১৫ নভেম্বর ২০১৮

মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের ৭ বছরের কারাদণ্ড

কিয়াও সোয়ে ও (বামে) ওয়া লোন ( ডানে) পুলিশের হাতে আটক। - ছবি: বিবিসি

রয়টার্সের দুই সাংবাদিকেকে রাষ্ট্রের গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে মিয়ানমারের এক আদালত। এই অপরাধে তাদের ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বিবিসি, রয়টার্স।

অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক তাদের নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করেছেন। অন্যদিকে এই মামলাটিকে মিয়ানমারে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরীক্ষা হিসাবে ব্যাপকভাবে দেখা হয়।

রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন অ্যাডলার বলেন, আজ মিয়ানমারের জন্য দুঃখজনক দিন, রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কিয়াউ সয়ে ঊ যে কোনও জায়গায় স্বাধীনতার কথা বলছেন।

২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) এবং কিয়াও সোয়ে ও (২৮)-কে আটক করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তারা রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক চালানো নিধনযজ্ঞ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। ব্রিটিশ শাসনামলের ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ নামের ঔপনিবেশিক আইনে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

শুনানিতে এই দুই সাংবাদিক বলেছেন, ‘তারা আমাদের গ্রেফতার করেছে কারণ আমরা তাদের হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমরা সত্য প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি।’

আরো পড়ুন: মিয়ানমারে আটক রয়টার্সের ২ সাংবাদিকের জামিন নামঞ্জুর

নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

মিয়ানমারের একটি আদালত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিক কাইওয়া সোয়ে ও এবং ওয়া লোনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছে।

এদের সর্ব্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। খবর এএফপি’র।

বিচারক ইয়ে লোইন আদালতে বলেন, ‘এ দু’জনকে আইন অনুযায়ী জামিন মঞ্জুর করা যায় না। আর আদালত তাদের জামিন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

মিয়ানমারের নাগরিক সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সোয়ে ও (২৮) রাখাইনের সঙ্কট নিয়ে কাজ করছিলেন। ২৫ শে আগস্ট রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর দমন-পীড়ন শুরুর পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। এই রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে কাজ করছিলেন আটক দুই সাংবাদিক। কিন্তু ১২ই ডিসেম্বর তাদেরকে আটক করে পুলিশ। তাদেরকে ওই দিন নৈশভোজে ডেকে নেয় পুলিশ। এরপর তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।


আরো পড়ুন: রোহিঙ্গাদের নির্মূল করতে চায় মিয়ানমার : জাতিসঙ্ঘ

নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৪ নভেম্বর ২০১৬

মিয়ানমার তাদের ভূখণ্ড থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসঙ্ঘের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান ম্যাককিসিক বলেন, রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী নির্মমভাবে রোহিঙ্গা গণহত্যা চালাচ্ছে, যার ফলে তারা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

গত ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার তিনটি পুলিশ ফাঁড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলা জেরে ওই অঞ্চলে ব্যাপক সেনা অভিযান শুরু করেছে মিয়ানমার। উগ্রবাদী দমনের নামে সেনাবাহিনী সেখানে নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কয়েকশো রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। এক দিনেই ৩৪ রোহিঙ্গাকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া ধর্ষণ, লুটপাট ও শিশুদের আগুনে নিক্ষেপের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। মংডু শহর ও আশপাশের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার ৪০ হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে সেনারা। হেলিকপ্টার গানশিপ থেকেও গুলি চালানো হয়েছে রোঙ্গিাদের বাড়িঘরে।

 


আরো সংবাদ