তাকে ভারতে ফেরানোর কথা ভাবছে না মালয়েশিয়া সরকার। কারণ নায়েককে ইতিমধ্যেই স্থায়ী নাগরিকত্ব দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।  জাকির এদেশে আসার পর কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি৷ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার পর তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না৷’

সম্প্রতি ভারতে ফিরছেন ড. জাকির নায়ক- এমন খবর দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় ড. জাকির নায়েক বলেছেন, এই মুহূর্তে আমি ভারতে ফিরছি না। ভারত এখন আমার জন্য নিরাপদ না। যদি কখনো মনে করি ভারত সরকার আমার সাথে সঠিক বিচার করছে তখনই আমি দেশে ফিরব। 

দুই বছর আগে বাংলাদেশে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন এই ধর্মপ্রচারক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তার বক্তব্য শুনে নাকি উৎসাহ পেয়েছে জঙ্গিরা। তবে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশে বন্ধ করে দেওয়া হয় পিস টিভির সম্প্রচার। ভারতেও ব্যাপক সমালোচনায় মুখে তিনি দেশ ছেড়ে আশ্রয় নেন মালেশিয়ায়।

২০১৬ সালে বাংলাদেশের ঢাকার গুলশানে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের কয়েকজন জাকির নায়েকের প্রচারে প্রভাবিত হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠলে তিনি ওই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘আমি শান্তির দূত, কখনো সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করিনি।’ তিনি সন্ত্রাসবাদকে নিন্দা করেন এবং 'ইসলামে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই' বলে মন্তব্য করেন। এ নিয়ে তিনি 'মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার' হচ্ছেন বলেও জাকির নায়েক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন। জাকির নায়েক সেই থেকেই বিদেশে আছেন এবং বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।

পিস টিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জাকির নায়েক তার বক্তব্য ও মতামত প্রচার করতেন। বিশেষ করে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক তার বক্তব্যগুলো ছিল অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ। তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে সারা বিশ্বের প্রচুর অমুসলিম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। 

সিঙ্গাপুরের রাজারত্মম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাডিজের বিশ্লেষক রাশাদ আলী বলেছেন, মালয়েশিয়া সরকার জাকির নায়েকের থাকার ব্যবস্থা করেছে, কারণ যৌক্তিকতার সঙ্গেই মালয়দের মধ্যে জনপ্রিয় চরিত্র হয়ে আছেন। এ অবস্থায় সরকার যদি তাকে দেশ থেকে বের করে দেয় তাহলে তা জনগণের দৃষ্টিতে ধর্মীয় বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

পাঁচ বছর আগেই মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে জাকির নায়েককে। এ সময়ের মধ্যে তিনি দেশের আইন বা শৃঙ্খলা ভাঙেননি। এ ছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে তার সম্পর্কে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে মালয়েশিয়াকে কিছু জানানো হয়নি। ফলে তাকে আটক বা গ্রেফতারের কোনো কারণ নেই। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার বিরোধী দল ইসলামিক পার্টিও জাকির নায়েককে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছে এবং কোনো বিদেশী সরকারের হাতে তাকে তুলে না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


আরো সংবাদ

Instagram Web Viewer
agario agario - agario
hd film izle pvc zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Canlı Radyo Dinle Yatırımlık arsa Tesettürspor Ankara evden eve nakliyat İstanbul ilaçlama İstanbul böcek ilaçlama paykasa