২১ নভেম্বর ২০১৮

পুলিশের আচরণে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ডাচ নারী

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ক্রিশ্চিনা ডাফানো নাম পরিবর্তন করে হয়েছেন নুরা। যার অর্থ আলোকিত নারী। - ছবি: ইন্টারনেট

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন পুলিশ সদস্যদের সহনশীল, মার্জিত ও সভ্য আচার-আচরণে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন ইউরোপীয় এক পর্যটক। ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী ওই নারী পর্যটক হলেন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক ক্রিশ্চিনা ডাফানো। আল-জাজিরা, ওয়ার্ল্ড নিউজ।

আমিরাতের পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ডাচ নারী ক্রিশ্চিনা ডাফানো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। শনিবার আবু ধাবি পুলিশের এক বিবৃতিতে তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের তথ্য জানানো হয়েছে, এবং এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে।

কালেমা পাঠের পর ডাফানো তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন নুরা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসলাম গ্রহণের পর শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ পরিদর্শনে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন ওই নারী। পরে তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

আমিরাত পুলিশের ডেপুটি পরিচালক কর্নেল আহমাদ আলমুরাউই বলেন, ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী, তাকে সহনশীল এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দীক্ষা দেয় আমিরাতের পর্যটন পুলিশ।

 

আরো পড়ুন: ইতালির সাবেক এমপি কন্যার ইসলাম গ্রহণ

হাফিংটন পোস্ট, ১০ ডিসেম্বর ২০১৬

ইতালির সাবেক এমপি ফ্রাংকো বারবাতোর মেয়ের ইসলাম গ্রহণ নিয়ে ইউরোপজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি এখন পূর্ণাঙ্গ ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিজাবি নারী। তিনি খ্রিষ্টধর্ম থেকে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন। ম্যানুয়েলা ফ্রাংকো বারবাতো নাম বদলে ওই তরুণীর নতুন নাম হয়েছে আয়েশা। গোটা ইউরোপে যখন ইসলাম আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে, তখন ইসলাম গ্রহণের হার কমেনি।

সম্প্রতি ইউরোপে মানুষের ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ বেড়েছে। বাড়ছে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যাও। ইতালির সরকারি সংস্থার হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্যান্য ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তারা। ইতালির এই চিত্র প্রমাণ করে ইউরোপে ক্রমবর্ধমান ধর্ম হিসেবে ইসলামের প্রসার ঘটছে। এরই অনন্য নজির ফ্রাংকো বারবাতোর মেয়ের ইসলাম গ্রহণ।

ম্যানুয়েলার এই ইসলাম গ্রহণের ঘটনা এখন শুধু ইতালিতেই নয়, গোটা ইউরোপেও এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। খ্রিষ্টান উগ্রপন্থীরা কঠোরভাবে সমালোচনা করছেন তার।

তবে আয়েশা ইসলাম গ্রহণ করতে পেরে খুবই আনন্দিত ও সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমার আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য আমি গর্বিত। এসব আল্লাহর নিয়ম, আমার অভিযোগ করার কী আছে?’ নিজের হিজাব পরিধান নিয়ে চার পাশে যত কথা। তার উত্তরে আয়েশা বলেন, ‘হিজাব আমার জীবনের অংশ, যা আল্লাহ আমার জন্য পছন্দ করে দিয়েছেন।’

ইসলাম গ্রহণের পর তিনি স্বামী ও সন্তান নিয়ে ভারতে চলে আসেন।

আরো পড়ুন: শার্লি হেবদোর পর ফ্রান্সে ইসলাম গ্রহণ দ্বিগুণ বেড়েছে

আসিফ হাসান, ০৮ জুলাই ২০১৫

কার্টুন পত্রিকা শার্লি হেবদোতে উগ্রপন্থীদের হামলার পর হামলাকারীদের নিন্দা করতে গিয়ে ফ্রান্স এবং ইউরোপজুড়ে ইসলামের সমালোচনার বন্যা বয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, নতুন কারো ইসলাম গ্রহণ করা তো দূরের কথা, মুসলমানরাই সেখান হয়তো টিকে থাকতে পারবে না। ভয়াবহ বিষোদগারে মুসলমানদের জীবন অতীষ্ঠ হয়ে যাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে উল্টা চিত্র। ওই ঘটনার পর ইসলাম গ্রহণের হার দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। ইমাম সাহেবরা জানাচ্ছেন, মসজিদে এসে ফরাসিরা কলেমা পড়ছেন।

গত সপ্তাহে এক নওমুসলিম আরটিএল রেডিওকে জানান, ‘ওই ঘটনাই আমাকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করেছে, সবার কাছে সত্যিকারের ইসলামের রূপরেখা তুলে ধরেছে।’

ওই রেডিও’র ভাষ্যানুযায়ী, প্যারিসের গ্রেট মসজিদ ইসলামে ধর্মান্তরের ৪০টি সনদ বিতরণ করেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২২টি। অর্থাৎ চলতি বছর ইসলাম গ্রহণের হার প্রায় ৫০ ভাগ বেড়ে গেছে।

স্ট্রাসবার্গ ও আবারভিলিয়ার্সেও ইসলাম গ্রহণের হার অনেক বেশি। এই দুটি নগরীতে ইসলাম গ্রহণ বেড়েছে ৩০ ভাগ। আর লিওঁ নগরীতে বেড়েছ ২০ ভাগ।

এসব শহরের মসজিদের ইমামরা বলছেন, নওমুসলিমদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারা বিস্মিত। আরো বড় কথা হলো, নওমুসলিমদের মধ্যে বৈচিত্র্যও দেখা যাচ্ছে। তাদের একজন চিকিৎসক, একজন স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল, একজন পুলিশ অফিসার। তারা সবাই গ্রেট মসজিদে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

শার্লি হেবদোতে হামলার কয়েক দিন পর ফরাসি পরিালক ইসাবেলে ম্যাটিতক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেছিলেন। তার এই ঘোষণা ছিল অপ্রত্যাশিত, বিস্ময়কর।

প্যারিসে শার্লি হেবদোতে উগ্রপন্থীদের হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছিল। মহানবিকে (সা.) নিয়ে কার্টুন প্রকাশ করার প্রেক্ষাপটে এই হামলা চালানো হয়।

এই হামলায় সমালোচনায় মুখর হয়েছিল মুসলিম দেশ আর সংগঠনগুলো। তারা বলেন, এ ধরনের হামলাকারীদের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা এ ধরনের কার্টুন না আঁকারও আহ্বান জানিয়েছেন।


আরো সংবাদ