১৯ এপ্রিল ২০১৯

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো জাপান, বিপাকে ৫৩ লাখ মানুষ

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো জাপান, বিপাকে ৫৩ লাখ মানুষ -

জেবি টাইফুনের পর রিখটার স্কেলে ৬.৭ মাত্রায় কেঁপে উঠল জাপান৷ এতে নিহত হয়েছেন ১৬ জন। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছে  আরো অন্তত ২৬ জন। আহত হয়েছেন শতাধিক।

ভূমিকম্পের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় সাপোরো শহরে৷ হোক্কাইডোর দ্বীপ শহর সাপোরো থেকে ৬৮ কিমি দূরে ভূমিকম্পের উৎসস্থল৷ ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে হোক্কাইডো দ্বীপের ৫৩ লাখ মানুষ। কম্পনের ফলে অসুমায় ভূমিধস হয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া অফিস জানায়, জাপানে জেবি টাইফুনে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন৷ একইদিনে টাইফুন, ভূমিকম্পের কারণে বৃহৎ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে জাপান৷ কারণ, টাইফুনের ফলে জাপানের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে৷ ঘরছাড়া হয়েছে বহু মানুষ৷

এদিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে হাইস্পিড ট্রেন ও সাব আরবান ট্রেন৷ ওসাকা-হিরোশিমা রুটের রেল সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ বন্ধ রাখা হয়েছে ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুল ও কলেজ৷

 ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। বাংলায় যার অর্থ হয় ‘আগুনের গোলা’। ‘রিং অব ফায়ার’ এমন একটি কাল্পনিক বেল্ট যা ঘোড়ার খুর আকৃতির মতো প্রধানত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে রেখেছে। রিং অব ফায়ারে যেসব অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলো পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভূমিকম্প প্রবণ। এই রিং অব ফায়ারই ৯০ শতাংশ ভূমিকম্পের কারণ।

কেন হয় ভূমিকম্প?
নিউ ইয়র্ক টাইমস, ২৭ এপ্রিল ২০১৫

দুই হাজার ৫০০ কোটিরও বেশি বছর আগে, পৃথিবীর একটি খণ্ড দ্বীপ ভারত যুক্ত হয় এশিয়ার সাথে। এই দুই ভূখণ্ডের এখনো সংঘর্ষ চলছে। এটি বছরে ১.৫ থেকে ২ ইঞ্চি গতিতে ধাক্কা দিচ্ছে। এই ধাক্কা হিমালয়ে পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ সৃষ্টি করেছে এবং তা-ই বিধ্বংসী ভূমিকম্পের কারণ।

বিশেষজ্ঞেরা কাঠমান্ডুর মানুষের এই বিপদের বিষয়ে কয়েক দশক ধরে সতর্ক করে আসছেন। শনিবার নেপালে মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি বাস্তবিকভাবেই অনিবার্য ছিল। স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি এই ঝাঁকুনিকে খারাপ পর্যায়ে নিয়ে গেছে এবং ভবনগুলোর দুর্বল নির্মাণ ভিত্তি এই ঝাঁকুনিকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম ছিল না।

ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্কের অলাভজনক সংস্থা জিও হ্যাজার্ডস ইন্টারন্যাশনাল গরিবদের সাহায্য করার ও নেপালের মতো অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে থাকে। সংস্থাটি পূর্বে সতর্ক করে বলেছিল যে, নেপালের মতো এই এলাকাগুলোতে প্রতি ৭৫ বছরে বড় আকারে ভূমিকম্প আঘাত হানবে।

৮১ বছর আগে ১৯৩৪ সালে মাউন্ট এভারেস্টের ছয় মাইল দক্ষিণে পূর্বাঞ্চলীয় নেপালে ৮ দশমিক ১ মাত্রার বিশাল ভূমিকম্পে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায়। ১৯৮৮ সালে এটা অপেক্ষা ছোট ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায়। জিও হ্যাজার্ডসের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ব্রেইন টাকার বলেন, ১৯৯০-এর দশকে তার সংস্থা ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিল যে, যদি ১৯৩৪ সালের মতো ভূমিকম্প আবার হয় তাহলে ৪০ হাজার মানুষ মারা যাবে। কারণ মানুষ শহরমুখী হয়েছে, যেখানে সুউচ্চ ও দুর্বলভাবে নির্মিত ভবনগুলো ধসে পড়তে পারে।

এই মাসেই এক লেখায় জিও হ্যাজার্ড লিখেছে, ‘কাঠমান্ডুতে বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এটি বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর। এই উপত্যকায় বসবাসকারী ১৫ লাখ মানুষ ক্রমবর্ধমান ও মারাত্মক ভূমিকম্প ঝুঁকির সম্মুখীন। দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার জন্য সংস্থাটি বিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোকে আরো টেকসই করার জন্য সাহায্য করে। শনিবারের ভূমিকম্প কাঠমান্ডুর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় নয় মাইল তথা তুলনামূলক কম গভীরতায় সংঘটিত হয়। যেটা ভূখণ্ডে বৃহত্তর ঝাঁকুনির কারণ। কিন্তু ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এই ভূমিকম্প ১৯৩৪ সালের ভূমিকম্প থেকে দুর্বল ছিল।

কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক রজার বিলহাম এই অঞ্চলের ভূমিকম্পের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, ভূমিকম্পটি এক থেকে দুই মিনিট স্থায়ী ছিল এবং এখানে ১০ ফুট ফাটল দেখা দিয়েছে, যা কাঠমান্ডুর নিচ দিয়ে ৭৫ মাইল চলে গেছে। ড. বিলহাম বলেন, ভূমিকম্পটি পুরো শহরকে দক্ষিণ দিকে ১০ ফুট সরিয়ে দিয়েছে।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al