১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে আবারো বিমান দুর্ঘটনা

ইয়েটি এয়ারলাইন্সের বিমান । - ছবি: সংগৃহীত

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়েছে একটি বিমান। দেশটির বেসরকারি বিমান সংস্থা ইয়েটি এয়ার লাইন্সের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী এ বিমানের দুর্ঘটনায় বড় ধরনের কোন হতাহত হয়নি। যাত্রী ও ক্রু সবাই নিরাপদে ছিলেন। খবর কাঠমুন্ডু পোস্টের।

নেপালগুঞ্জ থেকে ২১ আরোহী নিয়ে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল ফ্লাইট ৯এনএএইচডব্লিউ। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ত্রিভুবনে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে বিমানটি ছিটকে পড়ে।

এ ঘটনার পর বিমানবন্দরে আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সকল বিমান উঠা-নামা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় বারো ঘণ্টা পর বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে, গত ১২ মার্চ ত্রিভুবনের এই বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমানসংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-২১১ বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫১ আরোহীর প্রাণহানি ঘটে।

বিশ্বের ঝুঁকিপর্ণ বিমানবন্দরের শীর্ষে থাকা নেপালের এই বিমানবন্দরে প্রায় শ'ই বিমান দুর্ঘটনা ঘটে।


আরো পড়ুন: ’ইউএস-বাংলার পাইলট ককপিটে অনবরত ধূমপান করছিলেন : কাঠমান্ডু পোস্ট


নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ আগস্ট ২০১৮

নেপালে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত মার্চ মাসে দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের (বিএস২১১ ফাইট) পাইলট আবিদ সুলতান ককপিটে অনবরত ধূমপান করছিলেন। বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে নেপাল সরকারের একটি তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার দাবি করে এমন সংবাদ জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট।

ওই দুর্ঘটনায় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের দক্ষ পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানও নিহত হয়েছিলেন। তবে নেপাল পোস্টের এমন প্রতিবেদনকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, এটি মনগড়া এবং ভিত্তিহীন।

নেপালের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক ঘণ্টার ওই ফাইটে আবিদ সুলতান ক্রমাগত ধূমপান করেছিলেন। তবে তিনি তার ধূমপানের অভ্যাস থাকার কথা বিমান সংস্থাকে জানাননি। এ থেকে তদন্তকারীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, ককপিটে থাকার সময়ে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে ইউএস-বাংলায় যোগ দিয়েছিলেন আবিদ সুলতান। বাণিজ্যিক ফাইট চালানোর আগে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাইলট ছিলেন। সাড়ে ৫ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়নের রেকর্ড ছিল তার।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাইলটের মানসিক চাপে থাকার ইতিহাস রয়েছে। মানসিক মূল্যায়নের পর ১৯৯৩ সালে তাকে বিমানবাহিনীর সক্রিয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তবে ২০০২ সালের ৯ জানুয়ারিতে তার মানসিক পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের পর তাকে ফাইট চালানোর উপযোগী বলে ঘোষণা করা হয়।

পাইলট সুলতানের মেডিক্যাল রিপোর্টের কথা তুলে ধরে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের ধূমপানের অভ্যাস নিয়ে তিনি অসত্য তথ্য দিয়েছেন। ২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত নিজের দেয়া ঘোষণার মধ্যে তিনি বলেছেন, কখনোই ধূমপান করেননি। ২০১৫ সালে তিনি লিখেছেন, ধূমপান করতেন কিন্তু ২০১০ সালে ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর সর্বশেষ ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের মেডিক্যাল মূল্যায়নে তিনি লিখেছেন, কখনো ধূমপান করেননি তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে কাঠমান্ডু পোস্ট লিখেছে, বিমানটির পাইলট আবিদ সুলতান প্রচণ্ড ব্যক্তিগত মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। আর তার ধারাবাহিক কয়েকটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিএস২১১ ফাইটটি বিধ্বস্ত হয়। এতে আরো দাবি করা হয়েছে, সুলতানকে নিয়োগের সময়ে তার মেডিক্যাল ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখেনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

এদিকে নেপাল পোস্টে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান সম্পর্কে যেসব মনগড়া তথ্য দেয়া হয়েছে তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। গতকাল এয়ারলাইন্সটির জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী (আইকাও কর্তৃক প্রণোদিত) যেকোনো দুর্ঘটনা পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ ধরনের অসমর্থিত মতামত প্রকাশ কোনো গণমাধ্যমের কাছেই কাম্য নয়।

আইকাও এর এনেক্স ১৩-এর নিয়ম অনুসারে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং বিমান চলাচলবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এ দুর্ঘটনা বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। একটি দুর্ঘটনা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় এ ধরনের একটি প্রতিবেদন দুটি অভিপ্রায় ব্যক্ত করে।

এক অযাচিতভাবে এয়ারলাইন্স এবং ক্রুদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং দুই দুর্ঘটনায় প্রকৃত কারণকে আড়ার করার চেষ্টা করা। প্রতিবেদনে প্রকাশিত কোনো তথ্যর ভিত্তি নেই। কারণ এ দুর্ঘটনা সম্পর্কে গঠিত তদন্ত কমিটি এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা কোনো বক্তব্য প্রদান করেনি। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদনটি দুরভিসন্ধিমূলক। তাই বাংলাদেশের গণমাধ্যম, সম্মানিত যাত্রী ও শুভাকাক্সীদের এ ধরনের মনগড়া ও ভিত্তিহীন রিপোর্টে বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের (ড্যাশ-৮ কিউ ৮০০) উড়োজাহাজটি অবতরণের মুহূর্তে বিধ্বস্ত হয়। পাইলট, কেবিন ক্রুসহ ৭১ জন আরোহী ছিলেন। তার মধ্যে পাইলট কেবিন ক্রুসহ ২৭ জন বাংলাদেশী, ২৩ জন নেপালি ও একজন চীনা যাত্রী নিহত হন। আহত হন ৯ জন বাংলাদেশী, ১০ জন নেপালি ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক।

 


আরো সংবাদ

জবিতে সমাবর্তনের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কেরানীগঞ্জে পিতা-পুত্র হত্যা মামলার আবার রায় আজ দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুযোগ নেই : বাম গণতান্ত্রিক জোট খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য আইজি প্রিজনের মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন এলজিইডির টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ সংসদীয় কমিটিতে শিশু অধিকারবিষয়ক সংসদীয় ককাসের সাথে এএসডির মতবিনিময় সুমুদ্রগামী জেলেদের উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আশ্বাস মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর নৌপ্রধানের যুক্তরাষ্ট্র গমন পতনের ভয়ে সরকার আতঙ্কিত : রিজভী সৈয়দ আশরাফ গুরুতর অসুস্থ : সংসদে ৯০ কার্যদিবসের ছুটি মঞ্জুর ১৩ অক্টোবর পদ্মা রেলসেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

সকল